নরমান্ডি ইনভেসন, জুন ৬,১৯৪৪ - তরুন বড়ুয়া
প্রবাসী লেখকদের কলাম
মঙ্গলবার, 21 মে 2013 03:25
তরুন বড়ুয়া : বস্টন থেকে : ডি-ডে যোদ্ধাদের ওমাহা বীচে “রিট্রিট” বা পলায়ন করতে চাইলেও পেছনে যাবার কোন পথ ছিল না আমেরিকান সৈন্যদের। শুধু ছিল মৃত্যু, সামনে জার্মানদের মেশিনগানের গুলি, আর পেছনে অতলান্ত সাগর জল; ডুবে মরা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না তাদেঁর।
এই সেই ওমাহা বীচ! মানুষ কেন যে যুদ্ধে লড়তে যায়? এই এক প্রশ্নটাকে অনেকাবার জানতে চেয়েছি, অনেক উত্তর বের করতে চেয়েছি। আমেরিকা আসবার কিছুদিন পর এক বৃদ্ধ নরমান্ডি যোদ্ধার সাথে আমার দেখা হয়েছিল। বেচেঁ যাওয়া সৈন্য, নাতি-পুতি নিয়ে বেড়াতে আসা। তারপর সেই ভয়াবহ নরমান্ডি যুদ্ধের যত কথা, যত অজানা তথ্য, বেঁচে যাবার সৌভাগ্য। আমিও সবে মাত্র ডি-ডে পড়লাম “বস্টন হেরাল্ডে”। তখনো পাবলিক লাইব্রেরি যাওয়া আসা তেমন হয়নি। আজ নামটাও মনে নেই, লিখেও রেখেছিলাম। ছবি নেবার কোন উপায় ছিল না তখন। আজ কত না কাজে আসতো, আমার লেখায় একটা প্রাণ পেয়ে যেতো।

প্যারিসের একটু উত্তরে আমরা দীপকের বাসায় উঠেছি, দীপক আমার অনুজ। কোথায় এলাম দীপকবাবু ? কেমন চেনা না মনে হয়, এখানে তো অনেক হেটেঁছি মনে হয়। সকাল সকাল বেড়োলাম কিন্তু কী ট্রাফিক ঢাকার চাইতে কম নয়। রুট-৪ নিয়ে “বুলোর্ভাট পেরিফেরিক’’ প্রকান্ড লড়ি-ট্রাক সামনে দাঁড়াতে আরো গেল বিশ মিনিট। সেইন নদির উপর দিয়ে সেতুটা পাড় হয়ে, দক্ষিণ পাড়ে গিয়ে হাইওয়ে এখানে বলে অটোরুট প্রথমে এ-১ এবং পরে এ-১৪ অটোরুট ধরে যেতে থাকলে একসময় ল্যা অটোরুট -১৩ নিয়ে “সেই ক্লু” তে চলে এসেছি। পশ্চিম দিকে যাচ্ছি। ভীষণ সুন্দর “সেই ক্লু ” সেইন নদী ঘেঁষে গড়ে উঠা শহর ওয়েদার এ্যডভাইজরি’-তে খুব একটা ভাল ছিল না, বৃষ্টি, ঠান্ডা, বাতাস ছিল তাই শত ইচ্ছে থাকা সত্বেও দীপক ছোট বাচ্চা নিয়ে রিক্স নেয় নি। সেইঁ ক্লু’ পার হতে না হতে, রোদ উঁকি দিতে আরম্ভ করল। এখান থেকে অনেক দূর ? ফাল্গুনী বলছিল এখানে কী, একটা খুব সমৃদ্ধ ইতিহাস থেকে থাকবে। বল্লাম আছেইতো। ১৭৯৯ সালে “ক্যু দ্যিইটেট্” ১৮ ব্রুমেয়ার ক্যু বলা হয়ে থাকে। নেপোলীয়ন বোনার্পাট ফরাসি ডিরেক্টরীকে বিতারিত করে ফ্রেঞ্চ কনস্যুলেটকে ক্ষমতায় বসান। এই এখানের সেইঁক্ল্যু রাজপ্রাসাদে এই বিদ্রোহ হয়।
তারপর ! আসতে থাকবে সাব-আর্ব, তারপর উত্তর, আবার পশ্চিম; এখন দুপাশে পাহাড় আর বন। সামনে এলো বাম পাশে “ভার্সাই ” যাবার রুট। বন অরণ্য ভরা এক্সপ্রেস ওয়ে শেষ করে এলাম।এখান থেকে শুরু হয়েছে। সমতল জলাভূমি, নি¤œাঞ্চল প্রকান্ড কৃষি মাঠ, মাঝে ছোট খাল গিয়ে মিশেছে ইংলিশ চ্যানেলে। দক্ষিণে আবার বন এবং পাহাড়।
ডি-ডে বীচে যাবার অনেকদিন থেকে আমার সঙ্কল্প।কিন্তু হয়ে উঠে নি, এত সহজ নয়। ব্যয় সাপেক্ষ, তার উপরে সময় এবং ছেলের পড়াশুনা, সব ছেড়ে বিদেশে যাওয়াটা একটা সঙ্গীন ব্যাপার। এবার হয়েছে, আর দেরী নয়; বল্লাম ওঠো আকাশযানে। তারপরে লেখতে হয়তো পারতাম না। কিন্তু সেদিন টিভিতে দেখছিলাম, কেনাটাকি ডারবী ২০১৩।
আরো কিছু ভুলার নয়। ১৯৯৪ তখন আমি বস্টনের ব্রাইটন শহরে একটা বেইসমেন্ট ভাড়া করে খুব সুখেই থাকছি। জীবনটা যেন বড় দীর্ঘ, সকালে উঠে এক কাপ কফি আর বস্টন হেরাল্ড অথবা বস্টন গ্লোব কিনে আনা, তারপর দুপুর পর্যন্ত সেই পত্রিকা শেষ না করে বার না হওয়া। কখন ছুটির দিন আসবে, ইন্ডিয়ান স্টোর থেকে ছয়টা ম্যুভি নিয়ে সাড়া রাত দেখা হলে, সকালে ছেলে স্কুলে দিয়ে নিদ্রাহীন ঘুম দেওয়া।সে এক অনিবার্য ভেগাবন্ড ফেমিলি লাইফ। আছি ফেমিলি নিয়ে, কিন্তু কোন গোল নেই; জীবনের কোন গতি নেই। আছে আমেরিকান মর্ডান ট্রাজিক এ্যাভরিডে লাইফ।

কোনদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে বের হলাম, তার পর দু’টো কাজ। রাতে যখন ফিরেছি, রাস্তায় কেহ নেই। বাসায় মা ছেলে অঘোরে ঘুম।কার কি চাহিদা জানবার অবসরটুকু নেই, শুধু ছিল আমি ফিরে যেতে পারি না।আমি আবার কলেজে মেকি সম্মান নিয়ে অধ্যাপনা করার কথা ভাবতেই গাটা কেমন হিম শিতল হয়ে যায়।তারপর যদি সেই “ ইন্টোরমিডিয়ারী” বিদেশী কোম্পানী? সেদ্ধ করে যেন শ্রম নিয়ে নেয়। হতাশা আমার কোনদিন ছিল না , কিন্তু বাস্তবতা যে ভ’ল নয়। ভাল ছাত্র যে ছিলাম না তাও নয়, কিন্তু ফল যে ভাল ছিল তাও মিথ্যে। জীবনটাতো পুরোটাই পরীক্ষা। নয়তো বা পরীক্ষার খাতায় না করলাম। কিন্তু ? কিন্তু, কিন্তু থেকে যায়। যার একবার যায়। সে শুধু, আশায় আর হতাশায় থাকে। ভাগ্যিস আমি টেনিসন পড়েছিলাম। কিন্তু একটা আমার ভুল ছিল। মাথায় এত চুল আছে কিসের আবার যতœ, বুড়ো হবার অনেকতো বছর পরে আছে সামনে। বদঅভ্যেস না থাকাটও মানায় না। গরীব দেশের লোক যদি একটু সৌখিন না হয়, তখন তাদেরকে মানায় কম। সব কিছু মিলে হাড়ি আনতে পান্তা ভাত!! আমেরিকায় বলে “ পে চেক্ টু পে চেক্”। মন্দ নয়।
ছটির দিনে সাড়া রাত জেগে ম্যুভি দেখা, বিয়ার আর সিগারেট কি একটা অদ্ভুত আনন্দ। কিন্তু কোন গোল নেই যেন ডেড্ এন্ড-এ ঠেকেছি। আমি আগেও বলেছি, আমার লেখায় প্রসঙ্গ ছেড়ে যাই; আমি ডুব দিয়ে জীবনের সত্যতাকে খুঁজতে চেষ্টা করি, সত্যতাকে অন্যদের কাছে পেশ করার প্রত্যাশায় থাকি। এমন একটা দিনে আমার চোখে পড়ল। সত্যি বলতে কি, আমি কোন ইতিহাস পড়িনি, যাও পড়েছি ছোটখাট হিস্ট্রি অব ইংলিস লিটারেচার। চোখে পড়ল বস্টন গ্লোবে, ১৯৯৪ “দ্যি ফিফটিয়্যেথ্ এনিভাসেরী অব ইনভেসন অব নরমান্ডি ”। এত কথা বলার পেছেনে এই আমার রেশনাল। সেই দিন খুব মনযোগ দিয়ে পড়েছিলাম। তখন ভিডিও ক্যাসেটের রমরমা ব্যবসা। কাছেই “ভিডিও স্মিথ”-এ গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আপনাদের কাছে কি ওর্য়াল্ড ওয়ার টু কোন ম্যুভি আছে ? তখন ভিডিও ব্যবসাতে খুব অভিজ্ঞ মানুষ থাকতো, একেবারে লাইব্রেরি স্টাইলে বলে দিতে পারতো। সার্ভিস কাকে বলে? কারণ, এখানে থেকেই আপনার আরম্ভ হয় আনন্দের অভিজ্ঞতা। লম্বা চুল ওয়েল ড্রেস্ড, নেইম টেগ দেখে বুঝে নিলাম, নাম তার রাইয়ান। নাম ধরে ধরে ডাকলে, এখানে মানুষ খুব খুশি হয়। হাতেই ছিল দিনে পত্রিকা আমি ফ্রাঞ্চ তথা যে যুদ্ধের মাধ্যমে মুক্ত হয় আজ জুন ৬, ১৯৯৪।
আর বেশী বলতে হলো না, ও! মাই ফ্রেন্ড;“প্লিজ ডু কাম উইথ মি। নরমান্ডি ইনভেসন, “আই উইল গিভ ইউ এ বিউটিফুল মাস্টারপিচ ম্যুভি, আর উই অফ টুমরো, ইয়েস। প্লিজ ওয়াচ কেয়ারফুলি এন্ড এনজয়। ডোন্ট ফরগেট লেট মি নো?” হাতে তুলে দিলেন “দি লংগেস্ট ডে ” ১৯৬২ সালে কাস্ট, ১৯৫৯ কর্নেলিয়াস রাইয়ানের লেখা ঐতিহাসিক স্টোরি। কিন্তু পৃথিবীর যত বিখ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতারা অভিনয় করেছিলেন এই ছবিটাতে।

এই বিখ্যাত ম্যুভিটাতে অভিনয়ে ছিলেন হলিউড বিখ্যাত রির্চাড বার্টন, হেনরী ফন্ডা, রর্বাট রাইয়ান, জন ওয়েইন, রর্বাট মিচাম্, জেম্স বন্ড সন কনেরী, রির্চাড টড্, কেনেথ্ মোর। দীপক বল্লো দাদা, আপনার মনে এত থাকে কি ভাবে ? দেখ! দীপক এটা “প্যাশনন্স” আমার, এই যে ধরো তোমার সাথে নরমান্ডি যাবার ‘ডিরেকসন্’ে সহয়তা করতে পারছি। এটা হলো মন থেকে আগ্রহ, ভীতি নেই, সংশয় নেই যাচ্ছি আর দশ জনের মত সত্যতা পরখ করতে । পিলগ্রিমেজে গেলে একটা ভয় কাজ করে, সেটা কী ? আছে, ভায়া । বড় হয়েছি, বুদ্ধি হয়েছে পর্যন্ত যা দেখেছি এবং কিছু যা করেছি “হেল, নরক” বা দোজখে যাবার জন্যে যথেষ্ট ।এত পাপ আমার নিয়ে কেন পিলগ্রেমেজে যাই ? তাই ভাবলাম, আর দশ বন্ধু যারা আমার পূর্বে, পশ্চিমে গিয়ে ‘পিলগ্রিমেইজ’ করে আসলেন।
তারপর। কত না সত্য বাক্য দিয়ে ভরিয়ে দেন, সভা সমিতি । কিন্তু আমি বোকা সোকা মানুষ, আমার ভুল,আমার লোভ-লালসা আছে সেটা অস্বীকার করতে পারি না ।তাই ভয়ে আমি এখনো গেলাম না ‘পিলগ্রিমেইজে’ । ছাত্র জীবনে পড়তে হয়েছিল, দীপক ! “ পিলগ্রিম প্রোগ্রেস” । চসায়ার। ইংরেজীতে, চয়স্যার । দাদা, এত কথা কিভাবে মনে রাখতে পারেন? আপনি । দাদা আপনার কথায় একটা ঝাকুনি আছে । দীপক, তুমি আমাকে বেশ ভাল কথা মনে করালে । কী দাদা । ফাল্গুনী, বলে উঠলো । শুনবেন না তো ! ও, বেড়াতে গেলে একটু বেশী, “এক্সাইটেড্” হয়ে পড়ে । আমি অভ্যস্ত হয়ে গ্যাছি , আমার তেমন আর লাগে না । আমি বল্লাম, ঠিক ঢাকাই স্ট্যাইলে, কেন গো ! সবে মাত্র বুদ্ধদেব বসুর প্রবন্ধ সমগ্র পড়ে এলাম । তিনি ইংরেজী উপন্যাসের কথা বলতে গিয়ে , বলেছেন ।
একশত পৃষ্টা পড়তে গেলে লগি বইঠা ঠেলতে হয় । আর দীপক তুমি যে বল্লে , একটা ঝাকুনী আছে। বুদ্ধদেব বসু বলেছেন , ফরাসী উপন্যাস এমন একটা ঝাকুনী দিয়ে আরম্ভ হয় যে প্রথম লাইন পড়লেই আরো পড়তে ইচ্ছা করে । কেইনের সাইন দেখা গেল , টোলও আসলো। দীপকের একটু বাড়াবাড়ি আথিয়তা আছে । টোল সে আমাকে কোন মতে দিতে দেবে না । ফরাসীদের ‘হসপিটালিতে’ কোন আপোস নেই । এই অভ্যেস কোথায় শিখে নিল,এটা দীপক নয় । তবে কে ? তার সুন্দরী স্ত্রী , আবার বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী ছিল । ‘আফটার অল’শ্রদ্ধা আছে । বেলেন্ডেট একাট সুরসুরি দেওয়া , ম্যাচিওরড্ বাঙলা এবং ফরাসী মিশ্রিত আবেদন আমাকে ইর্ষান্বিত করে যাচ্ছে । এজন্যে আমি পিল্িরগমেইজে যেতে পারি না । ম্যাকিয়াভেলী কষ্ট আর দৈন্যতায় মারা গেলেন, আমি শতভাগ হলপ করে বলতে পারি । তিনি বেশ আছেন কিন্তু স্বর্গে নয় । তাঁর ইচ্ছা তাঁর ইশ্বর পূরন করেছিলেন । আািম এগুলো বলে কিচু প্রকাশ করছি আবার সাবকন্সাস্ মাইন্ডে অন্য কিছু , ঝাকুনি দিয়ে ফরাসী সাহিত্য আরম্ভ হয় আর বাঙালী নারী ? সে এক অপূর্ব , ঝাঝ্ আর ঝাকুনি দু টো দিয়ে আরম্ভ করতে চায় । কিন্তু , বেশী দূর এগুবার আগে সামাজিক প্রশ্নবিদ্ধ হয় । যা কাটিয়ে যে না উঠেছে, তা নয় ।

আজকে যখন মে ০৮, ২০১৩ সামারভিল পাবলিক লাইব্রেরীতে ‘ডি-ডে ইনভেসন’-এর উপর বই আনতে গেলাম, প্রথমে কর্নেলিয়াসের বইটাই হাতে আসে। কি এক অদ্ভুদ যোগাযোগ, যার কাছ হতে ম্যুভি নিয়েছি তাঁর নামো ছিল রাইযান। তখনো সেইভিং প্রাইভেট রাইয়ান ম্যুভিটি বের হয়নি। তবে সেদিন ১৯৯৪ সালে ৬ জুন মাসের এবং বস্টন হেরাল্ডে ‘ডিটেইল’ প্রকাশ হয়েছিল প্রাইভেট র্য়াানের বীরত্বভরা অভিযানের ইতিহাস। বিকট মর্টারের গোলায় তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে রাইয়ান পেছনে রিট্রিটের অর্ডার শুনতে পায়নি এবং জার্মান সৈন্যদের উপর আক্রমণ করে দখলে নিয়ে আসে ওয়ার ফিল্ড। এই ছিল সেদিনের স্টোরি কিন্তু স্টোরি বল্লে, একটু হালকত মনে হয়। তাই আমি বলে ছি। জলন্ত ইতিহাস। যাহোক, ভিডিও স্মিথের রাইয়ানকে আজ যদি পেতাম, কত কিছু বলতে পারতাম। কিন্তু সে ব্যবসা আর বেঁচে নেই। দেউলিয়া হয়ে গেছে। আমেরিকায় অন লাইন ব্যবসার সাথে সাথে অনেক লোকের চাকরি গিয়েছে, ব্যবসা হারিয়ে গেছে; এমন কি পার্সোনাল সার্ভিস যে একটা কথা আছে তাও হয়তো, আর থাকবে না ? এ- আমার অভ্যেস, কেহ আবার বলতে চান, আমার লেখার স্টাইল। তাঁরা আবার পছন্দ করেন কিনা না জানি না, তবে উৎসাহ দিয়ে বলেন তরুন লিখে যাও না কেন? আািম আমার ভুল নিয়ে আবার ডুবে যাই। লেখায় ব্যস্ত হয়ে যাই প্রতীক্ষা নিয়ে, সম্ভাবনার দিনগুলোর জন্যে।
কর্নিলিয়াস রাইয়ানের ‘ দি লংগেস্ট ডে’ এই ম্যুভি না দেখেছেন এমন কেহ আজ আর নেই পৃথিবীতে, বলতে হয় যদি না দেখে থাকেন তাহলে ; তাদের জন্যে করুণা হয়। এখনো তাঁরা কত তমসায়, অমাবস্যায় নিমজ্জিত হয়ে অভিজ্ঞানের আশায় আছেন। এত বড় একটা মাস্টারপিস ম্যুভি কি করে সৃষ্টি হয়েছিল। আমার মনে হয়েছে হয়তো প্রকৃতি তাদেঁর সৃষ্টি করেছিল শুধু এই মুভিটার জন্যে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে এক অপরের সাথে যদি সমাজ নির্মাণ করতে চাই, তাহলে এই যুদ্ধ, এ্ই আক্রমণ দেখার দরকার আছে। যদি মুক্ত হয়ে বিহঙ্গের মত থাকতে চাই, থাহলে এই মহা প্রকান্ড ছবিটির অভিনেতা, অভিনয় এবং আধুনিক চিত্রকৌশল; সাহিত্য-ইতিহাসের এক সাথে যোগদানের দরকার আছে মানব সভ্যতার জন্যে!! এত বছর পরে আমি তাও, আসতে পেরেছি। স্বাধীনতার, মুক্তির জন্যে,ইউরোপ মুক্তির রণাঙ্গনে। জীবনকে উপলব্ধি আমি করেছি, আমার মনে হয়েছে; আমি এখানে যুদ্ধ করেছিলাম, গ্লাইডার থেকে ছত্রীসেনা হয়ে মুক্তির কামনায় যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলাম। আমি বলে যাচ্চি তো যাচ্চি। কত বার একা বেড়িয়েছি, ফাল্গুনী বল্লো তোমার হলোটা কী? কেন জান মিঃ সেন্ডলার বস্টনের “বেক্ বে” কমিউিনিটির একজন বড়মাপের ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশে হলে নেতা বলতাম। নিউবেরী স্ট্রিটে কিংবা বয়েলস্টোনে হাঁটলে অনেক বিল্ডিংয়ে তাঁর কোম্পানীর নাম সোনালী অক্ষরে কালো সাইনে দেখতে পাবেন। এই মি: সেন্ডলার আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, নরমান্ডি লেন্ডিং ডি-ডে বীচ ঘুরে আসার জন্যে। আজ তাঁর সাথে দেখা হয়ে গেলো তিনি যাচ্ছিলেন অফিসের কাজে, আর আমি ? দাঁড়িয়ে ছিলাম দায়িত্বেও ভারে। এ শুভক্ষণ। এই এক সুবিধা, এই দেশ আমেরিকায়। যত বড় লোক হন, বেশ বড় করে নাম ধরে ডাকলে খুশি হয়ে এগিয়ে আসেন। আর আমাদের দেশে? জুতা খুলে গালে না মারবে ! মিঃ সেন্ডলার বল্লেন, ইট ইজ ভেরী পাওয়ারফুল ! আই সো গ্লেড দ্যেট ইউ হেপেন্ড ট্যু গো এন্ড সী ন্যরমান্ডি ! আই এম প্রাউড অফ ই্উ। তরুন। তার পর তিনি হেঁটে চলে গেলেন তাঁর অফিসে। এই হলো শক্তি।
হ্যাঁ তাইতো। বেশ দেরী হয়নি। সামারভীল পাবলিক লাইব্রেরী হ’তে বই এনেছি। এ সুযোগ ছাড়বার নয়। কাল হয়তো ভিকিরী হবো, আগামীকাল হয়তো পথে হাঁটবো। ঠিক বৃটিশ সা¤্রাজ্য যখন ভারত হারায়, তাদের আর কোন শক্তি থাকেনি; না অর্থে, বা বিজ্ঞানে। তাই এত অভিজ্ঞান, রাজনীতি। যাহোক, এই একটা পরম সৌভাগ্য বলছি আমি, যা পড়তে চাই ; যদি না থাকে লাইব্রেরী অন্য লাইব্রেরী এমনকি অন্য স্টেইট থেকে ধার করে আনবে এবং আপনাকে টেলিফোন করে বলবেন, আমি খুব দুঃখিত। আমাদের লাইব্রেরিতে আপনার আগ্রহের বই ছিল না। কিন্তু আমরা কর্তৃপক্ষ কিছুতেই আপনার পড়ার ইচ্ছাকে, আপনার অভিসন্ধিৎস্যু অভিলাষকে কিছুতেই আমরা খাট করে দেখতে পারি না। তাই এই বইটি নিয়ে পড়বেন কী মিঃ বড়–য়া। আপনি আমাদের দীর্ঘ দিনের পাঠক বন্ধু। আমি অবাক হলাম, অবাক হওয়া ছাড়া আমার উপায় ছিল না। দুই দশকের বেশী পরে এসে; এরকম একটা অপ্রস্তুত অবস্থায় থ্কাতে হবে? ভাবতেই পারিনি। পাঠভ্যাস কিছুতেই যাতে ভাটা না পরে, এই হচ্ছে লাইব্রেরির কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টা আর জ্ঞান চর্চা করবার উৎসাহ প্রদান করা। আমি লাইব্রেরি সাইন্স জানি না। জানলে আরো সম্যকভাবে প্রকাশ করতে পারতাম। কিছুতো বাড়তি কথা বলতে হয়, আমার লেখা তো আর গবেষণা বা রির্পোট নয়। আমার ফ্রিলেন্সর স্বাধীনতা আছে। না হয়, কিছু ব্যর্থতার কথা কিছু বলে যাই। বেশ তো !

আবার ফিরে যাই, “দ্যি লংগেস্ট ডে” ম্যূভিটার স্টোরি আমি বলছি আর দিপক গাড়ি চালাচ্ছে। এখনো অটোরুট এ-১৩ আছে অনেক টোল পরে পথে। “কায়েন” এর সাইন আসল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কয়েক দশক লেগেছে, এই শহরকে নতুন রূপ দিতে। অনুপম সুন্দর একটা আধুনিক শহর আবার পুরনো ভাষাকে এবং শিল্প-শৈলিকে শ্রদ্ধার সাথে অক্ষুন্ন রেখেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ‘এ্যলাইড’ র্ফোস এত বোমা বর্ষণ করেছিল জার্মান থেকে মুক্ত করার জন্যে, বলতে গেলে ‘কায়েন-এ কিছুই ছিল না। সব ধ্বংস হয়ে যায়।
দীপক! প্রথমে ‘আরমানচেস্’ এর দিকে যাই, আপনি কী বলেন। আপনি হলেন ক্যাপ্টেন। বস্। আমরা ‘অৎৎড়সধহপযবং” এর দিকেই ড্রাইভ করছি। দীপকবাবু আমাকে বলছেন বহুবার। দাদা , আপনি আমাকে দীপক বলে সম্বোধন করলে আপনার কী কোন অসুবিধা হয়। মোটেও নয়। হ্যাঁ, দাদা! ভাই আমার। আমি তোমার অনেক বড়, পাশাপাশি গ্রাম আমাদের। কী কাব্যিক নাম তোমাদের গ্রামের নাম। বিনাজুরী। মনে হয় এ যেন বিভূতী পড়ছি। কিছুটা বর্তমানে বুদ্ধদেব গুহ , হুমায়ুন আহমেদ বলেছি, এই শক্তিমান সাহিত্যিক আজ আমাদেরকে বই পাঠের সন্ধান দিয়েছেন, অনুসন্ধিত্বসার অটোরুট নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম যে কিভাবে বই কেনায় ঝুকে পড়েছে, এটা বই মেলায় গেলে বোঝা যায়। প্যারিস থেকে গেল দিন ঢাকায় নেমেছি। ২১ তারিখে বই মেলায় অর্থ্যাৎ ২০১৩ সালের বই মেলায়, সালের কথা বলার পেছনে কারণ আছে। ওগুলো পরে কখনো প্রসঙ্গ আসলে বলা হবে। বাংলা একাডেমী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই খোলা অংশটাতে মানুষ কী সূঁচ যেন ঢুকতে পারবে না। ফাল্গুনী বলল, এ কী লেখছ? ছিলে ‘কায়েন’- নরমান্ডিতে হুট করে চলে এলে, “বই মেলায়”। কেন? যান। পালিতে একটা কথা আছে,
“ মন চ্ছেট্টা মন মায়া”। মানে, ২০১০ সালে এই বই মেলায় আমার ’ফ্লোরেন্সের পথে’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে। আমার যত দিনের অধ্যয়ন, অভিজ্ঞতা আর শত শত মাইলের অক্লান্ত শ্রম, এগুলোর শৈল্পিক নির্ঝাসটুকু যদি কিছুটা প্রকাশ পায়। এভাবে সকল লেখক নিজেদের অবস্থান থেকে তাদেঁর বক্তব্য, দৃষ্টি, চিন্তার বা¯তবে আসার স্থান এই বই মেলা !!
দুই
তোমার লেখাটা পড়লাম,এখানেও তুমি ডিজ্ অর্গানাইজড্ । তুমি লিখতে যাচ্ছ, নর্মান্ডি ইনভ্যেশন নিয়ে ; লিখে গেলে ম্যুভির কথা, আসার কথা । আসলাম কই? এটি মাত্র “অপারেশন ওভারর্লডে’-এর মত প্রস্তুতি ।ঐ যে বলেছিলাম, “কেনটাকি ডার্বি হর্স নরমান্ডি ইনভেসন’ । টিভিতে দেখতে পেলাম, আমেরিকার মানুষ কি একটা স্পিরিট নিয়ে দেখেন । এবারে চারজন ‘ওর্য়াল্ড ওয়ার টু ’ ভেটারন খুজে পান ২০১৩ সালে , যারাঁ এই নরমান্ডি ইনভেস্যনে ৬ জুন, ১৯৪৪ সালে ফরাসীতে যুদ্ধ করেছিলেন । বিল উইল্চ, রে উডস্ , জে জে হুইটমেয়ার এবং এল্যান রিভস্ । এদেরকে চার্চিল ডাউনসে নিয়ে রেইসের ঘোড়া এবং হর্সম্যানের সামনে নিয়ে সন্মান করা হলো, বীরদের বীরত্বের মহিমা নিয়ে হর্সম্যান দৌড়বেন ডার্বি হর্স র্নমান্ডি ইনভেস্যন । আমিও তাদেঁরকে স্মরন করে লিখে যাই । (চলবে )