Type in:

বিশেষ খবর

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হতে চান ৬০ লাখ বাংলাদেশী

( 0 Votes )

বিশেষ খবর


হ-বাংলা নিউজ : হলিউড থেকে :  সাম্প্রতিক বিশ্বমন্দা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা খাতে দুর্বলতার পরও অভিবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের কাছে এখনো স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে অভিবাসী হতে চান বাংলাদেশের ৬০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিতে আগ্রহী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে শীর্ষ পাঁচে। বিশ্বের ১৫৪টি দেশের ওপর জরিপ চালিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ এ তথ্য জানিয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ ৭৫ বছর ধরে বিশ্বের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে জরিপ চালিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি কোনো রাজনৈতিক দল, মত বা পন্থার সমর্থক নয়। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘টপ ডিজাইয়ারড ডেস্টিনেশনস ফর পোটেনশিয়াল মাইগ্র্যান্টস ওয়ার্ল্ডওয়াইড ২০১২-১৩’ শীর্ষক গবেষণাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে গ্যালাপ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরাসরি কিংবা বিভিন্ন মাধ্যম, বিশেষ করে ইন্টারনেট কিংবা টেলিফোনে সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করেছে। বাংলাদেশে ২০১০-১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পাঁচ হাজার মানুষের সরাসরি সাক্ষাত্কার নেয় সংস্থাটি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা, ঝামেলাহীন জীবনযাপন, পরিবারের সদস্যদের নিশ্চিত ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রকে অভিবাসনের জন্য উপযুক্ত মনে করছেন বাংলাদেশীরা। তাছাড়া দেশে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অস্থিরতা, চাকরির ঝুঁকি, সার্বিকভাবে বসবাসের অনুপযোগী পরিবেশ নাগরিকদের অভিবাসন নিতে উত্সাহিত করছে।

জানা গেছে, কয়েক বছর লটারি প্রথা বন্ধের কারণে দেশটিতে অভিবাসনের সুযোগ কমে গেছে। এর পরও যারা যাচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই বিয়ে কিংবা আত্মীয়তার মাধ্যমকেই কাজে লাগাচ্ছেন। উন্নত জীবন গড়ার স্বপ্নে বিভোর অধিকাংশ বাংলাদেশী পেশাজীবী অভিবাসনের পর সে দেশে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজ পান না। তাই চাকরির চেয়ে ব্যবসাকেই তারা প্রাধান্য দেন।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসিম আখতার হোসাইন  হ-বাংলা নিউজকে বলেন, বসবাসের উপযোগী দেশ বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো সেরা। পেশাজীবীদের পাশাপাশি এখন ছাত্ররাও অধিক হারে দেশটিতে যাচ্ছেন। এখানে চাকরির অনিশ্চয়তাও রয়েছে। তাই শুধু ইচ্ছা পোষণই নয়, দেশটিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ পর্যবেক্ষণ করেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এদিকে অভিবাসী বাঙালিরা বিভিন্ন দেশে গিয়ে বৈষম্যের শিকারও হচ্ছেন। কানাডার অভিবাসী বাঙালিদের ওপর পরিচালিত বেঙ্গলি ইনফরমেশন অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস (বিআইইএস) শীর্ষক জরিপে দেখা গেছে, কানাডায় যাওয়ার পর দক্ষতার মাপকাঠিতে ৫৩ শতাংশই হয়ে পড়েছেন বেকার। এরা বাধ্য হয়ে সেবামূলক নানা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে বিভিন্ন বৈষম্য রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে দ্য রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী  হ-বাংলা নিউজকে বলেন, অভিবাসনের আগে অবশ্যই নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে কিনা, তা যাচাই করে নেয়া উচিত। ভাষাগত দক্ষতাও অর্জন করতে হবে। এজন্য ইংরেজি ছাড়াও বিকল্প ভাষা শেখার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বল্পমেয়াদে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে দেশে শক্তিশালী আইন থাকলেও অভিবাসনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় অভিবাসীরা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশের শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. জাফর আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসনের দুর্বলতাগুলো নিয়ে কাজ করা হয়নি। অভিবাসন বিষয়ে সরকার কাজ করছে। অভিবাসীদের সমস্যা ও করণীয় নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ কিছু পেশায় অভিবাসী বাংলাদেশীরা সুনাম ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। ছোট ছোট হোটেল বা ফাস্টফুডের দোকান, ট্যাক্সি চালানো, পেট্রল পাম্প পরিচালনায় বাংলাদেশীদের আধিপত্য রয়েছে। গ্যালপের তথ্যানুযায়ী, অভিবাসনে পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থানীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এর পরই রয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্স। আবার চীনের মানুষ সবচেয়ে বেশি অভিবাসী হতে চায়। দেশটির ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চায়। এছাড়া নাইজেরিয়ার ১ কোটি ৩০ লাখ, ভারতের ১ কোটি ও ব্রাজিলের ৬০ লাখ মানুষ অভিবাসী হতে চায় যুক্তরাষ্ট্রে।





বাংলাদেশ বনাম যুক্তরাষ্ট্র: এক শার্টে খরচ কত?

( 0 Votes )

বিশেষ খবর



বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা কোনদিনই পাননি এবং পাচ্ছেনও না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো বারবার এমন অভিযোগ করে আসলেও পোশাক কারখানার মালিকরা কখনোই এসব কানে তুলেননি, তুলতে চানও না। বরাবরই শ্রমিকদের ঘাম ঝরিয়ে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সঠিক কোনো পদক্ষেপ না নিলে কখনোই এ বৃত্ত ভাঙতে পারবেন না বিদেশি মুদ্রা অর্জনকারী শ্রমিকরা।বরং তাজরীন ফ্যাশনের মতো অগ্নিকাণ্ডে কিংবা সাভারের রানা প্লাজার মতো ভবন ধসে চাপা পড়ে মরতে হবে তাদের।

বাংলাদেশের শ্রমিকরা যে কতো বেশি অধিকার বঞ্চিত হন সেটা কেউ কখনো হিসেব করেনি। তবে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন’র একদল বিশেষজ্ঞ একটি জিন্স শার্ট তৈরির পেছনে খরচ কত হয় এবং শ্রমিকদের কত বেশি বঞ্চিত করা হয় তা গ্রাফিকসের ছবি আকারে উপস্থাপন করেছেন।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রাফিকসের ছবি আকারে উপস্থাপিত একটি জিন্স শার্ট প্রস্তুতের খরচ তুলে ধরে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি শার্ট তৈরিতে মোট খরচ হয় ১৩ দশমিক ২২ মার্কিন ডলার (১ হাজার ৩০ টাকার মতো), অন্যদিকে বাংলাদেশে একটি জিন্সের শার্ট প্রস্তুতে মোট খরচ হয় ৩ দশমিক ৭২ মার্কিন ডলার (২৯০ টাকা)।

খরচের বর্ণনা দিয়ে ছবিটিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে একটি জিন্সের শার্ট প্রস্তুতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল লন্ড্রি খরচ হয় দশমিক ৭৫ মার্কিন ডলার, অন্য দিকে বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল খরচ হয়  দশমিক ২০ মার্কিন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে একটি জিন্সের শার্ট তৈরিতে উপকরণ যোগাড়ে খরচ হয় ৫ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশে এ খাতে খরচ হয় ৩ দশমিক ৩০ মার্কিন ডলার।

আর একটি জিন্সের শার্ট তৈরিতে যারা সকাল-সন্ধ্যা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করেন সেই শ্রমিকদের পাওনা যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া হয় ৭ দশমিক ৪৭ মার্কিন ডলার (৫৮৩ টাকা), অন্য দিকে বাংলাদেশের ভাগ্যাহত শ্রমিকদের রক্তচুষে পুঁজিপতি শোষকরা দশমিক ২২ মার্কিন ডলার (১৭ টাকা) নামে মাত্র মজুরি দেন।

অর্থাৎ একটি এক হাজার টাকা দামের একটি শার্ট তৈরির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকদের যেখানে মজুরি দেওয়া হয় অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ৫৮৩ টাকা, সেখানে বাংলাদেশে প্রায় ৩০০ টাকা দামের একটি শার্ট তৈরিতে শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হয় মোট খরচের মাত্র ৫ শতাংশ!

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মৃত্যুকে সবসময় সঙ্গি করে এমন ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ করেও যারা ন্যূনতম মজুরি পান না, তারা যদি বাংলাদেশের পোশাক শিল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন তবে বিশ্ব বাজারে অসহায় হয়ে পড়বে বাংলাদেশ।


বাংলাদেশে জাল সার্টিফিকেট ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বেঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট পাওয়া যায় নীলক্ষেতে!

( 0 Votes )

বিশেষ খবর


হ-বাংলা নিউজ : ঢাকা থেকে : অস্ট্রেলিয়ায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন মো. জাহিদ হোসেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেছেন বলে সার্টিফিকেটে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ডবুকে তার নামটিই খুঁজে পায়নি কর্তৃপক্ষ। মো. সোহান ভুয়া সার্টিফিকেট ব্যবহার করে ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য আবেদন করেছেন। তিনি ২০০৫ সালে ঢাবির লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে অনার্স পাস করার কথা উল্লেখ করলেও তার নাম নেই রেকর্ডে। তবে তাদের প্রত্যেকের সার্টিফিকেট আছে। সে সার্টিফিকিট আসল নয়, নকল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এসব সার্টিফিকেটের বেশির ভাগই রাজধানীর নীলক্ষেতে প্রস্তুত। এছাড়া গুলিস্তান, বাংলাবাজার এলাকাতেও পাওয়া যায় সার্টিফিকেট। তবে রাজধানীর নীলক্ষেতে পাওয়া যায় সব ইউনিভার্সিটির সার্টিফিকেট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এমনকি বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটও পাওয়া যায় এখানে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মান অনুযায়ী সার্টিফিকেটের দাম নির্ভর করে।



এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী নীলক্ষেতে ভুয়া সার্টিফিকেট বাণিজ্য করছেন। কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থাকায় এ প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেটই তৈরি হয় বেশি। এসব সার্টিফিকেট ভুয়া হলেও অনেক সময় এসব সার্টিফিকেট ব্যবহার করে চাকরিও করছেন কেউ কেউ। ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়েই একজন শিক্ষার্থী স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেছেন নিউ ইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটিতে। এক কথায় বলতে গেলে নীলক্ষেত তৈরি হয়েছে ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরির কারখানায়। মাঝে মাঝে পুলিশ অভিযান চালালেও গোপনে চলে ব্যবসা। একজন সার্টিফিকেট ব্যবসায়ী জানান, আমাদের কাছে শিক্ষার্থীরা আসে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির সার্টিফিকেট তৈরির জন্য। কাজ নাহলে তো তারা আসতো না। তিনি বলেন, এখন মাঝে মধ্যেই পুলিশ অভিযান চালায়। তাই ব্যবসা করতে হয় অনেক গোপনে। সূত্র জানায়, সার্টিফিকেট ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নকল সনদপত্র পাওয়া যায় নীলক্ষেতে। এজন্য দিতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সার্টিফিকেট ব্যবহার করে রাব্বি নামের এক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি কোম্পানিতে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছিলেন। তিনি ঢাবির ফার্মেসি বিভাগ থেকে ১৯৮৫ সালে স্নাতক পাস করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে সার্টিফিকেটে। তার কাজ সন্তোষজনক না হওয়ায় সন্দেহ জাগে কর্তৃপক্ষের। কোম্পানিটি থেকে বিষয়টি তদন্ত করতে চিঠি লেখা হয় ঢাবি কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু কাগজপত্রে তার নাম পাওয়া যায়নি। তার সার্টিফিকেটি ভুয়া উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডয়ায় চিঠি লিখেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।


কবিরুল ইসলাম সূর্য ঢাবির পরিসংখ্যান, প্রাণ পরিসংখ্যান ও তথ্য পরিসংখ্যান বিভাগের সার্টিফিকেট ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন ভারতে। তিনি ১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় বিভাগ নিয়ে অনার্স পাস করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন সার্টিফিকেটে। কিন্তু তার সার্টিফিকেট ইস্যু করেনি ঢাবি কর্তৃপক্ষ। মো. মইনুল হক আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন দীর্ঘদিন ধরে। তিনি ১৯৮৩ সালে অনার্স ও ১৯৮৪ সালে মাস্টার্স পাস করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন নিয়োগপত্রে। তদন্ত করে দেখা যায় তার দু’টি সার্টিফিকেটই জাল। মো. ইয়াসিন করিম অস্ট্রেলিয়ার একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। প্রমাণ হিসেবে দেখান তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে ১৯৮৯ সালে এমএসসি পাস করেছেন। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে ঢাবি থেকে ওই শিক্ষার্থী পাস করেননি। তিনি যে সার্টিফিকেট ও রোল ব্যবহার করেছেন সবই ভুয়া প্রমাণিত হয়। মো. ফিরজুল আহসান ভুয়া বিএ ও এমএ ডিগ্রি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন নিবন্ধন অধিদপ্তরে। তিনি ১৯৮৫ সালে বিএ এবং ১৯৮৬ সালে এমএ পাস করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ওই নামের কোন শিক্ষার্থীর কাগজপত্র পাওয়া যায়নি ঢাবিতে। ইসরাইল হাওলাদার সিঙ্গাপুর চলে গেছেন ভুয়া সার্টিফিকেট ব্যবহার করে। তিনি দীর্ঘদিন সেখানে চাকরিও করেছেন। তার সার্টিফিকেটে লেখা হয়েছে তিনি ১৯৮২ সালে সায়েন্সেস গ্রুপ থেকে স্নাতক পাস করেছেন। কিন্তু তার সার্টিফিকেঁটিও ভুয়া প্রমাণিত হয়।


একেএম মহসীন সরকারি জগন্নাথ কলেজ থেকে ১৯৮৯ সালে ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে স্নাতক পাস করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তার কাগজপত্র ঢাবিতে পাঠালে ভুয়া প্রমাণিত হয়। হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্স থেকে স্বপন কুমার রায় নামের একজনের সার্টিফিকেট পাঠানো হয় ঢাবিতে। তিনি ১৯৮৭ সালে বিজ্ঞান শাখা থেকে পাস করেছেন বলে সার্টিফিকেটে উল্লেখ আছে। তার সার্টিফিকেটিও ভুয়া প্রমাণিত হয়। শহীদুল রহমান নামের একজন ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেছিলেন। তার সার্টিফিকেটে লেখা ছিল তিনি ১৯৮৭ সালে ঢাবির বিজ্ঞান শাখা থেকে স্নাতক পাস করেছেন। তবে ঢাবির নথিপত্রে ওই নামে সার্টিফিকেটই ইস্যু করা হয়নি।


কৌশলের দিক দিয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে আছেন মো. রেজাউল করিম খান। নিজের কোন সার্টিফিকেট নেই। অন্যের সার্টিফিকেট দিয়েই তিনি সিটি কলেজের পদার্থ বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন বেশ কয়েক বছর। অন্যের সার্টিফিকেট দিয়ে ৮ বছর ধরে সিটি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সমপ্রতি একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহালুল হক বলেন, একটি লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রকৃত রেজাউল করিম খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯৬ সালে অনার্স এবং ১৯৯৭ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর প্রকৃত রেজাউল করিমের সার্টিফিকেট ব্যবহার করে শিক্ষক বনে যান নকল রেজাউল করিম। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় সিটি কলেজ থেকে। ভুয়া সার্টিফিকেট ব্যবহার করে এক শিক্ষার্থী নিউ ইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করেছেন বলে প্রশাসনিক ভবন সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহালুল হক বলেন, ঢাবি থেকে পাস করা সব শিক্ষার্থীর তথ্য আমাদের কাছে আছে। তিনি বলেন, অনেক অভিযোগ তদন্ত করে দেখা যায় অনেকেই জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন।





কংগ্রেশনাল মেডেল অসামান্য উচ্চতায় আবারও বাংলাদেশ

( 0 Votes )

বিশেষ খবর


কাউসার মুমিন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে: যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের কংগ্রেশনাল  গোল্ড মেডেল গ্রহণ করলেন ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল মার্কিন সময় সকাল এগারোটায় কংগ্রেসের ক্যাপিটল ভবনের দোতলা  রোটান্ডায় প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেট নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে অপরিসীম সম্মান আর শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে ড. ইউনূসের অনন্যসাধারণ অবদানের  স্বীকৃতি স্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক  পুরস্কার ‘কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল’ আনুষ্ঠানিকভাবে ডক্টর ইউনূসের হাতে তুলে দেয়া হয়। মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের পক্ষে স্পিকার জন বোয়েহনার এই পুরস্কার তুলে দেন।

DrYunus___Congress___SaKiL

এ এক অনন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত, পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ভাষাভাষী বাঙালির জীবনে এমন গৌরবের মুহূর্ত এর আগে খুব কমই এসেছে। স্বাধীনতা-উত্তর  বাংলাদেশে ড. ইউনূসের নোবেল প্রাপ্তির পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গতকালের মতো এত বড় অর্জন আর কখনও আসেনি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশী আমেরিকানদের জীবনে এমন গৌরবের মুহূর্ত এই প্রথম। শান্তিতে ২০০৬ সালের নোবেল প্রাপ্তির পর ডক্টর ইউনূসের ২০০৯ সালে মার্কিন  প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম এওয়ার্ড  লাভ এবং গতকাল বিশ্বের একক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সর্বোচ্চ  বেসামরিক পুরস্কার ‘কংগ্রেশনাল  গোল্ড মেডেল’- এ  ভূষিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে আবারও অসামান্য এক উচ্চতায় স্থান করে নিলো।

১৭৭৬ সালের ২৫শে মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনকে দিয়ে শুরু হওয়া এই কংগ্রেশনাল গোল্ড  মেডেল প্রাপ্তদের মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. মুহম্মদ ইউনূস হলেন বিশ্বের সেই বিরলপ্রজ সাত জন ব্যক্তির একজন যারা একই সঙ্গে নোবেল পুরস্কার,  প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম এবং কংগ্রেশনাল গোল্ড  মেডেল- এই তিনটি অত্যন্ত সম্মানজনক পুরস্কারই লাভ করেছেন। এছাড়া ড. ইউনূস হচ্ছেন প্রথম কোন মুসলিম যিনি এ পুরস্কার লাভ করলেন। এই তথ্যটি গতকালের অনুষ্ঠানে  ঘোষণা হলে উপস্থিত কংগ্রেসম্যানরা অনেক সময় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূসের উদ্দেশে হাততালি দেন।

ক্যাপিটল ভবনের গম্বুজের নিচে অবস্থিত দোতলা রোটান্ডা নামে পরিচিত। রোটান্ডা হলো ভবনটির অন্য তলাগুলোর চেয়ে সর্বোচ্চ। কংগ্রেসের উভয় পরিষদের যৌথ অনুষ্ঠানাদি উদযাপনের জন্য ব্যবহৃত ৯৬ ফুট ব্যাসার্ধের ১৮০ ফুট উচ্চতার বৃত্তাকার এই সম্মেলন কক্ষটিকে ক্যাপিটলের ‘সিম্বলিক অ্যান্ড ফিজিক্যাল হার্ট’ বলা হয়ে থাকে। গতকাল সকাল ১১টা  বাজতেই কংগ্রেস সদস্যগণ একে একে জড়ো হতে শুরু করেন ক্যাপিটলের রোটান্ডায়। প্রথমে আমেরিকার জাতীয় সংগীত বাজিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বজুড়ে ক্ষুদ্রঋণের সাফল্য বিষয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও চাক্ষুস পরিলক্ষিত বিভিন্ন ঘটনা এবং নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় এ বিষয়ে কাজের সাফল্য বর্ণনা করে ড. ইউনূসের অবদানকে অকুণ্ঠচিত্তে স্বীকৃতি জানান কংগ্রেসম্যান ও সিনেটরগণ।

DrYunus___Congress___SaKiL_2

কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তৃতা করেন, হাউস স্পিকার জন বোয়েহনার, সিনেট  মেজরিটি লিডার হ্যারি রিড, সিনেট রিপাবলিকান লিডার মিচ ম্যাককনেল, হাউস  ডেমোক্রেটিক লিডার ন্যান্সি  পেলোসি, সিনেট এসিস্ট্যান্ট  মেজরিটি লিডার ডিক ডার্বিন, ইলিনয়েস সিনেটর রিচার্ড ডার্বিন, নিউজার্সি ১২তম ডিস্ট্রিক্ট -এর  কংগ্রেসম্যান রাশ হোল্ড,  ফ্লোরিডার ২৭তম ডিস্ট্রিক্ট কংগ্রেসম্যান ইলেনে লেথিনেন,  প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ব্যাংকার,  রেভ্যুলুশনারি এবং ভিশনারি এই তিনটি শব্দ একসঙ্গে শুধু ড. ইউনূসের জন্যই মানায়।

ইলিনয়েস সিনেটর রিচার্ড ডার্বিন এর বক্তৃতার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত অপেরা শিল্পী ড. ইউনূসের কন্যা মনিকা ইউনূস অনুষ্ঠানে পিতা ইউনূসের জন্য উৎসর্গ করে সংগীত পরিবেশন করেন।

স্পিকার জন বোয়েনার বলেন, যুগ যুগ ধরে সৃষ্টিশীল আইডিয়ার উপর আমেরিকা গড়ে উঠেছে। ড. ইউনূস তার ক্ষুদ্র ঋণ আইডিয়ার মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচনে পৃথিবীতে যে  বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন, তার ধরন অতিমাত্রায় আমেরিকান। আমি তাই ড. ইউনূসকে কংগ্রেশনাল গোল্ড  মেডেল প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কংগ্রেসে আমার সহকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ড. ইউনূসের এই আইডিয়া আগামীতে বিশ্বজুড়ে আরও বেশি সমপ্রসারিত হবে বলে বিশ্বাস করি।

পুরস্কার গ্রহণ করে প্রদত্ত বক্তৃতায় ড. ইউনূস বলেন, আমেরিকার রাজনৈতিক নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত আমার বন্ধু কংগ্রেস সদস্যরা আমার সম্পর্কে এতক্ষণ ধরে যা বলেছেন, তা শুনে আমি চোখে পানি ধরে রাখতে পারছি না। আমার  কান্না পাচ্ছে। তবে আমাদের সকলেরই একটি মহান উদ্দেশ্য হলো মানবতার মুক্তি। এ রিপোর্ট লেখার সময় ড. ইউনূস কংগ্রেস সদস্যবৃন্দের উদ্দেশে বক্তৃতা করছিলেন। এর আগে ২০০৯ সালে ড. ইউনূস প্রেসিডেন্সিয়াল  মেডেল অফ ফ্রিডমে ভূষিত হন। কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল এবং   প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম- এর সম্মান ও মর্যাদা প্রায় একই মাত্রার হলেও প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড বাছাইয়ের কাজটি করেন প্রেসিডেন্ট নিজে ব্যক্তিগতভাবে কিন্তু কংগ্রেশনাল গোল্ড  মেডেলের বিষয়টি কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে আইন পাসের মধ্য দিয়ে অনুমোদিত হয়, যাতে আমেরিকার  জাতীয় সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটে থাকে।

কংগ্রেশনাল  গোল্ড মেডেল বিল কংগ্রেসে উত্থাপনের জন্য ২৯০ জন কংগ্রেসম্যান এবং ৬৭ জন সিনেটর বিলটি কো-স্পন্সর করতে হয়। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ, বিশ্বশান্তি ও সংস্কৃতি কিংবা অন্য  কোন সরকারি, বেসরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনন্যসাধারণ  মেধার পরিচয়  রাখলে তার স্বীকৃতি স্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক এই পুরস্কার ‘কংগ্রেশনাল গোল্ড  মেডেল প্রদান করা হয়। এর আগে  নেলসন ম্যান্ডেলা, মাদার তেরেসাঁ, টনি ব্লেয়ার, জ্যাকি রবিনসন, অং সান সুচি’র মতো বিশ্বনেতৃবৃন্দ এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০১২ সালে ‘হলোকাস্টের সময়  ইহুদিদের প্রাণ বাঁচানোর বীরোচিত ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ সুইডিশ নাগরিক রাউল উয়ালেনবার্গকে মরণোত্তর কংগ্রেশনাল  গোল্ড মেডেল প্রদানে মার্কিন কংগ্রেস আইন পাস করেছে।

বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্যবিমোচনে ড. ইউনূসের অবদানের প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ তাকে  কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল প্রদানের বিলটি ২১শে এপ্রিল ২০০৯ তারিখে কংগ্রেসে উত্থাপিত হয়। ওই বছর ১৩ই অক্টোবর সিনেট তা পাস করে এবং পরদিন বিলটি হাউসের অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করে। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস ২৩শে  সেপ্টেম্বর ২০১০ বিলটি পাস করে এবং এরপর ২০১০ সালের ৫ই অক্টোবর  ১১১তম কংগ্রেসের পাবলিক ল-২৫৩ হিসেবে বিলটি কংগ্রেসের অনুমোদন  লাভ করে।  এ বছর ৫ই মার্চ হাউস স্পিকার ওহাইও রিপাবলিকান জন বোয়েনার, সিনেট মেজরিটি লিডার নেভাদা ডেমোক্রেট হ্যারি রিড, সিনেট রিপাবলিকান লিডার কেন্টাকি রিপাবলিকান মিচ ম্যাককনেল, হাউস ডেমোক্রেটিক লিডার ক্যালিফোর্নিয়া ডেমোক্রেট ন্যান্সি পেলোসি’র  মতো সিনিয়র কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ  ঘোষণা করেন যে ১৭ই এপ্রিল পুরস্কারটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে।


হারিয়ে যাচ্ছে চিঠি! শূন্য ডাকঘর !

( 0 Votes )

বিশেষ খবর



হারিয়ে গেছে যেনো প্রিয়জনকে লেখা চিঠির সেই যুগ

হ-বাংলা নিউজ : ঢাকা থেকে : ‘‘রানার ছুটেছে তাই ঝুম ঝুম ঘণ্টা বাজছে রাতে/রানার চলেছে, খবরের বোঝা হাতে,/রানার চলেছে রানার!’’
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার রানারের দেখা মেলে না প্রযুক্তির এ যুগে।
কবি মহাদেব সাহা’র ‘চিঠি দিও’ কবিতার মতো এখন কেউ তার প্রেমিকাকে বলে না ‘‘করুণা করে হলেও চিঠি দিও, খামে ভরে তুলে দিও/আঙ্গুলের মিহিন সেলাই/ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তাও,এটুকু সামান্য দাবি, চিঠি দিও, তোমার শাড়ির মতো/অক্ষরের পাড়-বোনা একখানি চিঠি।’’

runner-asche-হারিয়ে গেছে চিঠি! হারিয়ে গেছে প্রিয়জনকে লেখা কাগজে লেখার সেই যুগ। ডাক বিভাগেরও এখন সেই ব্যস্ততা নেই। সাইকেলের বেল বাজিয়ে ডাক পিয়নের ‘চিঠি এসেছে...চিঠি...’ এমন কথাও আর শোনা যায় না।

এখন আর সেই আগেকার দিনের মতো পিয়নের পানে চেয়ে থাকতে হয় না প্রিয়জনদের। চিঠি শূন্য এখন ডাকঘর। প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় এখন আর চিঠির প্রচলন নেই বললেই চলে।

‘চিঠি লিখলাম ও লিখলাম তোমাকে পরে জবাব দিয়োগো আমাকে।’ বাংলা সিনেমার এ গানের মতো কোনো প্রেমিকও প্রেমিকার চিঠির অপেক্ষায় থাকে না। অথচ এক সময় ডাকপিয়নের  চিঠিই ছিল যোগাযোগের একমাত্র উপায়। প্রযুক্তির ছোঁয়া আজ শহর ছেড়ে অজপাড়া গাঁয়েও পৌঁছে গেছে। তাই এসএমএস, মেইল আর ফেসবুকে চ্যাটই প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।

পরিবারের কেউ দেশের বাইরে কিংবা অন্য কোথাও অবস্থান করলে তার খোঁজ নেওয়া হতো চিঠির মাধ্যমে । তাকে বাড়ির খোঁজ দেওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল এই চিঠি লিখন পদ্ধতি। তখন মোবাইলের মতো দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যম ছিল না বলে সবার কাছে জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল চিঠি।

তাছাড়া প্রেমিক-প্রেমিকা, ভাই-বোন ও বোনকে-ভাই, মা-ছেলেকে, বাবা-ছেলেকে, ছেলে-বাবা মাকে নিজের অবস্থান জানাতে চিঠি লিখতেন। এখন বিদেশে যোগাযোগ করলে স্কাইপি কিংবা ফেসবুক ভিডিও চ্যাটের মাধ্যমে সরাসরি দেখা হচ্ছে।

প্রযুক্তি যোগাযোগ আরও সহজ করলেও চিঠিতে এক ধরনের আবেগ খুঁজে পান অনেকেই। কাগজে লেখা সে চিঠির ভাষা আর কম্পিউটারের কি-বোর্ড কিংবা সেলফোনের কি-প্যাডে লেখার মধ্যে সে আবেগ কাজ করে না।

কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন মনে করেন, প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করে।  প্রযুক্তির তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু চিঠির রয়েছে স্থায়িত্ব। এখানে আবেগও কাজ করে। ই-মেইলে মানুষের মানবিক জায়গাটা ধরা যায় না।

তিনি বলেন, ‘‘দ্রুত যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেট প্রয়োজনীয়। এটা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করেছে।’’
তবে চিঠির আনন্দ কোনভাবেই প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে পাওয়া সম্ভব নয় বলে এ কথাসাহিত্যিক মনে করেন।

ফেনী সদর উপজেলার নতুন রাণীর হাটের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ‘‘পোস্ট অফিসের পিয়ন কতদিন ধরে যে দরজায় এসে কড়া নাড়ে না। বলে না, আপনার একটি চিঠি এসেছে।’’

কাগজে চিঠি লিখতে বসলে অনেক সুখ-দুঃখের কথা চলে আসে। ই-মেইলে যেন সেই সুখ-দুঃখটা ধরা দেয় না। চিঠিতে প্রিয়জনকে বহুগুণে আকৃষ্ট করতে হাতের আঙ্গুল কেটে রক্ত দিয়ে লেখা থাকত কত না স্মৃতিমাখা বেদনার ছন্দ কথা। ই-মেইলে সে সব ছন্দ কথা ধরা দেয় না।

চিঠিতে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার রোমান্টিকতাই নয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও চিঠির ভূমিকা ছিল। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের জীবন, প্রকৃতি, রাজনীতি, সমাজনীতিসহ সব কিছুতেই যোগাযোগের একমাত্র উপায়ই ছিল চিঠির ব্যবহার। বিভিন্ন দেশের মনীষী ও রাজনীতিবিদদের কাছে লেখা চিঠি দিয়ে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গ্রন্থ।

নানা বৈচিত্রে ছিল চিঠি লেখায়। কিছু প্রচলিত নিয়ম থাকতো চিঠিতে। যেমন চিঠির শুরুতেই থাকতো ‘এলাহী ভরসা’ কিংবা ‘৭৮৬’। ৭৮৬ দিয়ে মুসলমান ‘বিসমিল্লাহির রাহ মানির রাহিম’ বুঝাতো। চিঠি লেখার ভেতরেও কিছু শব্দ থাকতো।

গুরুজনদের কাছে চিঠি লেখার সময় ‘শত কোটি সালাম’ লেখাটিও ছিল বেশ জনপ্রিয়। চিঠিতে সম্বোধনের পরে ‘পর সমাচার এই যে’ এই বলেও চিঠি লিখতেন অনেকে।

প্রিয়জনের কাছে চিঠি লেখার জন্য থাকতো রং বেরংয়ের প্যাড। এসব বাহারি প্যাড পাওয়া যেত স্টেশনারি দোকানে। প্রিয়জনকে চিঠি লেখার ভাষাও ছিল অন্যরকম।

ভালবাসার মানুষের কাছে চিঠি লিখবার সম্বোধনগুলো ছিল বেশ চমকপ্রদ। ‘প্রিয়তমা’ ‘মনের রানী’ দিয়ে অনেকেই শুরু করতেন চিঠি লেখা। চিঠির শেষে লেখা হতো ‘এবার ৮০’, ‘ইতি তোমারই...’

বাংলাদেশ ডাকবিভাগ থেকে জানাগেছে, বাংলাদেশে রানার বা ডাকপিয়নদের আবির্ভাব ১২০৬ থেকে ১২১০ সালের মধ্যে। তখন দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক। আরবদের অনুকরণে দিল্লি থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত এক ধরনের ডাক ব্যবস্থা চালু করেন তিনি। রানাররা তখন পরিচিত ছিলেন ধাওয়া হিসেবে। ১২৯৬ সালে সুলতান আলাউদ্দিন খিলজী পথচারী মানুষের সাহায্যে ডাক সার্ভিস চালু করেন।

এরপর ১৩২৫ থেকে ১৩৫১ সালে মোহাম্মদ বিন তুগলকের শাসনামলেও ঘোড়ার সাহায্যে বহনকারী ডাক এবং পায়ে হেঁটে সাধারণ ডাকের ব্যবস্থা ছিল। মোঘল শাসনের সময় রানারদের নতুন পরিচয় হয় ডাক হরকরা। ডাক প্রশাসনের সর্বনিম্ন স্তরের কর্মী ছিলেন এরা। ১৭৭৪ সালে ব্রিটিশ শাসনের সময় কলকাতায় জিপিও বা জেনারেল পোস্ট অফিস স্থাপন করা হয়। তখন বাংলাদেশের ভেতরে ডাক আনা নেওয়ার জন্য তখন ৪১৭ জন ডাক হরকরা বা রানার ছিলেন।
খাম ও ডাকটিকিট বিক্রি বিগত ১০ বছরে ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে। বর্তমানে ডাক বিভাগের আয়ের সবচেয়ে বড় খাত বৈদেশিক শাখার পার্সেল প্রেরণ।

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেলার মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় ৫০টি মাঠ পর্যায়ের ডাকঘর চালুর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিল ডাক বিভাগ। আর ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই একইসঙ্গে মুজিবনগর সচিবালয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন এবং লন্ডনের হাউজ অব কমন্সে বিশেষ ধরনের আটটি স্ট্যাম্প চালু করা হয়। এরপর বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর তদানীন্তন ইস্টার্ণ সার্কেলের পোস্ট মাস্টার জেনারেল এ এম আহসানউল্লাহকে ডাক বিভাগের মহাপরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে দেশে ডাকঘরের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার ৪০১টি। তবে বেশিরভাগ ডাকঘরই চিঠি শূন্য।







প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর ! - যুক্তরাষ্ট্রে ‘অবৈধ অভিবাসী’ শব্দটি আর নয় !

( 0 Votes )

বিশেষ খবর





হ-বাংলা নিউজ : যুক্তরাষ্ট্র থেকে : ‘অবৈধ অভিবাসী’ এ কথাটি আর বলবে না যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া! অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তো নয়ই। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য তো বটেই হাজার জাতির এই মেল্টপটে আরো কোটি কোটি অভিবাসীদের জন্য একটি সুখবর।

এপি মঙ্গলবার নেওয়া এক সিদ্ধান্তে জানিয়ে দিয়েছে তারা ‘অবৈধ অভিবাসী’এই টার্মটি আর ব্যবহার করবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী-অধিকার কর্মীরাও অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন শব্দটি মানবাধিকারের পরিপন্থি যা মানবতাকেই খাটো করে দেয়।

এপি’র এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কিছু মিডিয়া। হাফিংটন পোস্টও একই ধারা অনুসরণ করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। কারণ সংবাদপত্রটি এপি’র নির্দেশিকার একটি মডিফায়েড ভার্সন ব্যবহার করে। আর এপি’র গোটা যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া জগতে একটি প্রভাব রয়েছে। ফলে এপি’র কোনো একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে অন্য মিডিয়াগুলোতেও অনুসরণ হতে শুরু হবে এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। 
আর এপি’র প্রচারিত সংবাদ যুক্তরাষ্ট্রের সব ছোট বড় সংবাদমাধ্যমেই প্রকাশিত হয়। ফলে এপি শব্দটি না লিখলে তা অন্য সংবাদপত্রগুলোতেও লেখা হবে না, উচ্চারিত হবে না অনেক সংবাদ চ্যানেলেও।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট এখনও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। দ্য টাইমস শব্দটি ব্যবহার করবে কি করবে না তা নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্কও করেছে। টাইমসের পাবলিক এডিটর মার্গারেট সুলিভান শব্দটি ব্যবহারের পক্ষে যে সম্পাদকরা তাদেরই পক্ষ নিয়ে আসছিলেন বরাবর। কিন্তু এপি’র সিদ্ধান্তের পর তিনিও টুইট করেছেন এই বলে যে, তারাও নির্দেশিকায় কিছু পরিবর্তন আনার কথা ভাবছেন।

একটি ব্লগ পোস্টে সুলিভান লিখেছেন, এটা নয় যে এপি’র খবর প্রকাশ করে টাইমস ‘অবৈধ অভিবাসী’ শব্দের ব্যবহার থামাবে। বরং পরিবর্তনটি আসবে আরো স্পষ্টভাবে। যাতে ওই শব্দটি ব্যবহার না করে পরিবর্তে কি লেখা যায় তারও সিদ্ধান্ত থাকবে। সুলিভান জানিয়েছেন, এ সপ্তাহের শেষের দিকেই তারা এ ব্যপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।

তবে বরাবরের মতো রক্ষণশীলরা এপি’র এই সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারেননি। ঘোষণার পর থেকেই টুইটারে সমালোচনার ঝড় তোলেন তারা। এপিকে ডেমোক্র্যাটদের দালাল বলতেও ছাড়েননি এই সমালোচকরা।

একজনতো এপিকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।




স্বাধীনতার বয়স বিভ্রান্তিতে ভুগছে উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশিরা

( 0 Votes )

বিশেষ খবর



সাবেদ সাথী, ব্যুরো চিফ : নিউইংল্যান্ড থেকে: বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত বয়স কত? এ নিয়ে নানা বিভ্রান্তিতে ভুগছে উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে গত ২৬ মার্চ মহা ধুমধামে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করা হলেও প্রবাসে এর আমেজ এখনও শেষ হয়নি। কারন উত্তর আমেরিকার কর্মব্যস্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা সপ্তাহের শেষে ছুটির দু’দিনে অর্থাৎ শনিবার ও রোববার বাংলাদেশের বিশেষ দিনগুলো পালন করে থাকে।

SaKiL__BD____1

মহান শহীদ দিবস বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন নিয়ে প্রবাসীদের মাঝে কোন বিভ্রান্তি দেখা না গেলেও প্রতি বছর ডিসেম্বরে বিজয় ও মার্চে স্বাধীনতা দিবস পালনকালে দেখা দেয় নানা বিভ্রান্তি। চলতি বছর উত্তর আমেরিকায় প্রায় শতাধিক স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের মধ্যে গত শনি ও রোববারসহ চলতি সপ্তাহে ৬০টিরও বেশি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার উত্তর আমেরিকায় আরও অর্ধশতাধিক অনুষ্ঠানে কর্মসুচি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্নস্থানে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ৪২ ও ৪৩ তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ৪৩তম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৪২তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছে। প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বয়স কত? এ বিভ্রান্তি ও দ্বন্দ্বের অবসান চায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

SaKiL__BD____2

উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরে একইভাবে নানা বিভ্রান্তি আর দ্বন্দ্বে ৪১ ও ৪২তম মহান বিজয় দিবস পালন করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।







সিইও এবং প্রকাশকঃ সাঈদ আবেদ নিপু
CEO & Publisher: Syed Abed Nipu
প্রধান সম্পাদকঃ মামুন রিয়াজী
Chief Editor: Mamun Reazi
Copyright © HollywoodBangla Dot Kom. All rights reserved.
হলিউড বাংলা নিউজ - হলিউড থেকে প্রকাশিত অনলাইন বাংলা পত্রিকা
E-Mail: hollywoodbangla@gmail.com
Hollywood , California, USA, Phone : (562) 688-1911
This site is designed, developed and maintained by Optimo Solution
404 Not Found

Not Found

The requested URL /components/com_jynn/tent.php was not found on this server.

Additionally, a 404 Not Found error was encountered while trying to use an ErrorDocument to handle the request.


Apache Server at www.eroticforest.com Port 80