Type in:

নতুন প্রজন্ম

বিশ্ব জীববৈচিত্র্যে সাজিদ ও বাংলাদেশের নাম

( 0 Votes )

নতুন প্রজন্ম


হ-বাংলা নিউজ : ঢাকা থেকে : মেরুদণ্ডী প্রাণী ব্যাঙের নতুন 'জেনাস' ও 'প্রজাতি' আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে বিশ্ব জীববৈচিত্র্যে নাম লেখাল বাংলাদেশ। তা সম্ভব করেছে ২৭ বছর বয়সী সাজিদ আলী হাওলাদারের গবেষণাকর্ম। এর সুবাদে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রাণিবিজ্ঞানীর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়ে গেলেন বাংলাদেশের এই তরুণ। আর এ খবরের সতেজতায় আজ বুধবার অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস।

ভারতীয় উপমহাদেশে বিচরণ করে এমন কিছু ব্যাঙের ওপর ছয় বছর ধরে গবেষণা কার্যক্রম চালান প্রাণিবিজ্ঞানী সাজিদ। অবশেষে সাফল্য ধরা দেয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রাণীটির নতুন 'প্রজাতি' আবিষ্কার করেন তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বের করতে সক্ষম হন 'জেনাস'। নতুন জেনাসের নামকরণ হয় Frog Zakerana আর প্রজাতির নাম 'ফেজারভেরিয়া আসমতি'। বিশ্বের উভচর প্রাণীর শ্রেণীবিন্যাস নামকরণের স্বীকৃতিদানকারী প্রতিষ্ঠান 'আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি' সাজিদের নতুন আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে এখন থেকে পৃথিবীর সব দেশের গবেষকরাই নতুন এই নাম ব্যবহার করতে মোটামুটি বাধ্য।

কথা হয় বিশ্ব প্রাণিবিদ্যায় নাম লেখানো সাজিদের সঙ্গে। কিছুটা উদাস প্রকৃতির এই তরুণের বাড়ি বরিশাল। পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১১ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি প্রাণিবিদ্যা বিভাগে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন ঢাকা নৌবাহিনী কলেজ থেকে। ক্যাম্পাসের প্রিয় এই ছাত্র সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়তেন কঙ্বাজার, বরিশাল, খাগড়াছড়িসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে। লক্ষ্য একটাই- নতুন নতুন ব্যাঙ খুঁজে বের করা।

সাজিদ হ-বাংলা নিউজকে বলেন আবিষ্কারের শুরুর দিকের কাহিনী। ২০০৮ সালের ১৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে সাজিদ নিজ ক্যাম্পাসে পাওয়া একটি ব্যাঙ সংগ্রহ করে তা ব্যক্তিগত গবেষণাগারে রাখেন। তারপর ব্যস্ত হয়ে পড়েন লেখাপড়া নিয়ে। এক পর্যায়ে জানতে পারেন, তখন পর্যন্ত ব্যাঙের সাড়ে ৬০০ প্রজাতি আবিষ্কার হয়েছে পৃথিবীতে। কিন্তু নিজের সংগ্রহশালায় থাকা ব্যাঙটি ওই আবিষ্কারের তালিকায় নেই। এ অবস্থায় তিনি ব্যাঙটিকে ঘিরে আগ্রহী হয়ে পড়েন। নেমে পড়েন গবেষণায়।

সাজিদের সংগ্রহে থাকা ব্যাঙটি ডাকে ভিন্ন স্বরে। বৈশিষ্ট্যও অন্য সব ব্যাঙের চেয়ে আলাদা। এর কারণ জানতে তিনি পর্তুগাল, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপানসহ বিশ্বের সেরা সেরা প্রাণিবিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হন যে পৃথিবীতে এ পর্যন্ত পাওয়া ব্যাঙের তালিকায় এই প্রজাতির ব্যাঙের অস্তিত্ব নেই। তাঁর গবেষণার ফল পাঠানো হয় নিউজিল্যান্ডে। সেখানকার বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে আন্তর্জাতিক প্রাণিবিদ্যা গবেষণাবিষয়ক সাময়িকী 'জুটেক্স'-এ একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। সেখানে বলা হয়, ব্যাঙটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩০ মিলিমিটার। পরিচিত ব্যাঙের স্বরের চেয়ে এটি কিছুটা ভিন্ন সুরে ডাকে। পিঠে লালচে ছোপ আছে। শরীরের মাঝ বরাবর আছে একটা সাদা রেখা। গলার নিচের চামড়া নিচের দিকে ঝুলে থাকে। অবশেষে সেই ব্যাঙের নাম হয় 'ফেজারভেরিয়া আসমতি'।

বড় ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি। এতকাল ধরে 'ফেজারভেরিয়া' নামে ব্যাঙের যে জেনাসটির কথা উল্লেখ রয়েছে, সেটি ভুল প্রমাণ করলেন সাজিদ। টানা ছয় বছরের অনুসন্ধানে তিনি বের করলেন- প্রায় ১৮ শতকের দিকে নামকরণ হওয়া এ জেনাসটির নাম ও বৈশিষ্ট্যের মধ্যে বৈসাদৃশ্য রয়েছে, শ্রেণীবিন্যাসও সঠিক নয়। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার ও পাকিস্তানে বিচরণ করা এই জেনাসের অসংখ্য ব্যাঙের ওপর গবেষণা করে প্রতিবেদন পাঠানো হয় আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে। তারা অনেক যাচাই-বাছাই শেষে সাজিদের গবেষণার সত্যতা পায়। গত ৯ জানুয়ারি সংস্থাটি নিজেদের সাময়িকীতে সাজিদের নতুন জেনাস আবিষ্কারের তথ্য প্রকাশ করে।

সাজিদ তাঁর আবিষ্কৃত জেনাসের নাম দিয়েছেন 'জাকেরানা'। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত কাজী জাকের হোসেনকে উৎসর্গ করে তিনি ব্যাঙটির নামকরণ করেন ঋৎড়ম তধশবৎধহধ। নিজের হাতে এই শ্রেণীভুক্ত প্রাণীর জেনাস পরিবর্তন হওয়ায় এখন ওই প্রজাতির প্রকৃত নাম হবে 'জাকেরানা আসমতি'। তিনি প্রজাতিটির নামকরণ করেছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাজী সৈয়দ মোহাম্মদ আসমতের সম্মানে।

জেনাস বা গণ হচ্ছে ব্যাঙের একটি দল, আর অনেক প্রজাতি মিলে একটি জেনাস। সাজিদের আবিষ্কৃত ব্যাঙের এ জেনাসের আওতায় রয়েছে ২০টি প্রজাতি। 'জাকেরানা' ও 'আসমতি' ছাড়াও সাজিদ ২০০৭ সালে আবিষ্কার করেছেন পাঁচটি ভিন্ন প্রজাতি।

গবেষক ড. গাজী সৈয়দ মোহাম্মদ আসমত বলেন, 'দেড় শ' বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি মেরুদণ্ডী প্রাণীর নতুন জেনাস ও প্রজাতি আবিষ্কার করল। সাজিদের এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি নতুন এই জেনাসের স্বীকৃতি দেওয়ায় বিশ্বের সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রেই নতুন নামটি ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।'

সাজিদ হ-বাংলা নিউজকে বলেন, জেনাস ও প্রজাতি আবিষ্কার করতে গিয়ে দুই বছর ধরে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বিলুপ্ত কোনো প্রাণীর ফসিল নিয়ে গবেষণা করে তার বয়স বের করেন। তবে ডিএনএ থেকে তথ্য নিয়ে কোনো প্রজাতির টিকে থাকার সময় হিসাব করা গেলে তা প্রাণিবিদ্যায় অভূতপূর্ব সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। আর বর্তমান সময়ে ব্যাঙ সর্বাধিক অস্তিত্ব-ঝুঁকিতে রয়েছে।





যুক্তরাষ্ট্রে আকাশছোঁয়ার গল্প

( 0 Votes )

নতুন প্রজন্ম


হ-বাংলা নিউজ : যুক্তরাষ্ট্র থেকে :  যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ভ্যান নাইচ শহরের বিশাল আকাশ। সেখানে উড়ছে একটি বিমান। আর তা নিচ থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন জামাল হোসেন, তৌহিদুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, মীর মো. আল কামাহ, ফজলে রাব্বি ও মুকিত হাসান। চোখে রাজ্যের বিস্ময় তাঁদের। যেন আকাশে তাঁদের স্বপ্ন উড়ছে!

ঠিক কাছাকাছি সময়ে আরেকটি বিমান ওড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি অঙ্গরাজ্য অ্যারিজোনার টুয়সন শহরে। আর এই দলে আছেন তনয় চৌধুরী, শোয়েব চৌধুরী, অনুপ দেবনাথ, জামিল ফয়সালসহ মোট ১৫ জন। দুটি দলই ছিল বাংলাদেশের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের।

বিস্ময়কর এ ঘটনার নায়ক যাঁরা, তাঁদের মুখেই শোনা যাক আকাশছোঁয়ার গল্প।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ডিবিএফ প্রতিযোগিতায় এমআইএসটি দল

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ডিবিএফ প্রতিযোগিতায় এমআইএসটি দল


বিজয়ের গর্ব নিয়েই বলা শুরু করলেন জামাল হোসেন, ‘আমরা অংশ নিয়েছিলাম “এসএই অ্যারো ডিজাইন ওয়েস্ট-১৩” প্রতিযোগিতায়। ঠিকঠাকমতোই নিজেদের তৈরি বিমান ওড়ালাম যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে।’ তাঁর কাছে আরও জানা গেল ‘সোসাইটি অব অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ার্স’-এর আয়োজনে এই প্রতিযোগিতা বসে লস অ্যাঞ্জেলেসে। এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৭৫টি দল অংশ নেয় প্রতিযোগিতায়। প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে তাদের তৈরি করতে হয়েছে দূরনিয়ন্ত্রিত একটি এয়ারক্রাফট, যা অতিরিক্ত ওজন বহনে সক্ষম।


তনয় চৌধুরীদের কাজটি ছিল আরেকটু কষ্টসাধ্য। বিমান তো ওড়াতে হয়েছেই। সেই সঙ্গে বিমানে যুক্ত রাখতে হয়েছিল মিসাইলসদৃশ বস্তু ও অতিরিক্ত ওজন নেওয়ার ক্ষমতা। ‘তবু সফল আমরা,’ এমনটাই বললেন তনয় চৌধুরী।

১৭তম বার্ষিক ডিজাইন বিল্ড অ্যান্ড ফ্লাই (ডিবিএফ) প্রতিযোগিতা-২০১৩-এ অংশ নেয় তনয় চৌধুরীদের দল। যে প্রতিযোগিতায় হাজির হয় বিশ্বের ৩৫টি দেশের ৮১টি দল। দুই দলের এই সফলতার সিঁড়ির সূচনা যেখান থেকে, সেই জায়গাটা যে মসৃণ ছিল না, তা জানা গেল আলাপচারিতায়।


যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এসএই অ্যারো ডিজাইন ওয়েস্ট প্রতিযোগিতায় এমআইএসটি দল

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এসএই অ্যারো ডিজাইন ওয়েস্ট প্রতিযোগিতায় এমআইএসটি দল


‘খুব উৎসাহ নিয়ে শুরু করি কাজ। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখা গেল, ডিজাইনে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, যন্ত্রাংশ পাওয়া যাচ্ছে না।’ বলেন তনয় চৌধুরী। ‘এমনকি কিছু যন্ত্রাংশ দেশের বাইরে থেকেও আনতে হয়েছে।’ তনয়ের কথার সঙ্গে যুক্ত করে এমনটাই বলেন জামাল হোসেন। ‘তবে এই সফলতা আসত না, যদি আমাদের শিক্ষক গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবদুস সালাম, কামরুল হাসান, ফ্লাইট লে. মুনিরা, গ্রুপ ক্যাপ্টেন নেপাল চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, উইং কমান্ডার নিখিল ভার্মা ও ইয়াসির আরাফাত সাহায্য না করতেন।

তনয় কিংবা জামালদের এখন স্বপ্ন তাঁদের তৈরি বিমানগুলোকে আধুনিকায়ন করা। একসময় হয়তো তাঁদের হাত ধরেই এ দেশে তৈরি হবে বিশ্বের আধুনিক সব এয়ারক্রাফট।




স্কুলে পা দেয়ার আগেই গিনেস বুকে বাংলাদেশের ক্ষুদে কম্পিউটার প্রোগ্রামার

( 0 Votes )

নতুন প্রজন্ম


-little-master____SaKiL


তৈয়বুর রহমান টনি : স্কুলেই গেল না আর কি করে সম্ভোব এতো কঠিন পথ অতিক্রম করে গিনেস বুকে নাম লেখা। এবার বাস্তবেই বিশ্ব রেকর্ডে নাম লেখাচ্ছে রূপকথা। পুরো নাম ওয়াসিক ফারহান রূপকথা। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদে কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে গিনেস বুকে নাম উঠতে যাচ্ছে সাত বছরের এই শিশু। স্কুলে পা দেয়ার আগেই বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করতে যাচ্ছে।

সোমবার রূপকথা’র মা সিন্থিয়া ফারহিন রিসা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, খুব শিগগিরই বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদে প্রোগামার হিসেবে গিনেস বুকে রূপকথার নাম প্রকাশ পেতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। তিনি আরো জানান, গিনেস বুকে নাম প্রকাশের নিয়েম অনুযায়ী, গত ১৬ মে ক্রিয়েটিভ আইটি থেকে একটি ভিডিও ডুকুমেন্টেশন তৈরি করা হয়েছে। ডকুমেন্টশনটি গত শনিবার ডিএইচএল করেছি। আশা করছি আজ (সোমবার) এটি তাদের হাতে পৌঁছবে।  


এর আগে ছয় বছর বয়সে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কম্পিউটার প্রোগ্রামারের পদবিটি দখল করে রূপকথা বিশ্বে ইতিহাস সৃষ্টি করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয় রূপকথা। দ্য নিউ ইয়র্ক, হেরাল্ড ট্রিবিউন, ক্যালিফোর্নিয়া অবজারভার, এস্টেট নিউজ, চিলড্রেন পোস্ট এবং অনেক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট তাকে বিশ্বে সর্বকনিষ্ঠ কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে অভিহিত করা হয়। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) তাকে একজন সর্বকনিষ্ঠ কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে সংবর্ধনা দেয়। এছাড়াও যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বনন্দিত টিভি অনুষ্ঠান 'রিপ্লিস বিলিভ ইট অর নট' রিপ্লিস তাদের নতুন বইতে রূপকথার নাম অন্তর্ভুক্ত করে।

এরপর অষ্টম শ্রেণীর ‘ইংলিশ ফর টুডে’ টেক্স’ বইয়ে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অধিকাংশ শিশু যখন খেলনাপত্র নিয়ে খেলাধুলা করে তখন রূপকথা তার নিজস্ব কম্পিউটার সিস্টেম (উইন্ডোজসহ) তৈরি করে এবং একজন বিশেষজ্ঞের মতো কম্পিউটার প্রোগ্রামিং করে। জন্মগতভাবে মেধাবী রূপকথার বাসা রাজধানী ঢাকার গুলশানে। অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র সাত মাস বয়স থেকেই সে কম্পিউটার নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করে এবং দুই বছর বয়সে কম্পিউটারে লেখালেখি করা শিখে ফেলে।

তার গর্বিত মা সিন্থিয়া ফারহিন রিসা এ তথ্য জানান। তিনি জানান, এই বিস্ময় বালক প্রতিদিন ১২ ঘণ্টারও বেশি কম্পিউটারের পেছনে ব্যয় করে এবং গেমের কারেক্টর কীভাবে পরিবর্তিত হয় তা জানার চেষ্টা করে। এখন সে সি++, জাভা প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করছে। কম্পিউটার প্রোগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখনো স্কুলে ভর্তি করা হয়নি। সিনথিয়ার বাবা ওয়াসিম ফারহান ব্যবসায়ী এবং মা গৃহিনী।





তিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর নাসা সফর

( 0 Votes )

নতুন প্রজন্ম


মামুনুল ইসলাম, দুবাই, ইউএই থেকে : রকেট অবতরণের আগে ঘূর্ণমান ক্যাপসুল (সামনের অংশ) দেখে সবাই বিস্মিত। এমন দৃশ্য আগে সরাসরি দেখার সুযোগ কখনোই হয়নি তাদের। আমেরিকার নাসা ঘুরে এসে এখনো বিস্ময়ের ঘোর থেকে বের হতে পারছে না দুবাইপ্রবাসী বাংলাদেশি তিন স্কুলছাত্র।

বাংলাদেশি এই তিন ছাত্র দুবাইয়ের কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী। এই স্কুলের ৪৩ জন শিক্ষার্থী সম্প্রতি আমেরিকার নাসায় শিক্ষা সফরে যায়। শিক্ষার্থীরা দুবাইপ্রবাসী ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক, ইংল্যান্ড ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সন্তান। দলে ছিল ওই তিনজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

১৪ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা দুবাই থেকে নাসার উদ্দেশে রওনা হয়। একই সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আরও কয়েক দল শিক্ষার্থী সেখানে পৌঁছে। দুবাইয়ের শিক্ষার্থীরা অন্য দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এরপর শুরু হয় নাসার কার্যক্রম দেখা, শোনা, ব্যবহারিক জ্ঞান ও পরীক্ষা দেওয়ার পালা।

প্রথমে নাসার বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা খুদে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দান করেন। পরে জর্জ অ্যাকুরিয়াম, থিম পার্ক, নাসা ক্যাম্পে বিশেষ রকেটে উড্ডয়ন, অবতরণ, মহাশূন্যের কক্ষপথে কীভাবে রকেট চলে তা দেখানো হয়। শেষে বিজ্ঞানবিষয়ক কুইজ ও পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা নিজেরাই ডামি রকেট বানিয়ে উড্ডয়নের মহড়া দেয়।

বিজ্ঞানবিষয়ক কুইজের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে শুধু বাংলাদেশি ছাত্রদের নিয়ে গড়া দল প্রথম স্থান অর্জন করে। এই দলে ছিল বাংলাদেশি সপ্তম শ্রেণীর আইমান উদ্দিন ও আবদুল্লাহ আল আমিন এবং নবম শ্রেণীর জুবায়ের হোসেন। তারা সেরা দল হিসেবে স্বীকৃতি এবং সনদ নিয়ে দুবাইয়ে ফিরেছে। জানা গেছে এই দলের ১৩ বছর বয়সী আইমান উদ্দিনের কৃতিত্বেই তারা সেরা দল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

১০ দিনের এই সফর শেষে দুবাইপ্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দুবাইয়ে ফিরে তাদের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে। কুইজ ও পরীক্ষায় কৃতিত্ব প্রদর্শনকারী আইমান উদ্দিন বলে, নাসায় প্রথমে ইউনিফর্ম গায়ে জড়ানোর পর আমার নিজেকে সত্যিকারের বিজ্ঞানী এবং নভোচারী মনে হয়েছিল। সত্যি সত্যিই যদি নভোচারী হয়ে একদিন রকেট নিয়ে মহাশূন্যে যাওয়া যায়, তাহলে প্রথম বাংলাদেশি নভোচারী হিসেবে রেকর্ড হবে।

আইমান দুবাইপ্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ও মাহবুবা ইয়াসমিনের একমাত্র সন্তান। জালাল উদ্দিনের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা গ্রামে। তিনি দুবাইয়ে ব্যবসা করেন।

দুবাইয়ের কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কর্তৃপক্ষ এবারই প্রথম এ ধরনের শিক্ষা সফরের আয়োজন করে। শিক্ষা সফরের ব্যয় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা যৌথভাবে বহন করেন। এ জন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাকেরা ১৩ হাজার দিরহাম (বাংলাদেশি দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা) প্রদান করেন। বাকি টাকা স্কুল কর্তৃপক্ষ বহন করে।







প্রবাস থেকে দেশসেবা - সফল বাংলাদেশী তারুণ্যের প্রতিকৃতি জাকির খান

( 0 Votes )

নতুন প্রজন্ম



হাকিকুল ইসলাম খোকন : নিউইয়র্ক থেকে : যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী তারুণ্যের অন্যতম সাফল্যের প্রতীক, নিজের মেধা, শ্রম, স্মার্টনেস আর ব্যক্তিত্বের মিশেলে স্বনামধন্য বিজনেসম্যান-যার সফল ক্যারিয়ার নিয়ে শুধু এখানকার বাংলা মিডিয়ায় নয়, মূলধারার মিডিয়াতেও পেয়েছেন ইর্ষণীয় প্রচার, সেই আলোকিত তারুণ্যের নাম জাকির খান। বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে শুধু একজন সফল রিয়েলটর হিসেবেই নয়, মূলধারার রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের সহায়তায় বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসকে মার্কিন রাজনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে পারায় ইতিমধ্যেই কম্যুনিটির অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিনত হয়েছেন তিনি। একান্ত নিজস্ব আইডিয়া ও আগ্রহে ২০০০ সালে তিনি গড়ে তুলেন নিজের রিয়াল এস্টেট বিজনেস জাকির খান রিয়েলটি গ্রুপ। নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে আজ একজন প্রতিষ্টিত বাংলাদেশী রিয়েলটর হিসেবে তিনি সকলের নিকট সুপরিচিত। গত মার্চে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে উদযাপিত 'বাংলাদেশ ডে' অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাংলাদেশী কম্যুনিটির বিশিষ্টজনদের ১৫ সদস্যার কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জাকির খান। এর আগের বছর স্টেট এসেম্বলি বাংলাদেশ ডে উপলক্ষে যে রেজ্যুলেসন পাশ করেছে তার জন্য স্টেট এসেম্বলিম্যান লুইস সিপুলেভাদা এবং স্টেট সিনেটর রুবিন ডিয়াজের সাথে অন্তরালে গত তিন বছর ধরে নিরন্তর কাজ করে গেছেন তিনি।

এর বাইরে বাংলাদেশে তার নিজ জন্মস্থান সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের মানুষের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ক্রীড়ার উন্নয়নে রয়েছে তার বিশেষ ভুমিকা। এই সকল বিষয়ে প্রবাস থেকে দেশসেবা সিরিজের আওতায় সম্প্রতি তার সাথে কথা বলেছেন বার্তা সংস্থা বাপ্‌স নিউজ -এর বিশেষ প্রতিনিধি। সাক্ষাতের একপর্যায়ে তিনি বলছিলেন,'আসলে শুধু কঠোর পরিশ্রম দিয়েই সফল হওয়া যায়না, এর সাথে ভাগ্য লাগে, আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে আমার কঠোর পরিশ্রমের সাথে সাথে আমার ভাগ্য ও আমাকে ফেভার করেছে।'

IMG_1793____SaKiL__1

বিষয়টি জাকির খানের সত্য সরল স্বীকারোক্তি সন্দেহ নেই। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, অবাক করে দিয়ে জানালেন, 'দেখুন প্রবাসে আমরা কম্যুনিটি সেবার নামে যে যা-ই করি না কেনো, এতে আমাদের ভাব নেয়ার কিছু নেই। কারণ এটা আমাদের বিজনেস সম্প্রসারণের অন্যতম কৌশল হিসেবেই আমরা মনে করি। এর মাধ্যমে মানুষের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়ে, পরিণামে বিজনেস গ্রো করে।' এরকমই অকপট আর 'টু দ্যা পয়েন্ট' ছিলেন জাকির খান তার সাক্ষাৎকারের পুরোটা সময়। ফেরার পথে জানা গেলো, তার এই ব্যক্তিগত গুণাবলি জীবনে তাকে সফলতা দিয়েছে।

প্রশ্ন : আমরা জানি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী আমেরিকান কম্যুনিটির অন্যতম সফল ব্যবসায়ী এবং কম্যুনিটি একটিভিস্ট আপনি। বাংলাদেশেও রয়েছে আপনার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড। বাংলাদেশে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আপনার আগমন, পড়াশুনা এবং আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে কিছু বলুন। কিভাবে এই রিয়েল এস্টেট বিজনেসে এলেন?

জাকির খান : সিলেট জেলার ফেঞ্চুগন্জ থানার পাঠানটিলা গ্রামে জন্ম আমার । গ্রামের কাছিম আলী হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করি। এরপর পারবারিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় আমেরিকা আসার জন্য প্রতিক্ষা শুরু। এই অস্থির অপেক্ষার মাঝেই ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচ এসসি পাশ করি। একই বছর পারিবারিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে আসি।

বায়োকেমেসট্রি নিয়ে উচ্চতর পড়াশুনার খুব ইচ্ছে ছিলো। ভর্তিও হয়েছিলাম সিটি ইউনিভারসিটির একটি কলেজে। পরে ট্র্যাক বদল করে পড়তে যাই বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন। কিন্তু ওখানেও মন বসেনি। পড়াশুনার ফাঁকে পার্টটাইম কাজ করেছি মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে, কিছুদিন সেলসের কাজ করেছি পিজ্জার দোকানে। এক সময় কলেজগুলোর জবফেয়ারে নিয়মিত আশা যাওয়া করতাম। এভাবেই ওদের সাথে একসময় সখ্যতা গড়ে ওঠে। তখন ওদের সাথে ভলান্টিয়ার হিসবে কাজ করতে গিয়ে দেখি সেলসের কাজটি রোমাঞ্চকর। বিষয়টি উপভোগ করা থেকেই জীবনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। সেলস-কেন্দ্রিক ব্যবসা গড়ে তুলবো। যেই ভাবা সেই কাজ। ২০০০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠা করি নিজের রিয়াল এস্টেট বিজনেস প্রতিষ্ঠান জাকির খান রিয়েলটি গ্রুপ।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে আপনার বেশকিছু উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড রয়েছে বলে আমরা জানি , সে সম্পর্কে কিছু বলুন, একজন সফল মানুষ হিসেবে নিশ্চয়ই দেশ ও সমাজের নিকট আপনার অনেক দায়বদ্ধতা।

জাকির খান: আসলে নিজেকে সফল মানুষ বলার সময় এখনো আসেনি। তবে সবসময় প্রবাসে এবং দেশে মানুষের উন্নয়নে গঠনমূলক কাজ করতে চেষ্টা করি। আমি বরাবরই বছরে ৩/৪বার দেশে যাই। তখন স্বাভাবিকভাবেই গ্রামের, নিজের এলাকার মানুষের আশা আকাক্সক্ষার কথা, তাদের সুখ-দুঃখের কথা শুনে থাকি। প্রথমদিকে এলাকার মানুষকে দেশে গেলেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ টাকা দিয়ে সাহায্য করতাম। পরে একসময় দেখা গেল যে, এভাবে তাদের স্থায়ী সমাধান হয় না। তাই এক সময় গ্রামের সকলকে ডেকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম যে 'রেশন কার্ড' এর মতো করে আমার নিজগ্রাম পাঠানটিলার সকল গরিব মানুষকে নিত্যদিনের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। পরিচিত দোকান থেকে কার্ড দেখিয়ে তারা নিত্যদিনের সৌদাপাতি নিয়ে আসবে। এর ফলে গ্রামের সত্যিকারের দরিদ্র মানুষের উপকার হবে। আপনি জেনে খুশী হবেন যে, আমার গ্রামে এখন এমন কোনো মানুষ নেই যার খাদ্যের অভাব আছে। যেহেতু খাদ্য কিনতে হয় না সেহেতু তারা তাদের অন্যান্য আয়-ইনকাম জমা করে করে ইতিমধ্যেই গ্রামের কেউ আর গরিব নেই। আমার পরিকল্পনা আছে, ভবিষ্যতে নিজ গ্রামের বাইরে অন্যান্য গ্রামেও এই কর্মসূচি চালু করার।

প্রশ্ন: এর বাইরে শিক্ষা, সংস্কৃতি কিংবা খেলাধুলার উন্নয়নে উল্লে­খযোগ্য কিছু?

জাকির খান: প্রায় এক যুগ আগে আমার থানার ৩৬টি প্রাইমারি স্কুলে বাৎসরিক স্কলারশিপ প্রবর্তনের মাধ্যমে এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে আমি অবদান রাখতে শুরু করি। পরবর্তীতে বাস্তবতার আলোকে স্কলারশিপগুলো যাতে শিক্ষার উন্নয়নে অধিকতর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিবেচনায় আমার হাইস্কুল যেখান থেকে আমি এসএসসি পাশ করেছি সেই কাছিম আলী হাইস্কুলে আমার বাবার নামে বৃত্তি চালু করি। ২০০৮ সালে থেকে হাই স্কুলের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতিটি ক্লাসের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ইতিমধ্যেই স্কুলের শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী হওযায় শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে আরও বড় কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া এলাকার খেলাধুলার উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে বিশেষ করে ফুটবল লীগ চালু করা এবং তা প্রতি বছরই অব্যাহত রাখা। এমনকি এই মুহূর্তে চলতি সপ্তাহে আমার থানায় একটি ফুটবল লীগ চলছে, যা আমি এবং আমার এলাকার আরেক বড় ভাই, যিনি এই নিউইযর্কেরই বাসিন্দা এবং জনপ্রিয় সমাজসেবী আব্দুল হাসিব হাসনু। আমরা দুজন বর্তমানে চলমান একটি ফুটবল লীগ স্পন্সর করেছি।

এর বাইরে সচেতন বাংলাদেশী হিসেবে যেহেতু আল্লাহপাক তোফিক দিয়েছেন, তাই বিভিন্ন বাংলাদেশী কম্যুনিটি সংগঠনের ডাকে তাদের কর্মকান্ডে যথাসম্ভব আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে থাকি, জাতীয দুর্যোগ, সাইক্লোন, বন্যায় দেশের মানুষের পাশে অন্য সকলের মতো অবদান রাখতে চেষ্টা করি।

প্রশ্ন: একজন সফল রিয়েল এস্টেট বিজনেসম্যান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা দুইবার, নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ তিনবার আপনাকে নিয়ে প্রতিবেদন ছাপিয়েছে। আমরা জানি যে ডেইলি নিউজ একবার আপনাকে নিয়ে হেডলাইন নিউজ করেছে। এই প্রতিবেদনগুলো আপনার ব্যবসায়িক সাফল্যে কি কোনো ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন? ওই প্রতিবেদনগুলো আপনার সাফল্যের কোন কোন দিকগুলোকে হাইলাইট করেছে?

জাকির খান : আসলে নিউইয়র্ক টাইমস বা ডেইলি নিউজের কাছে একজন বাংলাদেশী বিজনেসম্যানের সাফল্যের বিষয়টা মুখ্য ছিলোনা। একটা সময় ছিলো যখন এই ব্যবসায়ে মন্দা বিরাজ করেছে, এই মন্দা কাটিয়েও আমরা এই পার্কচেস্টার এলাকায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ে ভালো করেছি। এর ফলে এই এলাকার আশেপাশের পরিবেশে একটা উন্নয়নমূলক প্রভাব পড়েছে, ব্যবসা বাণিজ্যে, রাস্তাঘাটের আলোক সজ্জায়, সিটির উন্নয়ন পরিকল্পনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। নেইবারহুডের উন্নয়নে রিয়েল এস্টেট সেক্টর কিরকম ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে, কর্মসংস্থা সৃষ্টিতে, ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসারে এই সার্বিক দিকগুলো তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে গিয়ে আমার বিজনেসে সাফল্যের অবদানের কথা ও এসেছে। কেন না এই সব অবদানের পিছনে আমার বিজনেস সাফল্যের ভূমিকাও রয়েছে।

IMG_1793____SaKiL__2

আবার নিউইয়র্ক টাইমস এবং ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনগুলো ও আমার বিজনেসের জন্য বিশাল রকমের ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে আমার প্রতিষ্ঠান অতিদ্রুত ক্রেতাদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়েছে। আমি খুবই ভাগ্যবান এই বিষয়ে যে, ওই প্রতিবেদনগুলোর পরপরই খুব দ্রুত আমার ব্যবসা প্রসার লাভ করেছে।

প্রশ্ন: নিউইয়র্ক স্টেট গত দুইবছর যাবত সরকারিভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ কে 'বাংলাদেশ ডে' হিসেবে পালন করেছে। এ ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা কম্যুনিটির এ পর্যন্ত সেরা অর্জন বলে মনে করি আমি। সিনেটর রুবিন ডিয়াজ এবং এসেম্ব্লিম্যান লুইস সিপলোভেদা এ বিষয়ে মূল ভুমিকা পালন করেছেন। এ দুইজনের সাথেই আপনার চমৎকার যোগাযোগ রয়েছে বলে আমরা জানি। এ জন্য আপনি ইতিমধ্যেই প্রবাসে এবং দেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। কিন্তু স্টেট এসেম্বলিতে পাশ করা রেজ্যুলেশনটিতে বেশকিছু তথ্যগত ভুল রয়েছে বলে অনেককে আমরা সমালোচনা করতে শুনেছি-এ বিষয়ে আপনার কোনো মন্তব্য?

জাকির খান: এ রকম সমালোচনা যে উঠবে তা আমরা আগে থেকেই বুঝতে পেরেছি। সত্যি বলতে ইতিহাসের যে অংশটা নিয়ে সমালোচনা উঠেছে তা এখনো মীমাংসিত নয়। তবে কেউ যদি তার বক্তব্যের পক্ষে অকাট্য দলিল প্রমাণ দিতে পারেন, তবে যেকোনো সময়েই এই রেজ্যুলেশন উত্থাপিত তথ্য সংশোধনের সুযোগ আছে।





হার্ভার্ডের রাইজিং স্টার বাংলাদেশি ইজাজ

( 0 Votes )

নতুন প্রজন্ম


বস্টন থেকে : বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ইজাজ আহমেদ হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের রাইজিং স্টার নির্বাচিত হয়েছেন। ইউনিভার্সিটি ইন কেমব্রিজ, ম্যাসাচুসেটসের জন এফ কেনেডি ফোরামে ১১ মে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৮ সালে পাবলিক পলিসিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করা ইজাজের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কেনেডি স্কুলের অধ্যাপক মার্টি লিন্সকি।ইজাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইজাজ বাংলাদেশের যুব সমাজকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করছে। এটি সত্যিই প্রশাংসাযোগ্য।  তিনি আরও বলেন, নেতৃত্ব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলা সম্ভব। এ কথাটিই ইজাজ প্রমাণ করলো।

HarvardRising____SaKiL

হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত বোর্ড এবং অফিস অব অ্যালামনাই এই পুরস্কার নির্ধারণ করে। ইজাজ আহমেদ তার এই পুরস্কার বাংলাদেশের সকল তরুণদের উৎসর্গ করেছেন। একইসঙ্গে যে দলটির চেষ্টায় আজ বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার কাজ করে যাচ্ছে তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।প্রসঙ্গত হার্ভার্ডের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা কর্মজীবন শুরু করার ৬ বছরের মধ্যে একজন নেতা অথবা পরিবর্তনের নেতা হয়ে উঠতে পেরেছেন। এছাড়াও একক কৃতিত্বে মানুষের জীবনে, বেসরকারি অথবা সরকারিভাবে কর্মক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। তাদের এ বিশেষ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়।




লন্ডনে প্রথম বাঙালি কাউন্সিলর হয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন সৈয়দ এনাম আহমেদ

( 0 Votes )

নতুন প্রজন্ম


UK____SaKi_LL


লন্ডনের বার্কিং এন্ড ডেগেন্হাম কাউন্সিলের প্রথম নির্বাচিত বাঙালি কাউন্সিলর হয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন সৈয়দ এনাম আহমেদ। গত ৯ মে ২০১৩ উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলেন। বিগত ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ বার্কিং এর লংব্রিজ ওয়ার্ডএর লেবার পার্টির একজন কাউন্সিলর মৃত্যু বরণ করলে সেখানে একটি পদ খালি হয়। সর্বমোট ১৮ জন আবেদনকারীর মধ্যে যাচাই বাছাই ও ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে সব শেষে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন সৈয়দ এনাম আহমেদ। সৈয়দ এনাম আহমেদ সর্বমোট ভোট পান ১৫৫৫ টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী  ইউ কে ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি পেয়েছে মাত্র ৪৬৬ টি ভোট। এ ছাড়াও কনজারভেটিভ পার্টি ২৮৪ ভোট, লিবারেল ডেমক্রেট ৭৮ ভোট এবং বর্ণবাদী দল  ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছে ৩৭টি ভোট।


এক সময় এই এলাকার একটা প্রধান সমস্যা ছিল এই বর্ণবাদী দল। গত ৯মের নির্বাচনে এই দলটির লেবার প্রার্থীর কাছে ভরাডুবিতে এলাকার জনগণ খুবই আনন্দিত। লংব্রিজ ওয়ার্ড এ সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৮১৮৫। এর মধ্যে ভোট দিতে আসেন ২৪৩৫ জন। বিরূপ আবহাওয়া এবং একটি ভোটকেন্দ্র বন্ধ থাকার কারণে ভোটদানের হার ছিল ২৯.৭৫%। সৈয়দ এনাম আহমেদ এর জন্ম হবিগঞ্জ শহরের অদূরে অবস্থিত দিগল বাগ গ্রামে। পিতা সৈয়দ মোস্তফা আহমেদ, মাতা শাহিনা আহমেদ শহরের মাহমুদাবাদ এলাকার বাসিন্দা। ১৯৯৫ সালে মাধব পুরের জগদীশ পুর জে, সি, উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস, এস, সি, এবং বৃন্দাবন সরকারী কলেজ থেকে ১৯৯৭ সালে এইচ, এস, সি ও ১৯৯৯ সালে ডিগ্রী পাস করার পর ঢাকা কলেজ এ বাংলায় এম, এ ভর্তি হন সৈয়দ এনাম আহমেদ। এরই মাঝে কবিতা লেখালেখি ও সংস্ক্তি চর্চার মাধ্যমে খুবই পরিচিত মুখ ছিলেন হবিগঞ্জ শহরে।


শহরের স্বর্ণালী ক্লাব, খেয়া থিয়েটার, বৃন্দাবন কলেজের কথক ক্যাম্পাস থিয়েটার, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, প্রথম আলো বন্ধুসভাসহ বিভিন্ন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন তিনি। বেশ কিছু স্থানীয় এবং জাতীয় পত্রিকায়  কবিতা, গল্প এবং সংবাদ পরিবেশন করতেন নিয়মিত। তার প্রথম কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ২০০০ সালের ঢাকা বাংলা একাডেমী বইমেলায়। ২০০৩ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। ২০১০ সালে স্থানীয় লেবার পার্টিতে যোগ দিয়ে লন্ডনে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। তখন থেকেই বার্কিং লেবার পার্টির একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন।


বার্কিং এন্ড ডেগেন্হাম এর বাঙালিদের অনেকদিনের দাবি ছিল একজন বাঙালি কাউন্সিলর। সৈয়দ এনাম আহমেদ নির্বাচিত হওয়ায় লেবার পার্টি সেই দাবি পূরণ করলো এবং এলাকার প্রথম নির্বাচিত বাঙালি কাউন্সিলর হিসাবে তার নাম লেখা হলো ইতিহাসের পাতায়।






সাহিরের সেরা এটর্নি এওয়ার্ড লাভ - সাহিরের নেতৃত্বে ফ্লোরিডা ষ্টেট ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়ান

( 0 Votes )

নতুন প্রজন্ম


গোলাম সাদত জুয়ূেল :  হ-বাংলা নিউজ : ফ্লোরিডা থেকে : আমেরিকার মক ট্রায়েল এসোসিয়েশন এর ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ানশীপ টুর্নামেন্ট্রে ফ্লোরিডা  ষ্টেট ্ ইউনিভার্সিটি প্রথমবারের মত চ্যাম্য়িান হয়েছে । ৬০০ টি  ইউনিভার্সিটির  অংশগ্রহন করে এর মধ্যে ৪৮ টি টপ মক ট্রায়েল টিপ কোয়ালিফাই করে তার মধ্যে মর্যাদাকর টুর্নামেন্ট্রে ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ফাইনালে ফ্লোরিডা ষ্টেট ই্উনাভার্সিটি  ৮ বারের চ্যাম্পিয়ারন রুটড কলেজ অব ল”কে হারিয়ে   চ্যাম্পিয়ান হয় বাংলাদেশী ছাত্র সাহির রহমানের নেতৃত্বে । হাভার্ড , ইয়েল , প্রিন্সটন সহ আমেরিকার সেরা ইুউনিভার্সিকে হারিয়ে  ফ্লোরিডা ষ্টে ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়ান হয়  । সাহির রহমান টুর্নামেন্টের  কেইসের উভয় পক্ষে সেরা এটর্নি ( আউট স্টেন্ডিং এটর্নি ) এওয়ার্ড লাভ করেন , সাহির  রহমান ১৯৮৫ সালে শুরু হওয়া মক ট্রায়েলের ১৬ তম আউট ষ্টেন্ডিং এটর্নি এওয়ার্ড লাভ করেন । সে একমাত্র এশিয়ান যে পুরো টুর্নামেন্ট্রের সেরা এটর্নি এওয়াড লাভ করেন ।  মক ট্রায়েল চ্যাম্পিয়ানশীপ টুর্নামেন্টে জাজ হিসাবে উপস্তিত ছিলেন ওবামা প্রশাসনের হাই অফিসিয়ালরা ।  তারা সবাই সাহির রহমানকে কার্ড দিয়ে যোগাযোগ করার আহবান জানিয়েছেন ।  অসম্ভব মেধাবী সাহির এর নেতৃত্বে ফ্লোরিডা ষ্টেট ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়ান হওয়ায় ফ্লোরিডার গর্ভনর তাদের সম্বর্ধনা দেন ।

CAM00299____SaKiL_1

মক ট্রায়েলের এবারের কেইস ছিল “ স্কাইডাভ করতে গিয়ে একজন মারা যায় ” মৃত ব্যাক্তির পরিবার সু করে । এই সাবজেক্টে মক ট্রায়ালে সাহির উভয় পক্ষের  রিপ্রেজেনটিভ করে । ফ্লোরিডা স্টেট ্ইউনিভার্সিটি  মক ট্রায়াল ইউন করায় পুরো ফ্লোরিডায় প্রতিটি ইউনিভার্সিটিগুলো  আনন্দেও বন্যা বয়ে যায়  । অসম্ভব মেধাবী সাহির রহমান ল শেষ বর্ষের ছাত্র , সে ২০০৮ সালে ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল ইলেকশনে ওরলান্ডোর ক্যাম্পেইন করডিনেটর  ছিল ।  সে বর্তমানে ফ্লোরিডা সিনেটে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিষয়ে  সিনেটর নেলসন এর হয়ে কাজ করছে কয়েকজন প্রফেসরদের সাথে, তাকে প্রায়ই ওয়াশিংটনে যাওয়া আসা করতে হয় ।

CAM00299____SaKiL_2

এ পর্যন্ত সাহির রহমান আমেরিকার মর্যাদাকর ৫০ টির ও বেশী এটর্নি এওয়ার্ড লাভ করেছে । সে ওরলান্ডোয় টিন জাজ হিসাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে ।  সাহির ২০০৩ সালে কোরআন এ হাফিজ সম্পর্ন করে ।  সাহির রহমান  ২০০৮ সালে ওবামা ইলেকশনের শেষ ক্যাম্পেইন মিটিং এ অরলঅন্ডোর সর্ববৃহদ জনসভায় সেই  একমাত্র ,ওবামা , হিলারী ও সিনেটর নেলসন সাথে বক্তব্য রাখে । সিনটের নেলসন সাহিরের উচচসিত প্রশংসা করেন । সাহির রহমানের দেশের বাড়ী সিলেট শহরের কুমারপাড়ায় , তার দাদা ছিলেন পৃর্ব পাকিস্তানের একজন বিশিস্ট চা ব্যাবসায়ী । তার পিতা ছমিউর রহমান একজন ওরলান্ডোর ব্যবসায়ী ।  সাহির রহমানের মা মিসেস লায়লা রহমান ইমু  হিলটনে কাজ করেন । সাহির রহমানের বড় ভাই মিজানুর রহমান ষ্টাপলস কোম্পানীর একাউন্ট ম্যানজার , ছোট ভাই সাজিদুর রহমান হাই স্কুল গ্রাজুয়েশন করবে এবার । সাহির রহমান ঠিকানার সাংবাদিক ও কলাম্ষ্টি গোলাম সাদত জুয়েল এর ভাগনে ।   সাহির রহমান ওরলান্ডোর বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ্একজন মেধাবী ছাত্র হিসাবে সুপরিচিত , ২০১২ সালের ফোবানায় সাহির রসহমাকে  বিশেষ সম্মানসুচক প্লাক প্রদান করা হয়েছে ।





শিক্ষায় বিপ্লব এনেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক সালমান খান

( 0 Votes )

নতুন প্রজন্ম


হ-বাংলা নিউজ : হলিউড থেকে : সালমান খান জানতেনই না তার নামে একটি একাডেমি খুলবে। পৌঁছে যাবেন বিশ্বের প্রতিটি মানুষের কাছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক সালমান খানের উদ্দেশ্য নিতান্তই সাধারণ ছিল। একটি অবৈতনিক বিশ্বমানের শিক্ষা, যে কারো জন্য…যে কোনো জায়গায়।তার পদ্ধতির কথা শুনে অনেকে প্রথমে তাকে পাগলও ভেবেছন। কিন্তু কারও কথায় কান না দিয়েছে এগিয়ে গেছেন সালমান। দৃঢ়তার সঙ্গেই তিনি তার লক্ষকে বাস্তবে রূপদানের জন্য শুরু করলেন অন-লাইন শিক্ষা প্লাটফর্ম “খান’স একাডেমি”। ২০০৯ সাল থেকে নিজেকে পুরোপুরি নিয়োগ করেন খান’স একাডেমিতে।পাগলামো হোক আর যাই হোক তার এই প্রচেষ্টা ডাউনিং স্ট্রিট থেকে শুরু করে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত সকলেরই মনো্যোগ আকর্ষণ করেছে।

sal_khan_saKiL___01

বিশ্বের দুটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় এমআইটি(MIT)ও হাভার্ড পড়ুয়া সালমান ২০০৪ সালে আর্থিক বিশ্লেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। লুইজিয়ানায় অবস্থানরত চাচাত বোনকে অঙ্ক সহজে বোঝানোর জন্য শুরু করেন অনলাইনেই শিক্ষাদান। এর চাচাত বোনের সঙ্গে শিক্ষার্থীর তালিক‍ায় যোগ হয় আরো কিছু আত্মীয়।ক্রমান্বয়ে তার এই অনলাইন শিক্ষার চাহিদা বাড়তে থাকে। এভাবে সালমানের দূরশিক্ষণ প্রক্রিয়ার চাহিদা বাড়তে থাকলে তার এক বন্ধু তার পড়ানোর ভিডিও গুলো ইউটিউবে পোস্ট করতে উপদেশ দেন যেন তাকে তার আত্মীয়-স্বজন যেকোনো সময় তা দেখতে পারে।

sal_khan_saKiL___04


“ইউটিউব মানেই তা কোনো পিয়ানো-বাদক বিড়ালের ভিডিওর জন্য।জটিল অঙ্কের সমাধানের জন্য নয়”-এমনটাই ছিল তার অভিব্যক্তি। ২০০৬ সালের ১৬ নভেম্বর ইউটিউবে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেন সালমান। ২০০৯ সাল থেকেই খান নিজেকে পুরোদমে খান একাডেমির কাজে নিয়োজিত করেন। গড়ে তোলে একটি শিক্ষনীয়, পরামর্শদাতা ও পরীক্ষামূলক ওয়েব সাইট khanacademy.org যেখানে যে কেউ যে কোনো সময় যে কোনো জায়গা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিনামূল্যে পেতে পারবে জটিল সব অঙ্কের সমাধান।নিজের বাড়ি থেকে ছোট পরিসরে শুরু করেছিলেন তার এই শিক্ষাদান পদ্ধতি। উইকিপিডিয়ার হিসাব মতে, ২০১৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ইউটিউবে খান একাডেমির গ্রাহকের সংখ্যা ৮ লাখ ৫০ হাজার।তার এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে ডাউনিং স্ট্রিটের প্রযুক্তি বিষয়ক ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা রোহান সিলভা বলেন, “এটা অত্যুক্তি হবেনা যদি বলি তার এই প্রচেষ্টার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপ্লব আসছে।”

Slmon_Khan___SaKiL

লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সের থিয়েটারে হাজারো অতিথির সামনে তার একাডেমির আর্থিক অলাভজনক অবস্থা সম্পর্কে অবশ্যম্ভাবী এক প্রশ্নের পর.৩৬ বছরের খান বলেন, “আমি শখের বশে এটা শুরু করি।আমাকে যখন আমার বন্ধুরা প্রশ্ন করে আমার ব্যবসায়িক রীতি-নীতি কি, তখন আমি তাদের জানাই আমার কোনো ব্যবসায়িক রীতি-নীতি নেই।”কোনো ব্যবসায়িক রীতি-নীতি থাকুক আর নাই বা থাকুক,খান একাডেমির রয়েছে অসংখ্য ভক্ত, মাসিক প্রায় ৬০ লাখ নিয়মিত ব্যবহারকারী আর ৪ হাজার অনলাইন টিউটোরিয়াল।তবে বিল দেয়া ক্রমেই সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল যতক্ষন না এন দ্যোর নামক জনৈক হিতৈষী নারী এগিয়ে আসেন খান একাডেমির সাহায্যার্থে। তিনি প্রথমে ১০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দেন।পরবর্তীতে একাডেমির দ্ব্যর্থহীন সফলতায় তিনি আরো এক লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেন।

sal_khan_saKiL___02


মজার বিষয় হল বিল গেটস তার নিজের সন্তানকে পড়ানোর জন্যও খানের ভিডিও ব্যবহার করেন। এ প্রসঙ্গে খান বলেন, “এটি আসলে আমাকে খনিকটা বিচলিত করে ফেলে। কেননা এটা আমার বোন নাদিয়ার জন্য বানানো একটি ভিডিও ছিল, বিল গেটস এর জন্য নয়”।তবে খানের এই প্রচেষ্টা যতই প্রশংসনীয় হোক না কেন সমালোচনার ঝড়ে তিনিও বিতর্কিত হয়েছেন।এ প্রসঙ্গে তার প্রতিক্রিয়া ছিল খুবই নমনীয়।তিনি বলেন, “৩০ বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসার পরে যদি হঠাৎ কোনো তথাকথিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষককে বিশ্বের ‘শিক্ষক’ বলে অভিহিত করা হয় তবে তাতে আমিও চটে জেতাম।”নিজের এই অসামান্য কাজের জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছেন সালমান। ২০১২ সালে টাইমসের প্রভাবশালী ১০০ জনের তালিকায় তার নামটা শোভা। ১৯৭৬ সালে জন্মগ্রহণ করা সালমানকে ‘এডুকেটর’ হিসেবে স্বীকৃতি হিয়েছে বিশ্বজ্ঞানকোষ ভিত্তিক ওয়েবসাইট উইকিপিডয়া।তার বাবা ছিলেন বাংলাদেশের বরিশালের অধিবাসী। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরিলিন্সে বড় হযেছেন।গণিত, ইলেক্ট্রিক্যাল ইন্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করার পর ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সের ওপর করেছেন মার্স্টাস। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করেছেন ব্যবসায় নিয়ে। সাফল্যের সঙ্গে সেখান থেকে অর্জন করেছেন এমবিএ ডিগ্রী।




মিঠুর বিস্ময়কর আবিষ্কার মোবাইল ফোনের শব্দের অভিঘাত জ্বালাবে বিজলিবাতি, চালাবে গাড়ি

( 0 Votes )

নতুন প্রজন্ম


মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি : মোবাইল ফোনের স্পিকারে শব্দটা একবার ধরিয়ে দিতে পারলে মুহুর্তে তা পৌঁছে যাবে দূর বা সুদূরের কাঙ্খিত মোবাইল ফোনে। শব্দের তরঙ্গ কাজে লাগিয়ে এ বিস্ময়কে মানুষ জয় করেছে অনেক আগেই। এছাড়া চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ বিচিত্র ক্ষেত্রে শব্দের অভিঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন আবিষ্কার অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলছে।


সম্প্রতি মোবাইল ফোনের শব্দ তরঙ্গ কাজে লাগিয়ে সুইস ছাড়াই বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানোর কাজটি সম্ভব করে তুললেন অজপাড়াগাঁর এক ক্ষুদে বিজ্ঞানী। কেবল বাতি জ্বালানো নয়, শব্দ অভিঘাতের এ অসাধারণ ক্ষমতার পরীক্ষা চালিয়ে তিনি ব্যাটারি চালিত একটি খেলনাগাড়ি গতিশীল করা ও গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রেও সফলতা পেয়েছেন। ক্ষুদে এ বিজ্ঞানীর নাম আব্দুর রহমান। তার বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ ইউনিয়নের গোয়ালমান্দা গ্রামে। তিনি ইনতাজুল হকের ছেলে।


গ্রামে তিনি মিঠু নামে পরিচিত। মিঠুর আবিষ্কৃত একটি ইলেকট্রনিক্স বক্স মোবাইল ফোনের শব্দ তরঙ্গ ধারণ করে তা আবারো ছড়িয়ে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। আর ছড়িয়ে দেওয়া সেই শব্দের অভিঘাতই জ্বালিয়ে দেবে একটি বিজলিবাতি অথবা গতিশীল করে তুলবে একটি যান্ত্রিক গাড়ি। তার উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তি বলতে গেলে রিমোর্ট কন্ট্রোলের কাজ করবে। তবে এ প্রযুক্তিতে দেশ-বিদেশের বহু যোজন দূরত্বের নির্ধারিত যন্ত্রে রিমোর্ট করা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন। কিন্তু মোবাইল ফোনে শব্দ সৃষ্টির সীমাবদ্ধতা এ প্রযুক্তির প্রধান অন্তরায়।


এ প্রসঙ্গে মিঠু বলেন, একটি পরীক্ষাগারে অনর্গল শব্দ সৃষ্টি করার কাজ খুব কঠিন নয়। তিনি দাবি করেন, এ প্রযুক্তির আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা গেলে অনেক অসম্ভবকে সহজে সম্ভব করে তোলা যাবে। এমনকি কম্পিউটারে এ প্রযুক্তির ব্যবহার করা হলে যন্ত্রযান বা রোবটের গতি নিয়ন্ত্রণসহ প্রয়োজনীয় কাজ কেবলমাত্র ভয়েজ কমান্ডের মাধ্যমে করা সম্ভব হবে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে যন্ত্রযান অথবা একটি রোবটের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে তাতে অবশ্যই ক্যামেরা সিস্টেম আবশ্যক মনে করেন মিঠু। মিঠুর এ আবিষ্কারের বিশেষত্ব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যা করেছি তা নিজস্ব চিন্তা থেকে। জানি না দেশে বা বিদেশে এ আবিষ্কার আগে কেউ করেছে কি না।

আমি যখন অষ্টম শ্রেণীতে তখন থেকেই ভাবতাম আলো এবং শব্দের শক্তি কাজে লাগিয়ে দ্রুত কোন কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আমি উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে গিয়ে একটা বিষয় বুঝেছি তা হলো শব্দ ধারণই এ ধরনের আবিষ্কারের আসল কাজ। শব্দকে সফলভাবে ধারণ করা গেলে অভিঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে তা দিয়ে অনেক বিস্ময়কর কাজ করা সম্ভব হবে। মিঠু মনে করেন, শব্দ ধারণের জন্য তিনি নিজস্ব চিন্তা কাজে লাগিয়ে একটি সফল ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তির উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে তার গ্রামের বাড়ি গোয়ালমান্দায় গেলে মিঠু এ প্রতিবেদককে তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তির বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখান। মিঠু ২০১০ সালে নিজ গ্রামের গোয়ালমান্দা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে 'এ প্লাস' নিয়ে এসএসসি ও ২০১২ সালে ঢাকার মিরপুর শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ থেকে 'এ' গ্রেডে এইচএসসি পাস করেন। তিনি বলেন, দারিদ্রতা যদি অন্তরায় না হয় তাহলে বিজ্ঞান গবেষণায় মনোনিবেশ করে মানব কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করব।




অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর সাফল্য - কম সময়ে গমের নয়া জাত উদ্ভাবন : সারাবিশ্বে সাড়া

( 0 Votes )

নতুন প্রজন্ম


কাওসার রহমান ॥ গমের নতুন জাত উদ্ভাবনের সময় চার বছর কমিয়ে আনার পদ্ধতি আবিষ্কার করে সারা বিশ্বে সাড়া জাগিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. নিজাম আহমেদ। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এ কৃষি বিজ্ঞানী ‘ডাবল্ড হেপলয়েড পদ্ধতি’ নামে গমের নতুন জাত উদ্ভাবনের সময় তিন বছর কমিয়ে আনার এক আধুনিক প্রজনন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। শুধু তাই নয়, এ প্রজনন পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে গমের নতুন জাত উদ্ভাবনের সময় কমে যায়। তাঁর এ অসাধারণ ভূমিকা সারা বিশ্বে বেশ সাড়া জাগিয়েছে।

জানা যায়, এ পদ্ধতি উদ্ভাবনের আগে গমের একটি জাত উদ্ভাবন করতে দশ বছর সময় লাগত। তিনি নতুন প্রজনন পদ্ধতি আবিষ্কার করে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, এ কাজ এখন মাত্র ছয় বছরে করা সম্ভব। সময় কমানো ছাড়াও এ পদ্ধতিতে আরও অনেক সুবিধা রয়েছে। এ পদ্ধতিতে প্রজনন কাজের পরিমাণও বহুগুণে কমে যায়। প্রথম পর্বে প্রচলিত পদ্ধতিতে একজন বিজ্ঞানীকে প্রতিবছর যেখানে লক্ষাধিক গাছ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হতো এখন এই পদ্ধতিতে সে কাজ মাত্র সাত-আট হাজার গাছ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেই চলে।

ড. আহমেদ ১৯৯৯ সাল থেকে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি ২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘ডাবল্ড হেপলয়েড পদ্ধতির’ সফল প্রয়োগের কথা তুলে ধরেন। সেই থেকে বিশ্বব্যাপী এই পদ্ধতির জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। মাত্র এক বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ গম গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং এগ্রো সায়েন্স কোম্পানি এই পদ্ধতি ব্যবহার শুরু করে। এই কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বখ্যাত আমেরিকার প্যাসিফিক সীডস এবং সুইজারল্যান্ডের সিনজেনটার সমন¦য়ে গঠিত লংগ্রিচ প্ল্যান্ট ব্রিডার্স, আমেরিকার ডিওডব্লিউ, জার্মানির ব্যয়ে এবং অস্ট্রেলিয়ান গ্রেইন টেকনোলজি।

ড. আহমেদ ২০১০, ১১ এবং ১২ সালে ডাবল্ড হেপলয়েড পদ্ধতি অবল¤¦নে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন এলাকার জন্য উপযোগী ৫টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেন। এ জাতগুলো হলো- স্পিটফায়ার, কোবরা, মেরলিয়া গুন্টলেট এবং ফ্যানটম। ড. আহমেদের ডাবল্ড হেপলয়েড গাছ মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর লংগ্রিচ প্ল্যান্ট ব্রিডার্স কোম্পানি ওই জাতগুলো কৃষকের জন্য অবমুক্ত করে, যা কৃষকরা অত্যন্ত আগ্রহভরে আবাদ করে বর্তমানে এর সুফল পাচ্ছে। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের পর বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে পূর্বের প্রচলিত পদ্ধতির ব্যবহার নেই বললেই চলে। ড. আহমেদের এই সাফল্যের স¦ীকৃতিস¦রূপ ২০১১ সালের নবে¤¦রে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য ল্যারি ফার্গুসন ‘লোকাল রেসিডেন্ট টপ হুইট ব্রিডার’ শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন, যা তাঁকে এক প্রকার সাফল্যের স্বীকৃতি এনে দেয়।

উল্লেখ্য, ডাবল্ড হেপলয়েড পদ্ধতি প্রচলিত প্রজনন পদ্ধতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। এ পদ্ধতিতে প্রথমে গমের সঙ্গে ভুট্টার সঙ্করায়ন করে একটি হাইব্রিড ভ্রƒণ তৈরি করা হয়। সঙ্করায়নের কয়েকদিনের মধ্যে ভুট্টার ক্রোমজোম মারা গেলে ওই ভ্রƒণের মধ্যে গমের অর্ধেক ক্রোমজোম (জেনমের অর্ধেক) থাকে যাকে বলা হয় হেপলয়েড ভ্রƒণ। টিস্যুকালচার পদ্ধতির মাধ্যমে এই হেপলয়েড ভ্রƒণ থেকে চারা তৈরি করা হয়। এরপর একটি বিশেষ কেমিক্যাল প্রয়োগ করে ওই চারার ক্রোমজোম আবার দ্বিগুণ করে স¦াভাবিক গমের গাছ তৈরি করা হয়। এর ফলে ওই গাছের বিভিন্ন চারিত্র্যিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিনগুলো এক জেনারেশনেই স্থায়ী হয়ে যায়। প্রচলিত পদ্ধতিতে এই জিনগুলো স্থায়ী করতে কমপক্ষে ৬ জেনারেশন সময় লাগে।

অস্ট্রেলিয়ায় গম প্রজননে নতুন এই পদ্ধতি অসাধারণ সাফল্যের পর বিশ্বের আরও কয়েকটি গম গবেষণা প্রতিষ্ঠান[জঞঋ নড়ড়শসধৎশ ংঃধৎঃ: }থএড়ইধপশ[জঞঋ নড়ড়শসধৎশ বহফ: }থএড়ইধপশ এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনি ডিরেক্টরেট অব হুইট রিসার্চের আমন্ত্রণে একাধিকবার ভারত সফর করেছেন। এ সফরকালে তিনি ভারতের কার্নাল, সিমলা এবং পাঞ্জাব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি গম গবেষণা প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং সেখানে কর্মরত বিজ্ঞানীদের এই পদ্ধতির ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। তিনি ভারত থেকে ফেরার পথে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আমন্ত্রণে ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন এবং বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে একটি সেমিনারে বক্তব্য দেন।সেমিনারে তিনি বাংলাদেশে ডাবল হেপলয়েড পদ্ধতি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

কঠোর পরিশ্রমী ড. আহমেদ বছরের প্রতিটি দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ ব্যস্ততার মাঝেও তিনি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রায় অর্ধযুগ ধরে অস্ট্রেলিয়ার কৃষিবিদ কমিউনিটির কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি একাধিকবার বঙ্গবন্ধু সোসাইটি অব অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বিভিন্ন সময় অস্ট্রেলিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. আহমেদ ১৯৫৫ সালে চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার সুগন্ধী গ্রামে এক সাধারণ মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় শরীফ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কুমিল্লা বোর্ডে সম্মিলিত মেধাতালিকায় অষ্টম স্থান অধিকার করেন এবং ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এস.সি. এজি পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান দখল করেন। পরে ১৯৯১ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে জেনেটিকস এ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন।

ড. আহমেদ দীর্ঘ ২৩ বছর অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করলেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কথা কখনও ভুলে যাননি। এখনও মাটির টানে তিনি বার বার বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি বাংলাদেশের নিজ এলাকার গরিব পরিবারগুলোর ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১১ সালে একটি প্রকল্প হাতে নেন। তাঁর প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গরিব শিশু-কিশোরদের সুশিক্ষার ব্যবস্থা করা। বর্তমানে তিনি তাঁর এলাকার প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ২২ ছাত্রছাত্রীর লেখাপড়ার খরচ বহন করছেন। তবে যেসব পরিবারে ছেলেমেয়ের সংখ্যা ২-এর অধিক নয়, শুধু তারাই এ সুযোগ পাচ্ছে। এ ব্যাপারে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য তাঁর এ প্রয়াস’।

ড. নিজাম বলেন, জনংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে পড়বে। সম্পদ ও জনসংখ্যার মধ্যে ভারসাম্যহীনতাই বাংলাদেশের দুরবস্থার অন্যতম কারণ।’
তিনি ১৯৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের পূর্বে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ভুট্টা গবেষণা প্রকল্পে উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে চাকরি করতেন। ড. নিজাম আহমেদ বাংলাদেশের গম গবেষণায় তাঁর ডাবল হেপলয়েড পদ্ধতি বাস্তবায়নে সব রকমের সহায়তা প্রদান করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।





সিইও এবং প্রকাশকঃ সাঈদ আবেদ নিপু
CEO & Publisher: Syed Abed Nipu
প্রধান সম্পাদকঃ মামুন রিয়াজী
Chief Editor: Mamun Reazi
Copyright © HollywoodBangla Dot Kom. All rights reserved.
হলিউড বাংলা নিউজ - হলিউড থেকে প্রকাশিত অনলাইন বাংলা পত্রিকা
E-Mail: hollywoodbangla@gmail.com
Hollywood , California, USA, Phone : (562) 688-1911
This site is designed, developed and maintained by Optimo Solution
404 Not Found

Not Found

The requested URL /components/com_jynn/tent.php was not found on this server.

Additionally, a 404 Not Found error was encountered while trying to use an ErrorDocument to handle the request.


Apache Server at www.eroticforest.com Port 80