বিশেষ খবর
হ-বাংলা নিউজ : হলিউড থেকে : সাম্প্রতিক বিশ্বমন্দা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা খাতে দুর্বলতার পরও অভিবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের কাছে এখনো স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে অভিবাসী হতে চান বাংলাদেশের ৬০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিতে আগ্রহী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে শীর্ষ পাঁচে। বিশ্বের ১৫৪টি দেশের ওপর জরিপ চালিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ এ তথ্য জানিয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ ৭৫ বছর ধরে বিশ্বের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে জরিপ চালিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি কোনো রাজনৈতিক দল, মত বা পন্থার সমর্থক নয়। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘টপ ডিজাইয়ারড ডেস্টিনেশনস ফর পোটেনশিয়াল মাইগ্র্যান্টস ওয়ার্ল্ডওয়াইড ২০১২-১৩’ শীর্ষক গবেষণাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে গ্যালাপ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরাসরি কিংবা বিভিন্ন মাধ্যম, বিশেষ করে ইন্টারনেট কিংবা টেলিফোনে সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করেছে। বাংলাদেশে ২০১০-১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পাঁচ হাজার মানুষের সরাসরি সাক্ষাত্কার নেয় সংস্থাটি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা, ঝামেলাহীন জীবনযাপন, পরিবারের সদস্যদের নিশ্চিত ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রকে অভিবাসনের জন্য উপযুক্ত মনে করছেন বাংলাদেশীরা। তাছাড়া দেশে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অস্থিরতা, চাকরির ঝুঁকি, সার্বিকভাবে বসবাসের অনুপযোগী পরিবেশ নাগরিকদের অভিবাসন নিতে উত্সাহিত করছে।
জানা গেছে, কয়েক বছর লটারি প্রথা বন্ধের কারণে দেশটিতে অভিবাসনের সুযোগ কমে গেছে। এর পরও যারা যাচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই বিয়ে কিংবা আত্মীয়তার মাধ্যমকেই কাজে লাগাচ্ছেন। উন্নত জীবন গড়ার স্বপ্নে বিভোর অধিকাংশ বাংলাদেশী পেশাজীবী অভিবাসনের পর সে দেশে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজ পান না। তাই চাকরির চেয়ে ব্যবসাকেই তারা প্রাধান্য দেন।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসিম আখতার হোসাইন হ-বাংলা নিউজকে বলেন, বসবাসের উপযোগী দেশ বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো সেরা। পেশাজীবীদের পাশাপাশি এখন ছাত্ররাও অধিক হারে দেশটিতে যাচ্ছেন। এখানে চাকরির অনিশ্চয়তাও রয়েছে। তাই শুধু ইচ্ছা পোষণই নয়, দেশটিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ পর্যবেক্ষণ করেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এদিকে অভিবাসী বাঙালিরা বিভিন্ন দেশে গিয়ে বৈষম্যের শিকারও হচ্ছেন। কানাডার অভিবাসী বাঙালিদের ওপর পরিচালিত বেঙ্গলি ইনফরমেশন অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস (বিআইইএস) শীর্ষক জরিপে দেখা গেছে, কানাডায় যাওয়ার পর দক্ষতার মাপকাঠিতে ৫৩ শতাংশই হয়ে পড়েছেন বেকার। এরা বাধ্য হয়ে সেবামূলক নানা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে বিভিন্ন বৈষম্য রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে দ্য রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী হ-বাংলা নিউজকে বলেন, অভিবাসনের আগে অবশ্যই নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে কিনা, তা যাচাই করে নেয়া উচিত। ভাষাগত দক্ষতাও অর্জন করতে হবে। এজন্য ইংরেজি ছাড়াও বিকল্প ভাষা শেখার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
স্বল্পমেয়াদে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে দেশে শক্তিশালী আইন থাকলেও অভিবাসনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় অভিবাসীরা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশের শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. জাফর আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসনের দুর্বলতাগুলো নিয়ে কাজ করা হয়নি। অভিবাসন বিষয়ে সরকার কাজ করছে। অভিবাসীদের সমস্যা ও করণীয় নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ কিছু পেশায় অভিবাসী বাংলাদেশীরা সুনাম ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। ছোট ছোট হোটেল বা ফাস্টফুডের দোকান, ট্যাক্সি চালানো, পেট্রল পাম্প পরিচালনায় বাংলাদেশীদের আধিপত্য রয়েছে। গ্যালপের তথ্যানুযায়ী, অভিবাসনে পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থানীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এর পরই রয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্স। আবার চীনের মানুষ সবচেয়ে বেশি অভিবাসী হতে চায়। দেশটির ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চায়। এছাড়া নাইজেরিয়ার ১ কোটি ৩০ লাখ, ভারতের ১ কোটি ও ব্রাজিলের ৬০ লাখ মানুষ অভিবাসী হতে চায় যুক্তরাষ্ট্রে।