নিউইয়র্কের বাঙ্গালীরা
মমিনুল ইসলাম মজুমদার : নিউইয়র্ক থেকে : ইন্টারন্যাশনাল সীরাত কনভেনশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ওলামায়ে কেরামগণ বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর সুন্নাত ও তাঁর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করা ছাড়া মুসলমানদের আর কিছু চিন্তার সুযোগ নেই। দ্বীন ও দুনিয়ার প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁকেই অনুসরণ করতে হবে। পবিত্র কুরআনুল কারীম ও হাদীস শরীফে এর সুষ্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।ওলামায়ে কেরাম বলেন, আমাদের সমাজে আশেকে রাসুল (সা:) নামে অনেকে শ্লোগান আর বেয়াদাতে লিপ্ত হন। মহানবীর (সা:) এর ভালবাসা পোষণ করা ও তাঁকে অনুসরণ-অনুকরণ করা কোন শ্লোগানের ব্যাপার নয়, এটি বাস্তব ও প্রয়োগিক বিষয়। তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর বিরুদ্ধে যারা কুটক্তি করে তারা মুসলমান হতে পারেনা । তারা কাফির-মুরতাদ। আল্লাহ ,তাঁর রাসুল (সা:)ও ইসলামের বিরুদ্ধে কোন কথা মুসলমান সহ্য করতে পারেনা। বরং রাসুল (সা:) এর অবমাননাকারীদের প্রতিবাদ করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। ![]()
গত ১৮ শনিবার ও ১৯ মে রোববার দুইদিন ব্যাপী জ্যামাইকা ৮৭-২৬, ১৭৫ ষ্টিটে ‘হাজী ক্যাম্প মসজিদ’ মিলনায়তনে আমেরিকান মুসলিম সেন্টার আয়োজিত সীরাত কনভেনশন ও এওর্য়াড অনুষ্ঠান ২০১৩ এ বক্তব্য দানকালে ওলামায়ে কেরাম এসব কথা বলেন। কনভেশনে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্থানসহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা ইসলামিক চিন্তাবিদ, মুলধারার প্রসাশনিক কর্মকতাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দুইদিন ব্যাপী বিশাল সীরাত কনভেনশনের স্বাগত বক্তব্য ও পরিচালনা করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুফতি আব্দুল মালেক।![]()
কনভেনশনের উদ্ধোধনী বক্তব্য ও আখেরী মুনাজাত করেন বাংলাদেশ থেকে আগত ছারছিনা পীর সাহেবের জামাতা মাওলানা নূর রহমান বেগ। পবিত্র কুরআন-হাসীস ও ইসলামের ইতিহাসের আলোকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর জীবন চরিত নিয়ে বিষয় ভিত্তিক আলোচনা করেন বাংলাদেশ থেকে আগত আর্ন্তজাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ক্বারী হাবীবুল্লাহ বেলালী, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের খতিব ও সীরাত কনভেনশন আয়োজকদের অন্যতম মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ, এ প্রজন্মের ইসলামিক স্কলার শাকিল হুমায়ন, ব্রুকলীন বায়তুশ শরফ মসজিদের ইমাম মাওলানা জাকারিয়া মাহমুদ, আবু হুরায়রা মসজিদের খতিব মাওলানা ফায়েক উদ্দিন, টেক্সাস থেকে আগত মুফতি মোজাম্মেল, অ্যারাবিয়ান ইসলামিক স্কলার সাইয়্যেদ আব্দুল হালিম, শিক্ষাবিদ আবু সামীহাহ সিরাজুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার হোসেন, ইফনার ড. শমসের আলী, নিউইর্য়ক সিটি কম্পোটলার জন সি ল্যু।![]()
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অন্যতম সংগঠক হাজী ক্যাম্প মসজিদের ইমাম হাফিজ রফিকুল ইসলাম। আলোচনার ফাকেঁ ফাঁকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের শানে হামদ এবং রাসুল (সা:) এর শানে নাত পেশ করেন হাজী ক্যাম্প মসজিদ পরিচালনা কমিটির সেত্রেুটারী ডা: আতাউল গণী ওসমানী ও আমজাদ কুরাইশী। সীরাত কনভেনশনে সমাজসেবায় অবদার রাখায় কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট লুৎফুর হক চৌধুরীকে আমেরিকান মুসলিম সেন্টার এর পক্ষ থেকে এওর্য়াড প্রদান করা হয়। এওর্য়াড তুলে দেন নিউইর্য়ক সিটি কম্পোটলার জন সি ল্যু। ![]()
মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ বলেন, আমরা কোন রাজনীতি দলের লেজুড় ভিত্তিক নয়। সীরাত কনভেনশনের মূল লক্ষ্য হলো মানুষদেরকে আল্লাহ ও তাঁর নবী-রাসুলদের (সা:) এর জিন্দেগীর উপর চলার দিক নিদের্শনা প্রদান করা। তিনি বলেন নবী-রাসুলদের ব্যাপারে কুটক্তিকারীদের ভৎর্সনা করে বরেন, রাসুল (সা:) এর বিরুদ্ধেকারীরা মুসলমান হতে পারে না । তারা কাফির মুরতাদ। তিনি নবী-রাসুলদের অবমাননাকারীদের হুশিয়ার উচ্চারণ করে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর বিরুদ্ধে কথা বললে কোন মুসলমান সহ্য করতে পারেনা। নাস্তিক আর মুরতাদরা রাসুল (সা:) এর বিরুদ্ধে কথা বলবে আমাদের জীবন থাকবে এতে কি লাভ হবে। তিনি বলেন, এ জীবন যতদিন থাকবে ততদিন আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কথাই বলে যাব। এতে নাস্তিক মুরতাদদের যতই গাত্রদাহ হোক না কেন। মাওলানা বেগ বলেন, রাসুল (সা:) এর অপমাননাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। এক্ষেত্রে তিনি নবী প্রেমিক সকল মুসলমানকে সচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। ![]()
ক্বারী মাওলানা হাবীবুল্লাহ বেলালী বলেন, দেশে সত্য কথা বলার পরিবেশ নেই। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কথা বললেই নির্যাতন নেমে আসে। তিনি বলেন, আমাদের সমাজে এমন অনেক মুসলমান আছেন যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অপমাননাকারীদের পক্ষ অবলম্বন করেন। আর হেদায়াতের দোয়া করেন। তিনি কনভেনশনে উপস্থিত সকলের নিকট প্রশ্ন রেখে বলেন এমন মুসলমানের কি প্রয়োজন । কা¡রী বেলালী বলেন, মুসলমান শুধু মিষ্টি খাওয়ার সুন্নাত পালন করলে হবেনা। আমাদের মনে রাখতে হবে রাসুল (সা:) দাঁত ভেঙ্গেছেন, রক্তাত্ত হয়েছেন। তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহর ও তাঁর রাসুলের ভালবাসা এত সহজ নয়। রাসুল (সা:)কে ভালবাসতে হবে জীবনের চেয়েও বেশী। তিনি আরো বলেন, আখেরী জামানা শুরু হয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে নিজের জীবনকে সঠিক ইসলামের উপর ঠিকেয়ে রাখতে হলে ঈমানকে মজবুত করতে হবে।![]()
অন্যান্য বক্তাগণ রাসুল (সা:) এর সীরাত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আজকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) বিরুদ্ধে কিছু নাস্তিক লাগামহীন মন্তব্য করে চরিত্র হননের চেষ্টা করছেন অথচ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)এর চরিত্র বিষয়ে পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজেই সার্টিফাই করেছেন, নিশ্চয় তিনি (নবী করিম সা:) সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। ওলামায়ে কেরাম বলেন কুরআন হাদীসের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ব্যক্তি জীবন থেকে আরম্ভ করে আর্ন্তজাতিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে নবী করিম হযরত মুহাম্মদ (সা:) ছিলেন একজন সফল মানুষ। তিনি ছিলেন মানবতার নবী। বক্তাগণ বলেন, আল্লাহ মহাগ্রন্থ আল কুরআন মহানবী (সা:) এর উপর অবর্তীণ করেছেন মানুষের হেদায়েতের জন্য। কুরআনের আলোকে সব ধরনের অনাচার, অত্যাচার, গোঁড়ামী, কুসংস্কার ও দাসত্বের চির অবসান ঘটিয়ে মুক্তির বার্তা নিয়ে সুন্দর পৃথিবী ও সমাজ গঠন করেছেন তিনি। ওলামায়ে কেরাম বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর সুন্নাত ও তাঁর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করা ছাড়া মুসলমানদের আর কিছু চিন্তার সুযোগ নেই। দ্বীন ও দুনিয়ার প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁকেই অনুসরণ করতে হবে। বর্তমান অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বড়ই প্রয়োজন তাঁহার মতো সফল মানুষের। তারা বলেন, আল্লাহ দুনিয়াতে নবী-রাসুল আসার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। নবীদের কাজ আঞ্জাম দিতে হবে উম্মতে মোহাম্মদীর। ওলামায়ে কেরাম বলেন, আজকের এ যুগে জাহিলিয়াতের চ্যালেঞ্জ মুকাবিলা করেতে হলে উম্মতে মোহাম্মদীকে রাসুল (সা:) এর আদর্শের অনুসরণ করতে হবে।![]()
সীরাত কনভেনশন শেষে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রতিকুল আবহাওয়া সত্তে¦ও বিপুল সংখ্যক পুরুষ-মহিলার সমাগম ঘটে। মহিলাদের পৃথক বসার স্থান ছিল। তবে কনভেনশনে এ প্রজন্মের তরুণদের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়। আয়োজকদের সুন্দর ব্যবস্থাপনায় ছিল প্রশংসনীয়। দুইদিনই দোয়া শেষে উপস্থিত সকলের জন্য রাতের খাবারের ব্যবস্থা ছিল।