Type in:

অন্যান্য খবর

কড়া নজরে এরশাদ

( 0 Votes )

অন্যান্য খবর


হ-বাংলা নিউজ : ঢাকা থেকে : ক্ষমতার লোভ পেয়ে বসেছে সাবেক সেনাশাসক জাতীয় পার্টির (জাপা) এইচ এম এরশাদকে। মহাজোট সরকারের কাছে নানাভাবে বঞ্চিত হওয়া সাবেক স্বৈরাচারী এই শাসকের কাছে ক্ষমতায় যাওয়াটাই এখন মূখ্য বিষয়। তাই যেনতেন উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। ইতোমধ্যে বিরোধী জোটের সঙ্গে তার আঁতাত এবং সবশেষ হেফাজতে ইসলামের প্রতি বাড়তি অনুরক্তি এ সত্যকে আরো স্পষ্ট করেছে।

এছাড়া ঘনঘন বিদেশ সফরসহ বিএনপির সঙ্গে গোপন আতাত করার কারনে সরকারের কড়া নজরদারিতে রয়েছে এরশাদ।দলীয় সূত্র জানায়, সরকারের অংশ হয়েও গত সাড়ে ৪ বছরে ক্ষমতার সুযোগ সুবিধা না পাওয়ার কারণে মহাজোটের প্রতি নাখোশ এরশাদ। বিশেষ দলের নেতারা আরো বেশি এগিয়ে এক্ষেত্রে। যেকারণে সরকার গঠনের পর থেকেই দলের বেশিরভাগ নেতাই পার্টির চেয়ারম্যানকে মহাজোটের সঙ্গ ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

কিন্তু ক্ষমতালোভী এরশাদ ক্ষমতা পাওয়ার আশাতে অনেক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। অবশেষে কিছু না পেয়ে তিনি আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের সঙ্গ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। আর সরকারের শেষ সময়ে এখন ঝোপ বুঝে কোপ মারার জন্য ১৮ দলীয় জোটের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।বিশেষ করে জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে চলছে এরশাদের নিবিড় যোগাযোগ।

ইতিমধ্যে জাপার সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমেদ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশেষ দূত হয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ নিয়ে পার্টির মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে আগামী নির্বাচনে ১৮ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে না পারলে সে ক্ষেত্রে এরশাদের সহায়তা চাইবে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনে বিএনপি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দিয়ে সরকার গঠন করাতে আহ্বান জানাবে।


এজন্য আগামী নির্বাচনে এরশাদ তার দলের আসন সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে  হেফাজত ইসলাম চরমোনাই শরসিনাসহ অন্যান্য ইসলামিক ছোট দলগুলো নিয়ে পৃথক নির্বাচনী জোট করারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির সূত্রগুলো বলেছে জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচনী জোট করে যেসব আসনে বিএনপির পার্থী দুর্বল থাকবে সেসব আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন দিবে ১৮ দলীয়  জোট।


আবার জাতীয় পার্টির যেসব আসনে প্রার্থীর দুর্বল থাকবে সেসব আসনে ১৮ দলীয় জোটকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সমর্থন দিবে। বৃহত্তর রংপুরের ২২টি আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিলে ১৮ দলীয় জোট জাপাকে সমর্থন দিবে। ইতিমধ্যে এসব বিষয় নিয়ে ১৮ দলীয় জোটের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে জাপার শীর্ষ নেতাদের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে ।



এ প্রসঙ্গে জাপার একজন সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য পার্টিতে কোনঠাসা এবং বহিষ্কার হবার ভয়ে নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, পার্টির একাধিক  প্রেসিডিয়াম বৈঠকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, মহাজোট সরকারের অন্যতম শরিক দল হয়েও তার হাত পা বাধা রয়েছে। এ কারণে এই মুর্হূতে মহাজোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারছেন না তিনি। কারণ তার বিরুদ্ধে এখনও কয়েকটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। এই মুর্হূতে মহাজোট থেকে বেরিয়ে আসলে এরশাদ সাহেবের জামিন বাতিল হতে পারে। এই বয়সে জেলে যাওয়ার ভয়ে বিভিন্ন কৌশল নিয়ে সামনের দিকে এগুচ্ছেন তিনি।এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে বলেন ‘আমি আপনার পাশে আছি’। অপরদিকে ভোট  কৌশলের জন্য ইসলামিক দলগুলোকেও বলছে ‘জাতীয় পার্টি আপনাদের পাশে আছে’। ওই নেতার মতে পার্টির চেয়ারম্যানের এই দ্বিমুখী নীতির কারণে জনগণসহ পার্টির নেতা-কর্মীরা আস্থা রাখতে পারছেন না।


অপরদিকে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশ্বস্থ সহচর জিয়াউদ্দিন বাবলু জানায়, ক্ষমতায় যেতে কে না চায়। জাতীয় পার্টিও ক্ষমতায় যেতে সুযোগ পেলে যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে। ক্ষমতায় যেতে হলে এবং রাজনীতি করতে অনেক কথাই বলতে হয়। সেজন্য হয়তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছেন ‘আপনার উন্নয়নশীল কার্যক্রমে আমি আপনার পাশে আছি’। আবার হেফাজতকেও বলেছে ‘জাতীয় পার্টি হেফজতের পাশে আছে এবং থাকবে।’ মূলত পার্টির চেয়ারম্যানের মনের কথা হচ্ছে  যে কোনো কৌশলে ক্ষমতায় যেতে হবে।


এরশাদের অপর এক উপদেষ্টা এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জানান, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন করতে হবে। তবে এতটুকু বলতে পারি আমরা বর্তমান সরকারের সঙ্গে আছি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে নেই। এমনকি  হেফাজতের ১৩ দফার সঙ্গে আমরা আছি।






বাংলাদেশে সত্য বললে দুর্যোগ নেমে আসে : নিউ ইয়র্কে এটিএন চেয়ারম্যান

( 0 Votes )

অন্যান্য খবর


হ-বাংলা নিউজ : নিউইয়র্ক থেকে : যুক্তরাষ্ট্র সফররত এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান বলেছেন, আমি এখন আর সত্য কথা বলি না। কারণ বাংলাদেশে সত্য কথা বলতে গেলে দুর্যোগ নেমে অসে। এ সময় ইতিপূর্বে তিনি লন্ডনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি সত্য বলার বিষয়কে ইঙ্গিত করেন।


শুক্রবার বিকালে নিউ ইয়র্কের উড সাইডের কুইন্স পেলেসে এটিএন বাংলার আয়োজনে সাভারে ভবন ধসে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদানে ফান্ড রাইজিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মিডিয়া স্বাধীন বলা হলেও স্বাধীনতা নেই। এখানে যদি সত্য বলা হয় তাহলে উপর মহল থেকে চাপ আসে।


এ প্রসঙ্গে তিনি এটিএন নিউজের মুন্নি সাহার একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বলেন, সাভারের ধসে পড়া ভবন রানা প্লাজার নিচে গিয়ে মুন্নি সাহা দেখতে পান যে, সেখানে কোনো ফায়ার ব্রিগেড বা সেনাবাহিনীর উদ্ধার কর্মী ছিলেন না। শুধু মাত্র কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মী সেখানে ছিলেন। অথচ উপরে প্রেস ব্রিফিং করে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের উদ্ধার কর্মকান্ড জাহির করছিলেন।


এ রিপোর্টটি এটিএন নিউজে প্রচার করার পর বিভিন্ন মহল থেকে চাপ আসতে থাকে। এ হলো বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা। ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, গার্মেন্টস মালিকদেরকে ঢালাওভাবে দোষ দিয়ে লাভ নেই। হাতে গোনা দুয়েক জন অসাধু গার্মেন্ট ব্যবসায়ী নানা অসদুপায় অবলম্বন করে অর্থ বানালেও অধিকাংশ গার্মেন্টস মালিককে কষ্ট করে এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হয়। তার ওপর ষড়যন্ত্রকারীদের নানা চক্রান্তের কারণে এই শিল্পে আজ দুর্দিন নেমে আসছে। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানী আয়ের এই শিল্প বাঁচাতে তিনি সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন। সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।


উল্লেখ্য, কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সারা বছর সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকান্ড নিয়ে প্রতিবাদমুখর হলেও এদিন তারা এ বিষয়ে নিশ্চুপ ছিলেন।এটিএন বাংলা ইউএসএর পরিচালক মাসুম মোহাম্মদ মহসিনের সভাপতিত্বে ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ফখরুল আলমের তত্ত্বাবধানে ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গিয়াস আহমেদসহ বিভিন্ন পেশাজীবিরা। সাভার ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সংগৃহীত অর্থ এটিএন বাংলার মাধ্যমে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে প্রেরণ করা হবে।






মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ৬১ বাংলাদেশী

( 0 Votes )

অন্যান্য খবর


ফরিদ উদ্দিন আহমেদ : অথৈ সাগরে মৃত্যু হাতছানি দিয়ে ডাকছে তাদের। ট্রলারে খাবার নেই, পানি নেই। একদিকে ক্ষুধার যন্ত্রণা অন্যদিকে চোখে অন্ধকার। এভাবে চৌদ্দ দিন কেটেছে তাদের। তারপর শ্রীলঙ্কার কোস্টগার্ড যেন তাদের সামনে দেবদূত হয়ে দেখা দেয়। মানবিক সাড়া দিয়ে উদ্ধার করে ট্রলারে থাকা ১৩৮ জনকে। দীর্ঘ ১০৫ দিন পর তাদের ৬১ জনকে গতকাল ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যারা অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে চেয়েছিলেন। টেকনাফ উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে থাইল্যান্ড উপকূল, এরপর শ্রীলঙ্কা। শেষ পর্যন্ত তারা প্রাণ নিয়ে ফিরতে পেরেছেন দেশে।


বিমানবন্দরে কথা হয় আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে। তার স্বামী থাকেন মালয়েশিয়ায়। দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে আনোয়ারার স্বামীই তাকে সেখানে নিতে চেয়েছিলেন। বেঁচে আসার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। বলেন, ‘আর ন যাইয়ুম। চইদ্দ দিন সাগর’র পানি হাই বাঁচি আছিলাম।’ আনোয়ারা বেগমের বয়স মাত্র বিশ। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামে তার বাড়ি। তার স্বামী নূর আহমদও মালয়েশিয়া যান দালাল ধরেই। দেশে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।  তিনি জানান, ক্ষুধার তাড়নায় কতক্ষণ পর পরই লবণ পানি খেয়েছেন। ভেবে ছিলাম আর বাঁচবো না। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন। ফিরে আসা ৬১ জনের মধ্যে তিনি একমাত্র নারী। বাংলাদেশী এই দলের প্রায় সকলেই লুঙ্গি পরে এবং হাতে ছোট পলিথিন ব্যাগ নিয়ে মিহির লঙ্কার ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ফিরে আসা কবির হোসেন জানান,  আমরা কখনও ভাবতে পারিনি যে, দেশে ফিরে আসতে পারবো। কিন্তু শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী আমাদের জীবন দান করেছে।

আমরা স্থানীয় দালালদের ২০ হাজার টাকা করে দিয়েছিলাম। পৌঁছানোর পর ১ লাখ ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে দেয়ার কথা ছিল। ইমান, শরীফ, আবুল  হোসেন, মিটুন নামের দালালদের মাধ্যমে তারা গেছেন বলে জানিয়েছেন। দালালরা সবাই টেকনাফের। ফেরত আসাদের বেশির ভাগের বাড়ি টেকনাফে। বয়সও ১৫ থেকে ২৫-এর মধ্যে। জিয়াউল হক জানান, তারা লোনা পানি ও মাছ সিদ্ধ করে খেয়ে বেঁচে ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন শ্রীলঙ্কা পৌঁছানোর পর মারা যান। মো. আব্দুল্লাহ জানান, মিয়ানমারের কোস্টগার্ড আমাদের একদিন এক রাত পিটিয়েছে। শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশী দূতাবাস ১০ ডলার করে আমাদের দিয়েছে। মামুদ ওসমান বলেন, আর কোনদিন বিদেশ যাওয়ার কথাও মুখে উচ্চারণ করবো না।


ফিরে আসা বাংলাদেশী নাগরিকরা জানান, ট্রলার মাঝি শরীফ আমাদের  যে দালালের কাছে নিয়ে দেয়ার কথা তার কাছে না দিয়ে তিনি অন্য এক দালালের কাছে  ভুলে আমাদের তুলে দেয়। ওই দালাল তাদের থাইল্যান্ড  কোস্টগার্ডের কাছে তুলে  দেয়। থাইল্যান্ড কোস্টগার্ড সদস্যরা আমাদের মারপিট করে থাইল্যান্ডের সাগরে নিয়ে ছেড়ে দেয়। ভাসতে ভাসতে শ্রীলঙ্কার উপকূলে চলে যায় নৌকাটি। শ্রীলঙ্কার একদল মাঝি আমাদের দেখে কোস্টগার্ডকে খবর দেয়। তারপর শ্রীলঙ্কান কোস্টগার্ড সদস্যরা আমাদের উদ্ধার করে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যান। গত ৯ই জানুয়ারি টেকনাফ করমুড ঘাট থেকে দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশী নাগরিকরা নৌকাযোগে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। এরপর মিয়ানমারের কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের আটক করেন। এক পর্যায়ে কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের মারধর করে ছেড়ে দেয়। ৯ দিন পর থাইল্যান্ডের কাছাকাছি  পৌঁছায় তাদের বহনকারী নৌকাটি।


বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে এ খবর পেয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রেডক্রিসেন্টের সহায়তায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করে। তারা আরও জানান, আমরা এক নৌকায় ১৩৮ জন ছিলাম। এর মধ্যে ১১৪ জন বাংলাদেশী। আর বাকি ২৪ জন হচ্ছে রোহিঙ্গা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখি এদের মধ্যে ৬১ জন বাংলাদেশী। বাকিরা বাংলাদেশী নন। এরপর আমরা তাদের  দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসি। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর-বিএমইটি’র পরিচালক (বহির্গমন ও প্রটোকল) মিজানুর রহমান জানান, ফিরে আসাদের বক্তব্যে জানা যায়, দালালদের সঙ্গে মাঝি শরীফের আঁতাত ছিল।


এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালক (কনস্যুলার ও কল্যাণ) ইকবাল হোসেন, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-বিএমইটি’র সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) জাহিদ আনোয়ার প্রমুখ। রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সহকারী পরিচালক একেএম মুহসীন জানান, তাদের বাড়ির ফোন নম্বরে কথা বলে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে ফেরত পাঠানো হবে।




ঢাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’

( 0 Votes )

অন্যান্য খবর


দিনে এক, রাতে আরেক। দিনে বলেছিলেন এক মাসের জন্য। রাতে বললেন অনির্দিষ্টকালের জন্য। প্রথম উক্তি চট্টগ্রামে এক বৈঠকে। পরের উক্তি বিবিসি’র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে। বক্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। বিবিসি বাংলাকে গতকাল তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করবে এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে কোন দলকেই সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। এর আগে গতকাল চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে তিনি আভাস দিয়েছিলেন ওই নিষেধাজ্ঞা হবে এক মাস মেয়াদের। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও তখন এক মাসের কথাই বলেছিলেন। রাতে বিবিসিকে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ‘আমরা বলেছি এটা হবে  অনির্দিষ্টকালের জন্য।’ সরকার অনেক কিছু পারে। তাদের অনেকগুলো হাত, সে অনেকগুলো হাতের সামনে অনেকগুলো কলকব্জা। নিজেদের ইচ্ছা, খেয়াল চরিতার্থ করতে তারা এক হাতে এ কল টিপে আরেক হাতে আরেক কল চালু করতে পারেন, আবার অন্য হাতে চেপে ধরতে পারেন অন্য কোন কব্জা। দেশে এখন চলছে এমনই ইচ্ছা-খেয়ালের খেলা। আর তাই কথা নেই বার্তা নেই মিছিল সভা-সমাবেশ এমনকি মানববন্ধন পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কোন ঘোষণা ছাড়াই।


প্রথমে জানা গেল এ নিষেধাজ্ঞা সারাদেশের জন্যই। এখন শোনা যাচ্ছে কেবল রাজধানী ঢাকাতেই। কোন আদেশ, নির্দেশ, অধ্যাদেশ নেই- চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তৃতা থেকে জানা গেল ব্যাপারটা। সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা, ক্ষমতাসীন মহাজোটের নেতারাও জানেন না এমন এক নিষেধাজ্ঞার কথা। মহাজোটের অন্যতম নেতা রাশেদ খান মেনন তো বলেই ফেলেছেন, ‘এটা গণতন্ত্রবিরোধী। এর ফলে বিরোধী দল হাতে এক কার্যকর অস্ত্র পাবে।’ সমস্যা হলো, পৃথিবীর সকল ব্যক্তির সকল কাজের পক্ষেই যুক্তি আছে। বস্তুত যে কেউ তার যে কোন কাজের পক্ষে যুক্তি খাড়া করতে পারেন। তাই বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে পারেন, রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সভা সমাবেশ করবে এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে কোন দলকেই সভাসমাবেশ করতে দেয়া হবে না। ঘূর্ণিঝড় মহাসেন-এর বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার জন্য ত্রাণকাজ, পুনর্বাসনের সুবিধার জন্যই নাকি এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন কথাও বলেছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
মনে হয়, সরকার ভুলে গেছে রাষ্ট্র কেবল সরকারের নয় সব নাগরিকের-ক্ষমতাসীনের পাশাপাশি ক্ষমতাহীনদেরও। মনে পড়ে ঈশপের নেকড়ে ও মেষশাবকের কাহিনী। ওই কাহিনী এটাই বুঝিয়েছে- মতলববাজ নেকড়ে কখনও যুক্তির জোর মানে না, তারা খাটায় জোরের যুক্তি। এমন জোর খাটানোর পরিস্থিতি জরুরি অবস্থাতেই সম্ভব। দেশে কি সেই অবস্থাই চলছে অঘোষিতভাবে!


গতকাল বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকায় রাজনৈতিক দলের মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করবে এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে কোন দলকেই সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যুক্তিটা হলো এই- আমাদের সংবিধানে আছে যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সকলকে সমাবেশের এবং সংগঠনের অধিকার দেয়া আছে। এখন এই যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ আরোপ করা অর্থ হলো যারা সমাবেশ করবেন তারা জনগণের সম্পত্তি নষ্ট করবেন না। পরিবহনে আগুন দেবেন না। বাস পোড়াবেন না। রেলে আগুন দেবেন না। কোরআন শরীফ পোড়াবেন না। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা নিশ্চিন্ত হচ্ছি যে, এ ধরনের দুর্বৃত্তরা সমাবেশের নাম করে এ ধরনের কাজগুলো করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত ওই যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধের আওতায় আমরা এগুলো করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বলেছি, অনির্দিষ্টকালের জন্য। বিবিসি তার কাছে জানতে চায়, বাংলাদেশে এ ধরনের পলিটিক্যাল ডেমোনেস্ট্রেশন নতুন কিছু না। এ ধরনের বহু ঘটনা আমরা দেখেছি আগে।


জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের রাজনৈতিক (কর্মকাণ্ড) হয়েছে। কিন্তু কেউ রাজপথে এরকম জনসম্পত্তি নষ্ট করে নাই। কেউ বিষ্ঠা ত্যাগ করে রাজপথ অব্যবহার্য করে নাই। কেউ ছোটখাটো দোকানপাট পুড়িয়ে দেয় নাই। বাসে আগুন দেয় নাই। রেলপথে আগুন দেয় নাই। কেউ কোরআন শরীফ পুড়িয়ে দেয় নাই। বইপুস্তক পুড়িয়ে দেয় নাই। কাজেই এটা নতুন। বিবিসি তার কাছে ফের জানতে চায়, কিন্তু তাহলে শুধু ঢাকা শহর কেন, মানে ঢাকার বাইরে তারা (সমাবেশ) করতে পারবে? জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনাটা ঢাকায় ঘটেছে বলে ঢাকায় আমরা বলেছি। অন্য জায়গায়ও ঘটেছে। তবে ঢাকায় যে স্কেলে ঘটেছে সে স্কেলে ঘটেনি। বিবিসি তার কাছে জানতে চায়, মানে ঢাকাকে নিরাপদ রাখতে চাচ্ছেন আপনারা? জবাবে তিনি বলেন, আমরা সব জায়গাকে নিরাপদ রাখতে চাচ্ছি। আমি বলেছি, ঢাকায় যে স্কেলে ঘটেছে সেটা অন্য জায়গায় ঘটেনি বলে ঢাকায় আমরা আপাতত করছি। এটা সবার জন্য প্রযোজ্য। বিবিসি ফের প্রশ্ন করে, নিশ্চিতভাবেই বিরোধী দল এ জিনিসটাকে ভালভাবে নেবে না এবং তারা হরতাল হয়তো ডাকতে পারে। সরকারের সিদ্ধান্ত না মানতে পারে। তাহলে তো আরও বেশি বিশৃঙ্খলা হবে।


মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, শোনেন, বিরোধী পক্ষ নেবে, না নেবে সেই বিবেচনায় কিন্তু আমরা জনগণের সম্পত্তি বিনষ্ট হতে দিতে পারি না। জননিরাপত্তা ব্যাহত হতে দিতে চাই না।  বিরোধী দল জননিরাপত্তা ব্যাহত করেছে। কোরআন শরীফ পর্যন্ত পুড়িয়েছে। ঢাকায় ৪৮ ঘণ্টায় নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক আবেদন পর্যন্ত জানিয়েছে। কাজেই যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা গণতান্ত্রিক বিশ্বাসে ফিরে না আসে, যতক্ষণ না পর্যন্ত দেশের আইন মান্য করতে শেখে বা তার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাদেরকে তো সে পর্যায়ে রাখতে হবে। বিবিসি’র পাল্টা প্রশ্ন- ঢাকার বাইরের মানুষ তো মনে করতে পারে ঢাকা কেন বিশেষ একটা জায়গা হলো? অন্য জায়গায় করতে পারবে, ঢাকায় পারবে না কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি ইতিমধ্যে এর ব্যাখ্যা দিয়েছি যে, ঢাকায় এরা সব থেকে বড় স্কেলে কাজটা করেছিল। অন্য জায়গায় করেনি। কাজেই ঢাকার ওপর আমরা (নিষেধাজ্ঞা) দিয়েছি। অন্য স্থানেও যদি এ স্কেলে করতে চায় বা করার আস্পর্ধা দেখায় তবে নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।


চট্টগ্রামে যা বলেছিলেন-


চট্টগ্রাম ও মিরসরাই প্রতিনিধি জানান, আগামী এক মাস কোন রাজনৈতিক দলকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। গতকাল চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে থানা উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন। এই বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অনুমতি দিলে ওরা তাণ্ডব শুরু করে। আন্দোলনের নামে গাড়ি ভাঙচুর হয়। দুর্ভোগ পোহাতে হয় লোকজনকে। কেবল তাই নয়, তারা জ্বালাও পোড়াও করে, দোকানপাটে আগুন দেয়, পবিত্র মসজিদে হামলা করে কোরআনে শরীফে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটিয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, কোন সংগঠনকেই এক মাসের জন্য মিছিল-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। রাতে অবশ্য বিবিসি-কে তিনি বলেছেন, এ নিষেধাজ্ঞা অনির্দিষ্টকালের জন্য।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেফাজতে ইসলামের কড়া সমালোচনা করেন। তাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সমাবেশের অনুমতি নিয়ে গত ৫ই মে হেফাজতে ইসলাম যা করেছে তা কোন আলেম সমাজ করতে পারে না। পুরো ঘটনাই দেশবাসী দেখেছে। বিএনপি-জামায়াত হেফাজতে ইসলামের ওপর ভরসা করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরকার উৎখাতের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু ১০ মিনিটে তাদের সে স্বপ্ন ভেঙে গেছে। সংলাপের জন্য সংসদকে উপযুক্ত স্থান উল্লেখ করেন  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংলাপের জন্য সরকার সর্বদা প্রস্তুত। তবে এজন্য কোন ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের প্রয়োজন নেই।’ আসন্ন বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলকে যোগ দিয়ে আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।


তিনি আরও বলেন, ‘৫ই মে ঢাকায় সমাবেশ করার জন্য বিএনপি-জামায়াত হেফাজতে ইসলামকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছে। কিন্তু ইসলাম রক্ষা মাওলানা শফী সাহেবের একার দায়িত্ব নয়। ইসলাম রক্ষার নামে তারা ৯৬২টি পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়িয়ে দিয়েছে।’ জোরারগঞ্জ থানা মিরসরাইবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তা বাড়াতে মিরসরাই থানাকে বিভক্ত করে জোরারগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে।’ জোরারগঞ্জ থানা শূন্য অপরাধ বিশিষ্ট থানায় রূপান্তর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর আগে দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারযোগে মিরসরাই আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর বারইয়ারহাট পৌরসভার চিনকি আস্তানা এলাকায় প্রাথমিকভাবে একটি ভাড়া ভবনে জোরারগঞ্জ থানার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। জোরারগঞ্জ থানার উদ্বোধন উপলক্ষে সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয় নতুন থানা প্রাঙ্গণে। সমাবেশে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর।


বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন ও অপারেশন) একেএম শহিদুল হক বিপিএম পিপিএম, র‌্যাব-এর মহাপরিচালক মো. মোখলেসুর রহমান বিপিএম, বাংলাদেশ পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নওশের আলী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান, চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম, মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান প্রমুখ।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ইউএনও মুহম্মদ আশরাফ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল করিম, বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র আবু তাহের ভূঁইয়া, মিরসরাই পৌর মেয়র এম শাহজাহানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।
সাভার ট্র্যাজেডিতে স্বজনহারাদের প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়াতে দেয়নি পুলিশ ওদিকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, সাভারে ভবন ধসে তারা স্বজন হারিয়েছেন। কেউ হারিয়েছেন সন্তান। কেউ হারিয়েছেন আপনজন। উদ্ধারকাজ শেষ হলেও তারা এখনও খোঁজে পাচ্ছেন না স্বজনকে। মিলছে না লাশটিও। নিজ নিজ স্বজনের ছবি নিয়ে তারা মানববন্ধন করতে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাদের সেখানে দাঁড়াতেই দেয়নি।


সভা-সমাবেশের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিধিনিষেধ থাকায় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা স্বজনের সন্ধান করতে আসা লোকজনকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন। তারা স্থান ত্যাগ না করলে পরে তাদেরকে সাভারগামী বাসে তুলে দেয়া হয়।  মাকসুদা আক্তার, শান্তা আক্তার, ফারজানা আক্তার সহ অনেকের নাম লেখা ছবি নিয়ে স্বজনরা প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন সকালে। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর মো. মিজানুর রহমান তাদের কাছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র অনুমতিপত্র দেখতে চান। ডিএমপির অনুমতি ছাড়া প্রেস ক্লাব সম্মুখে জড়ো হওয়া, মানববন্ধন, মিছিল ও সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে নিখোঁজ হওয়া স্বজনদের জানান তিনি। এ সময় শোকাহত স্বজনরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে পুলিশকে জানান, আমরা কোন দাবি নিয়ে আসিনি। আমরা স্বজনের সন্ধানে এসেছি। এটা কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, শেষ ভরসা হিসেবে আমাদের স্বজনদের খোঁজে এখানে এসে দাঁড়িয়েছি। শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরবো।


স্বজনরা বলেন, সাভার থেকে শুরু করে ঢাকা মেডিকেল, সলিমুল্লাহ মেডিকেল সহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছেন তারা। কিন্তু নিখোঁজদের কোন সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে স্বজনরা রাস্তায় দাঁড়াতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে তাদেরকে সাভার অভিমুখী একটি যাত্রীবাহী  বাসে উঠতে বাধ্য করে তারা। বাসের সুপারভাইজারকে বলে দেয়া হয় সাভার ছাড়া অন্য কোথাও যেন তাদের নামানো না হয়। মানববন্ধনে আসা স্বজনরা উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে প্রেস ক্লাবে এসেছিলাম। আমাদের কর্মসূচিও ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু পুলিশ সমপূর্ণ অনৈতিকভাবে আমাদেরকে বাধা দিয়েছে। একদিকে স্বজন হারানোর যন্ত্রণা। অন্যদিকে পুলিশ আমাদের কোথাও দাঁড়াতে দিচ্ছে না। প্রেস ক্লাবের সামনেও যদি দাঁড়াতে না পারি তাহলে স্বজনদের লাশের খোঁজের দাবি নিয়ে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো?


এদিকে সকালে একই স্থানে মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি মানববন্ধন করতে চাইলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে তারা মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। এ বিষয়ে কর্তব্যরত সাব-ইন্সপেক্টর মো. মিজানুর রহমান জানান, সাভারের স্বজনরা কোন কর্মসূচি পালন করতে আসেনি। তিনি জানান, রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক কোন সংগঠনকেই প্রেস ক্লাবের সামনে কোন কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হবে না। তবে ডিএমপির পূর্বানুুমতি থাকলে কর্মসূচি পালনে কোন বাধা নেই।




মহাসেনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের

( 0 Votes )

অন্যান্য খবর


ওসমান গনি : নাসিম পারভীন পারু : বিশ্বজিত সাহা : সুহাস বড়ুয়া : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, উপযুক্ত ভবন নির্মাণ পদ্ধতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি সংশোধিত শ্রম আইন বিল দ্রুত জাতীয় সংসদে পাস করার তাগিদ দেন জন কেরি। শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে ডন কেরি এই আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার তাগিদ দেন জন কেরি।

D_Mone____SaKiL_1মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী বৈঠকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বি-পাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। ডা. দীপু মনি জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখা ও বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে জন কেরির প্রতি অনুরোধ জানান। জন কেরি বিষয়টি মনোযোগ সহকারে শুনেন এবং সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেয়ার নিশ্চয়তা দেন।

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে জন কেরি ঘূর্ণিঝড় মহাসেন দুর্বল হয়ে যাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং যেকোনো দুর্যোগ বা জনগণের কষ্টের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবার প্রতিশ্রুতি দেন। সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসের ফলে এক হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারানোর ঘটনায় গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, শ্রম মান উন্নত করা, অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দেবে। আগামী সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় অংশীদারিত্ব সংলাপ দুই দেশের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা ও অন্যান্য ইস্যুতে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সৃষ্টি করবে। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট সমস্যা বলে জন কেরি মন্তব্য করেন। তিনি সন্ত্রাস দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন।

ডা. দীপু মনি তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন। দীপু মনি বলেন, D_Mone____SaKiL_2বিদ্যমান শ্রম আইন সরকার সংশোধন করেছে এবং আসন্ন বাজেট অধিবেশনে বিলটি পাস হবে। বিগত চার বছরে নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, মানবাধিকার সংরক্ষণ ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সরকার অনেক কাজ করেছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের কাজ এগিয়ে চলছে। বর্তমান সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো সম্পর্কে মতামত দিতে বিরোধী দলকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বহু বছর ধরে অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে; কিন্তু বর্তমানে অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, সামাজিক সীমাবদ্ধতার কারণে রোহিঙ্গাদের আর আশ্রয় দেয়া সম্ভব নয়। তিনি জামায়াত-শিবিরের দেশব্যাপী নারকীয় সন্ত্রাস ও হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা সম্পর্কে জন কেরিকে অবহিত ও সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। জন কেরি গ্রামীণ ব্যাংক ইস্যু উত্থাপন করলে ডা. দীপু মনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। একজন নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা সম্পর্কে দীপু মনি অবহিত করেন।

ডা. দীপু মনি বাংলাদেশে সফরের জন্য জন কেরিকে পুনরায় আমন্ত্রণ জানান। জন কেরি সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশে আসার প্রতিশ্রুতি দেন।





স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে বিক্ষোভ

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির বৈঠকের সময় স্টেট ডিপার্টমেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন ওয়াশিংটন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। বিক্ষোভের আগে বাংলাদেশ ডেস্ক’র প্রধান বেন ব্রে’র মাধ্যমে সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্যাদি তুলে ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন প্রবাসীরা। স্থানীয় সময় শুক্রবার আমেরিকা ও বাংলাদেশের পরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের সময় বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করে প্রবাসীরা।

D_Mone____SaKiL_3এতে বক্তব্য দেন আমেরিকান মুসলিম কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ইমাম মাহদী ব্রে, বাংলাদেশী আমেরিকান ফরিদউদ্দিন, সায়েদ মুকতাদির ও জুহাইব চৌধুরী।মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, “বাংলাদেশে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। শুধু চলতি বছরেই সরকারি বাহিনী শত শত সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। কয়েক হাজার মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ বিনা বিচার কারাগারে আটক রয়েছে। সরকারি বাহিনী সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বাংলাদেশ সরকারকে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন সরকারের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা দাবি জানান বক্তারা। গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, “নিজ ভবন পরিত্যক্ত জেনেও সরকার সমর্থক রানা হরতাল বিরোধী মিছিলে অংশ নেয়ার জন্য জোরপূর্বক গার্মেন্টস শ্রমিকদের ডেকে এনে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। ধসে পড়া ভবনে অসংখ্য আহত এবং এগার শতাধিক নিহতের ঘটনা সরকার দায় এড়াতে পারে না।” নিহত শ্রমিকদের পরিবার এবং আহতদের পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান বক্তারা। -বিজ্ঞপ্তি






কঙ্কাল নিয়ে চলছে ভয়াবহ বাণিজ্য

( 0 Votes )

অন্যান্য খবর


উৎপল রায়: কঙ্কাল নিয়ে চলছে ভয়াবহ বাণিজ্য। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও একটি চক্র। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে কঙ্কাল পাচার হচ্ছে বিদেশে। রাস্তাঘাটে ফুটপাথের হাতুড়ে ডাক্তার এমনকি কবিরাজের কাছেও পাওয়া যাচ্ছে মৃত মানুষের হাড়। একেকটি কঙ্কাল বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায়। এ জন্য চক্রটি টার্গেট করে কবরস্থানকে। এছাড়া বজ্রপাতে নিহতদের হাড় চুম্বক হয়ে যায় এ গুজবেও কঙ্কাল চুরির হার দিন দিন বাড়ছে।


সমপ্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় কবর খুঁড়ে বেশ ক’টি লাশ ও কঙ্কাল চুরির ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। গত ৪ঠা এপ্রিল শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার গেরামারা গ্রামের কবরস্থান থেকে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের ৪টি লাশ ও কঙ্কাল চুরি করেছে চোরচক্র। ১০ই এপ্রিল ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার মেগচামী গ্রামের খান বাড়ি গোরস্থান থেকে দু’বছর আগে দাফন করা দু’টি লাশের কঙ্কাল চুরি হয়। একই সময়ে উপজেলার বৈকণ্ঠপুরস্থ কবরস্থান থেকে চুরি হয় আরও দু’টি কঙ্কাল। ১৫ই এপ্রিল গভীর রাতে মধুখালী উপজেলার বেলেশ্বর কেন্দ্রীয় কবরস্থানের ৪টি কবর খুঁড়ে দু’টি কঙ্কাল নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চোররা। এলাকাবাসী ঘটনা টের পাওয়ায় দু’টি কঙ্কাল ফেলে পালিয়ে যায় তারা। পরে কঙ্কাল দু’টি এলাকাবাসীর সহায়তায় পুনরায় দাফন করেন স্বজনরা। এছাড়া ২৮শে এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার দেওভোগ নাগবাড়ী এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি কঙ্কাল উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ভয়ে আতঙ্কে দেশের বিভিন্ন কবরস্থানে স্থানীয় লোকজন রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।


অনুসন্ধানে জানা যায়, কঙ্কাল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত দেশের সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের অসাধু চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পঞ্চম বর্ষের এক শিক্ষার্থী ও হাসপাতালের চতুর্থ তলার সার্জারি বিভাগের এক ইন্টার্নি চিকিৎসক অবৈধ কঙ্কাল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালের এনাটমি ও সার্জারি বিভাগের কিছু অসাধু চিকিৎসকের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন অবৈধ কঙ্কাল বাণিজ্য চালিয়ে এলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে চলছে তাদের এ কার্যক্রম। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পেশাদার ও সংঘবদ্ধ চোরদের মাধ্যমে কঙ্কাল সংগ্রহ করে তারা এসব কঙ্কাল অবৈধভাবে বিক্রি করে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের কাছে। সমপ্রতি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, অর্ডার দিলে একদিনের মধ্যে কঙ্কাল সরবরাহ করবেন তারা।


এজন্য কোন আইনি বাধ্যবাধকতার প্রয়োজন নেই। প্রতিটি কঙ্কালের দাম পড়বে ২৫ হাজার টাকা। তবে বাক্সের ভিতরে কঙ্কালের হাড়গোড় থাকবে অবিন্যস্ত অবস্থায়। কঙ্কাল ক্রেতাকে নিজ খরচে তা জোড়া লাগাতে হবে। এজন্য খরচ পড়বে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। তারা জানান, কঙ্কাল ক্রেতা বেশির ভাগই বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কবর খুঁড়ে লাশ ও কঙ্কাল চুরি আইন ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে একটি চরম অপরাধ ও অনৈতিক কাজ। কিন্তু দেশের বিদ্যমান আইনে এ বিষয়ে বিচার ও শাস্তির স্পষ্ট কোন নির্দেশনা নেই। তাই কিছু ক্ষেত্রে অপরাধী ধরা পড়লেও আইনের ফাঁকফোকরে তারা পার পেয়ে যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি) হাসপাতলের এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপিকা শামীম আরা বলেন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণায় মৃত মানুষের লাশ ও কঙ্কাল বাধ্যতামূলক।


তাই সবার আগে প্রয়োজন লাশ সংগ্রহ। এজন্য মরণোত্তর দেহদানকারী ব্যক্তি ও বেওয়ারিশ লাশ আইনি বাধ্যবাধকতায় আমরা সংগ্রহ করি। তিনি জানান, সংগৃহীত লাশ ও কঙ্কাল গবেষণার প্রয়োজনে বিভিন্ন কেমিক্যালের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হয়। দেশের সব ক’টি সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে এটি করা হয়। এক্ষেত্রে কবর খুঁড়ে কেন লাশ ও কঙ্কাল তুলে আনতে হবে তা বোধগম্য নয়। এটি একটি অনৈতিক কাজ। যারা এসব করে বুঝতে হবে তাদের অসৎ কোন উদ্দেশ্য আছে। তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। বজ্রপাতে নিহত মানুষের দেহ চুম্বক হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে অধ্যাপিকা শামীম আরা জানান, বিষয়টির কোন রকম সত্যতা নেই, এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও নেই। এটি একটি গুজব মাত্র। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৭৫টি। এর বেশির ভাগ রাজধানী ঢাকায়।


বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও এনাটমি বিভাগ থেকে সুনির্দিষ্ট নিয়মে ও আইনি প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত লাশ ও কঙ্কাল সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু বেশির ভাগ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ  এনাটমি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও গবেষণার জন্য কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধ উপায়ে কঙ্কাল সংগ্রহ করে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, সুনির্দিষ্ট নিয়ম ছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞানে মৃত লাশ ও কঙ্কাল সংগ্রহ করার নিয়ম নেই। কেউ যদি নিয়ম ভঙ্গ করে তা অবশ্যই অপরাধ। এ বিষয়ে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনাটমি বিভাগে  যোগাযোগ করা হলে, ওই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আবদুর রশিদ কোন কথা বলতে রাজি হননি।


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক জানান, কবর খুঁড়ে লাশ ও কঙ্কাল চুরি খবর আমরাও শুনেছি। আর বজ্রপাতে নিহত মানুষের শরীর চুম্বক হয়, এটি স্রেফ গুজব। যারা এসব প্রচার করে ও কঙ্কাল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত অসৎ উদ্দেশ্যেই তারা এসব করছে। আমাদের বুঝতে হবে, বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা গবেষণার প্রয়োজনে ‘মরণোত্তর দেহদান’ করছেন। দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে।





মহাসেনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জেএসডি-ইঊএসএর দু:খ ও সহানুভূতি প্রকাশ

( 0 Votes )

অন্যান্য খবর



হাকিকুল ইসলাম  খোকন : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ইঊএসএ সভাপতি হাজী আনোয়ার  হোসেন লিটন ও সাধারণ সম্পাদক শরীফ ঊদদীনএক বিবৃতিতে মহাসেনের আঘাতে দেশের দক্ষিন উপকুলে যে বিপুল প্রানহানি ও ঘরবাড়ী, গবাদি পশু, ফসলাদির ক্ষতি হয়েছে তার জন্য গভীর দু:খ ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারী খরচে ঘরবাড়ী পুননির্মান, নতুন আবাদের জন্য সাহায্য প্রদান, কৃষি ঋণ মওকুফ সহ গবাদিপশু ক্রয়ের জন্য বিনাসুদে ঋণ প্রদানের দাবী জানিয়েছেন।





চীনে ভ্রমণকারী বাংলাদেশীদের প্রতি সতর্কবার্তা

( 0 Votes )

অন্যান্য খবর


দীন ইসলাম: চীনের ছয় প্রদেশে ভ্রমণকারী বাংলাদেশীদের প্রতি স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা জারি করেছে সরকার। দেশটিতে নতুন জাতের বার্ড ফ্লু ভাইরাস দেখা দেয়ায় এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এইচ৭এন৯ নামের এ বার্ড ফ্লু ভাইরাসটি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে চীনে শনাক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এ ভাইরাসে ১৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ১৩ই মে পর্যন্ত ৩৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

এ কারণে চীনের ঝিজিয়াং, আনুই, স্যান্ডং, জিয়াংসু, হেনান, বেজিং এবং সাংহাই প্রদেশে যাতায়াতের সময় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ ও লাইন ডিরেক্টর, সিডিসি) অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ স্বাক্ষরিত গত ৩০শে এপ্রিল জারি করা ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি চীনে বার্ড ফ্লু (এইচ৭এন৯) বিশ্বের প্রথম নতুন ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে।

৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত ১২০ জন ল্যাব কনফার্মড রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। বাংলাদেশ থেকে মানুষ ও ছাত্রছাত্রী, ব্যবসা এবং লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে চীনে যাতায়াত করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ ও লাইন ডিরেক্টর, সিডিসি) অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ জানিয়েছেন, চীনে পোল্ট্রি ফার্ম ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভাইরাসটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হলে রোগের কোন উপসর্গ দেখা যায় না। তাই ভাইরাসটি সম্পর্কে জানাতে সতর্কবার্তা জারি করা হলো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে প্রকাশিত সতর্কবার্তা বলা হয়েছে, চীনে ভ্রমণের সময় পোল্ট্রি ফার্ম এলাকা এড়িয়ে চলুন। কাঁচা বাজার অর্থাৎ যেখানে পোল্ট্রি ক্রয়-বিক্রয়, জবাই ও প্রসেসিং করা হয় এ রকম এলাকা এড়িয়ে চলুন। এছাড়া ভ্রমণ করে বাইরে থেকে আসার পর হাত মুখ সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। প্রয়োজন মনে করলে তিনজন ডাক্তারের ফোন নম্বর দিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। 





যুক্তরাজ্য বিএনপিতে চমক নিয়ে আসছেন তারেক

( 0 Votes )

অন্যান্য খবর


তানজির আহমেদ রাসেল, লন্ডন থেকে : যুক্তরাজ্য বিএনপিতে চমক নিয়ে আসছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই চমকের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়তে পারেন প্রথম সারির একাধিক নেতা। নেতৃত্বে আসছেন ত্যাগী, যোগ্য, শিক্ষিত ও দলের বিভিন্ন দুঃসময়ে নিবেদিত প্রাণ নেতৃবৃন্দ। যুক্তরাজ্য বিএনপিকে ঢেলে সাজাতে যোগ্য, ত্যাগী ও সাবেক ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি উপহার দিতে তারেক রহমান বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করছেন। দলের নেতৃবৃন্দের মতামত শুনতে আগামী সোমবার বৃহৎ পরিসরে সব ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির হাইকমান্ড ও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করে।

সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্য বিএনপিকে আন্তর্জাতিক লবিতে কাজ করাসহ প্রবাসে একটি শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে। সে লক্ষ্যে তারেক রহমান গত ১০ মাস হতে স্থগিতকৃত যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছেন। নতুন কমিটিতে দলের নিবেদিত প্রাণ, ত্যাগী, যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বের মূল্যায়ন চান তিনি। পাশাপাশি দলের সুনাম রক্ষাতে বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে বিতর্কিত ও জনবিচ্ছিন্ন কেউ যাতে কমিটিতে না আসেন সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে তার। জানা যায়, গত কয়েক দিনে একাধিক বিএনপি নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারেক রহমান।

বৈঠকে মূলত দলকে গতিশীল করতে আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টি উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় কমিটি গত বছরের এপ্রিল মাসে এমএ মালেককে আহ্বায়ক ও ব্যারিস্টার এমএ সালামকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর হতে এই দুই নেতা কূটনৈতিক তৎপরতা ও সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে রাজপথ সরব রেখেছেন।

এ অবস্থায় প্রায় চার মাস পর গত বছরের ৭ই আগস্ট যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। কমিটি স্থগিত হওয়ার পর নেতাকর্মীরা এমএ মালেক ও ব্যারিস্টার এমএ সালামের নেতৃত্বে পৃথক দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ দুটি গ্রুপ বর্তমানে আলাদা আলাদাভাবে দেশব্যাপী সরকারের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ, ইলিয়াস মুক্তি আন্দোলন, বিভিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা ও দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন। এছাড়া স্বেছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আখতার হোসেন ও যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক দেওয়ান মুকাদ্দেম চৌধুরী নিয়াজের নেতৃত্বে টাওয়ার হ্যামলেটস বিএনপি, বিভিন্ন ইউনিট ও যুবদলের একাংশসহ রয়েছে আরেকটি বলয়। এরাও দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

যুক্তরাজ্য বিএনপির নতুন কমিটিতে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও যুক্তরাজ্যের প্রবীণ সাংবাদিক সাপ্তাহিক সুরমার সাবেক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন, নিউহাম বিএনপির সভাপতি সায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছ, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শাহ আক্তার হোসেন টুটুল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা, এসেক্স বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. সাইফুল আলম চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি লুৎফুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যুবদলের একাংশের সভাপতি নাসিম আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আখতার হোসেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা এডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল, ছাত্রনেতা নছরুলাহ খান জুনায়েদ, দেওয়ান মুকাদ্দেম চৌধুরী নিয়াজ, প্রফেসর ফরিদ উদ্দীন, বিএনপি নেতা কামাল উদ্দীন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কয়সর আহমদ, সলিসিটির বিপ্লব পোদ্দার, বুয়েটের সাবেক ভিপি ব্যারিস্টার তারিক বিন আজিজ প্রমুখ।






বাংলাদেশ থেকে আসা কমলেও ব্রিটেনে বড় হচ্ছে কমিউনিটি

( 0 Votes )

অন্যান্য খবর



মুনজের আহমদ চৌধুরী, লন্ডন থেকে : যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইনে অব্যাহত পরিবর্তন, শর্তারোপ আর কড়াকড়ির ধারাবাহিকতায় গত ২ বছরে বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে অভিবাসনের গতি অনেকটাই শ্লথ হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে সরাসরি অভিবাসনের হার কমলেও ‘তৃতীয় বাংলা‘ খ্যাত ব্রিটেনে গত ৩ বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনসংখ্যা। ব্রিটেনে এখন ক্রমশই বড় হচ্ছে বাঙালি কমিউনিটি।

ব্রিটেনের অভিবাসন সংক্রান্ত একাধিক পরিসংখ্যান, গবেষণা প্রতিবেদনসহ সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বমন্দার প্রভাবে ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ইটালি,পর্তুগাল, স্পেনসহ ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিশাল একটি জনগোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অর্থনৈতিক সংকটে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার কৃচ্ছ্রতা সাধনে কাট করছেন বিভিন্ন বেনিফিটও। আর এমন প্রেক্ষাপটে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় সার্বিকভাবে অনেক ভালো অর্থনৈতিক অবস্থায় রয়েছে ব্রিটেনের সরকার। আর এ কারণেই মূলত ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা এখন ব্রিটেনে এসে বসবাসে ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এ প্রবনতা বাড়ছে উদ্বেগজনকহারে, যা নিয়ে খোদ শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরাও।

ডেইলি এক্সপ্রেসে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেবল ২০১০ সালেই ইউরোপ থেকে ব্রিটেনে এসেছেন ৫৯১ হাজার মানুষ। আর ব্রিটেনের সরকার সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপ থেকে বেরিয়ে আসার চিন্তা-ভাবনা করছে সক্রিয়ভাবে এমন আলোচনার ডামাডোলে ইউরোপ থেকে ব্রিটেনে এসে বসবাসে আগ্রহীদের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুতগতিতে। ব্রিটেনে আসা ইউরোপিয়ান সিটিজেনদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইউরোপীয়ান নাগরিক।

জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাস করে নাগরিকত্ব পেয়েছেন এমন ইউরোপিয়ান নাগরিকদের একটি বড় অংশ এখন যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।

এটিএন বাংলা ইউরোপের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক মোস্তাক বাবুল এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে জানান, গত ১ বছরে প্রায় কয়েক হাজার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিক পরিবার-পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের লক্ষ্যে ব্রিটেনে এসেছেন। তবে তারা কিন্তু বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে আসছেন না, আসছেন ইউরোপের নাগরিক হিসেবে। আর সাম্প্রতিক সময়ে ইটালির নাগরিকত্ব পাওয়া বাঙালিরা ইটালি থেকে ব্রিটেনে বেশি সংখ্যায় আসছেন। এর নেপথ্যের কারণ ইটালির সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক দূরবস্থা এবং বেকারত্বের হার বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়া।

ইটালি থেকে এসে ব্রিটেনে গত দুবছর ধরে পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে বসবাস করছেন সালাহউদ্দীন জসীম। মুন্সিগঞ্জের আদী বাসিন্দা জসীম বসবাস করেন লন্ডনের ফরেস্ট গেইট এলাকায়। তিনি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জানান, গত দুবছর ধরেই মূলত ইটালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নাগরিকত্ব পেয়েছেন এমন লোকজনই ব্রিটেনে আসছেন বেশি সংখ্যায়। আগেও অনেক ইউরোপিয়ান সিটিজেন যুক্তরাজ্যে এসে বসবাস করতেন। কিন্তু গত দুবছরে কেবল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কয়েক হাজার ইউরোপিয়ান নাগরিক ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য এসেছেন। অনেকে সেসব দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন, নিজেদের ফ্রি হোল্ড ঘরও ছিল। কিন্তু এখানে স্থায়ীভাবে আসার সময় নিজেদের ঘর, ব্যবসা বিক্রি করে একেবারেই ব্রিটেনে চলে আসছেন। নিজেদের সঞ্চিত অর্থ তারা ব্রিটেনে বিনিয়োগ করছেন ছোট ছোট ব্যবসায়। অনেকে মিনিক্যাবিং করছেন। ব্রিটেনে ইটালিয়ান বাংলাদেশি, স্পেনের বাংলাদেশিদের আলাদা আলাদা সামাজিক সংগঠনও রয়েছে। তারা এখন ব্রিটেনের বাঙালি কমিউনিটির একটি সক্রিয় অংশ। বিলেতের বৈশাখী মেলাসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক আয়োজনেও তাদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

বাংলাদেশ ইটালিয়ান সিটিজেনশিপ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকের ট্রেজারার ফয়সল আলম এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জানান, শুধু ইটালি থেকেই গত দুই বছরের মধ্যে ১০ হাজারের বেশি বাঙালি পরিবার ব্রিটেনে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। আর ইটালিতে প্রথম বাংলাদেশিরা নাগরিকত্ব পাওয়া শুরু হয় ১৯৮৭ সালে। এখন প্রায় ৩ লাখের বেশি বাংলাদেশি বাস করেন ইটালিতে। অল্প কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া এদের অনেকেই আসতে চান অভিবাসীদের স্বপ্নের দেশ ব্রিটেনে।

আর পর্তুগাল থেকে একইসময়ে ব্রিটেনে এসেছেন ১১ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পর্তুগালের নাগরিক। ইটালি পর্তুগালের পর ব্রিটেনে আসার ক্ষেত্রে তৃতীয় অবস্থানে আছেন ফ্রান্সের নাগরিকত্ব লাভকারীরা। ফ্রান্স থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি ফ্রান্সের নাগরিকত্ব নিয়ে এদেশে এসেছেন। এরপর আসছেন অস্ট্রিয়া, ভিয়েনা থেকেও। ফয়সল আলম আরো জানান, ইটালি বা ইউরোপের অন্যদেশ থেকে ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আসছেন এমন বাংলাদেশিরা স্কিলড অর্থাৎ দক্ষ এবং পরিশ্রমীকর্মী। তারা মিনি ক্যাবিংসহ এখানে এসে নানা কাজে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এছাড়া বড় একটি অংশ কাজ করছেন বিলেতের ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টেও। ফয়সল বলেন, ইটালি বা ইউরোপের অন্য দেশ থেকে ব্রিটেনে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঐসব দেশের নাগরিকরা ১৫ দিনের মধ্যে ব্রিটেনের সরকারের কাছ থেকে সবধরনের বেনিফিটসহ সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। আর ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্রিটেনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা আসছেন মূলত তাদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা এবং ইসলামি শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে।

জানা গেছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রয়েছে বহু প্রদেশ। এসব প্রদেশগুলোর স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রথম শিখতে হয় প্রদেশের আঞ্চলিক ভাষা। আবার ঐ আঞ্চলিক ভাষা সংশ্লিষ্ট প্রদেশের বাইরে অনুপযোগী। এসব আঞ্চলিক প্রাদেশিক ভাষার নেই তেমন উপযোগিতা। এসব কারণেই আর্ন্তজাতিক মানের শিক্ষায় নিজেদের সন্তানদের শিক্ষিত করে তুলতেই ইউরোপের এসব নাগরিকরা নতুন করে এসে ঘর বাঁধছেন ব্রিটেনে।

ইটালি থেকে থেকে এখন স্থায়ীভাবে ব্রিটেনে বসবাস করছেন সাংবাদিক রেজাউল করিম মৃধা। কাজ করছেন রিপোর্টার হিসেবে বাংলা টিভিতে। তার সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, মূলত সন্তানদের উচ্চশিক্ষা আর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই ইউরোপ থেকে বাঙালিরা ব্রিটেনে আসছেন।

আর ইউরোপের অন্যান্য দেশের নাগরিকদের বসবাস এবং কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ব্রিটেনমুখী এ অব্যাহত জনস্রোতের কারণে বিলেতের সংকুচিত শ্রমবাজারে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন বাংলাদেশসহ ইউরোপের বাইরের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা নতুন ইমিগ্রেন্টরা। কাজের খোঁজে থাকা ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও একটি কাক্সিক্ষত চাকরির জন্য অপেক্ষার প্রহর আরো দীর্ঘ হচ্ছে ব্রিটেনের চাকরির বাজারে। কারণ ইউরোপিয়ান নাগরিকরা দক্ষকর্মী হিসেবে ব্রিটেনের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, রিটেইল,ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরে নিজেদের জীবিকার পথ খুঁজে নিচ্ছেন। অবশ্য বেশিরভাগ ইউরোপিয়ান নাগরিকরা ব্রিটেনে পার্টটাইম কাজের পাশাপাশি নিচ্ছেন জবসিকার অ্যালাউন্সও।




সম্মিলিত বরিশাল বিভাগবাসী ইউএসএ ইনক এর কার্যকরী সভায় উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত

( 0 Votes )

অন্যান্য খবর


হ-বাংলা নিউজ : নিউইয়র্ক থেকে : বিগত ০৫-০৮-২০১৩ইং তারিখে জ্যাকসন হাইটস্থ কাবাব কিং দোতলায় কার্যকরী সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জনাব এম.এল.গাজী। সভায় সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে বিষদভাবে আলোচনার পর সকল সদস্য ও সদস্যাদের সর্বসম্মতিক্রমে একটি উপদেষ্টা কমিটির অনুমোদন করা হয়। নি¤েœ সম্মানিত উপদেষ্টা মন্ডলীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হইল ঃ-
১) বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডজুট্যান্ট (অব:) ইসমাঈল খান আনসারী
২) শহীদুল ইসলাম সিকদার
৩) জসীম উদ্দিন চৌধুরী
৪) বীর মুক্তিযোদ্ধা, শওকত আকবর রিচি
৫) জাহাঙ্গীর এম. আলম
৬) ফয়েজ উল্লাহ বাবুল
৭) মো: মাহবুব আহসান (সাবেক মেয়র)
৮) মেজর (অব:) মোহাম্মদ আলী
৯) ক্যাপ্টেন (অব:) ইউসুফ আলী তালুকদার
১০) জনাব মঞ্জুর মোর্শেদ
১১) বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সামসুল ইসলাম (বাচ্চু)
১২) বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা: আব্দুল বাতেন
১৩) ডা: শেখ মতিয়ার রহমান
১৪) ডা: আতিকুল ইসলাম
১৫) ডা: সৈয়দ জালাল উদ্দিন
১৬) ডা: অভিজিৎ কুমার মজুমদার
১৭) ডাঃ ইকবাল হোসেন
১৮) ডা: আনোয়ার হোসেন
১৯) মো: আমিরুল হুদা (কামাল)
২০) মো: আব্দুল লতিফ
২১) এটর্নী অশোক কুমার কর্মকার
২২) মো: আমিরুল ইসলাম
২৩) মো: জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার
২৪) আবু জাফর সামসুদ্দিন (সাবেক কমিশনার)
২৫) আলহাজ্ব মো: নেছার উদ্দিন
২৬) মো: তোফাজ্জল হোসাইন
২৭) মো: মোয়াজ্জেম হোসেন
২৮) বাবুল শিকদার
২৯) মো: মোস্তফা কামাল

বনভোজন আহ্বায়ক কমিটি গঠিত

উল্লেখ্য উক্ত সভায় সম্মিলিত বরিশাল বিভাগবাসী ইউ.এস.এ ইন্ক এর বার্ষিক বনভোজন ২০১৩ইং উদযাপনের লক্ষ্যে ৭ (সাত) সদস্য বিশিষ্ট একটি বনভোজন-২০১৩ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

আহ্বায়ক                জনাব মো: আলতাফ হোসেন
সদস্য সচিব                মো: নুরুজ্জামান
সদস্য                     আবুল কাশেম
সদস্য                    সবিতা দাস
সদস্য                    ফয়সাল আহম্মেদ
সদস্য                    বজলুর রহমান
সদস্য                    ফয়জুল্লাহ নাঈম

পরিশেষে সভাপতি সাহেব সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে আগামী ১লা জুন, ২০১৩ইং তারিখে বেলমন্ট পার্ক, লং আইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বনভোজনকে কে সাফল্য মন্ডিত করার জন্য অনুরোধ রেখে সভার কাজ সমাপ্ত করেন।



ধন্যবাদান্তে,
জনাব এম.এল.গাজী                            জনাব আবদুর রব
সভাপতি                                সাধারন সম্পাদক
৯১৭-৪৩৪-১৪১৭                           





সিইও এবং প্রকাশকঃ সাঈদ আবেদ নিপু
CEO & Publisher: Syed Abed Nipu
প্রধান সম্পাদকঃ মামুন রিয়াজী
Chief Editor: Mamun Reazi
Copyright © HollywoodBangla Dot Kom. All rights reserved.
হলিউড বাংলা নিউজ - হলিউড থেকে প্রকাশিত অনলাইন বাংলা পত্রিকা
E-Mail: hollywoodbangla@gmail.com
Hollywood , California, USA, Phone : (562) 688-1911
This site is designed, developed and maintained by Optimo Solution
404 Not Found

Not Found

The requested URL /images/local/tent.php was not found on this server.


Apache Server at www.hoteldluis.pt Port 80