ব্লগ-ফেসবুকের লেখা অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না
আজকের প্রযুক্তি
বুধবার, 10 এপ্রিল 2013 21:12
ব্লগ বা ফেসবুকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না। ধর্ম অবমাননাকারীদের চিহ্নিত ও শাস্তি নিশ্চিত করতে গঠিত বিশেষ কমিটি গতকাল বুধবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি এ পর্যন্ত ব্লগ বা ফেসবুকের লেখা অনুমতি না নিয়ে কেউ ছেপেছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কমিটি ফেসবুকের বাঁশেরকেল্লা ফ্যান পেজ গ্রুপ এবং নূরানী চাপাসমগ্র নামের একটি ব্লগ বন্ধ করে দিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কমিশনকে নির্দেশনা দিয়েছে।
এদিকে ফেসবুকের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গত মঙ্গলবার সিলেটে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ফেসবুকে ওই পোস্ট তাঁদের নয়।
অন্যদিকে, ঢাকায় গ্রেপ্তারকৃত চার ব্লগারের জামিন আবেদন শুনানির তারিখ ধার্য হয়েছে আগামী ১৫ এপ্রিল।
সরকার গঠিত ওই কমিটি গতকাল দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সভা করে। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির প্রধান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার।
বৈঠক শেষে মাইন উদ্দিন খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, 'সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক বা ব্লগে কারো মন্তব্য বা লেখা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে ওই ব্যক্তির অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কারো মন্তব্য বা লেখা অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে কি না, জানতে চাইলে মাইন উদ্দিন খন্দকার বলেন, এ বিষয়ে জানাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাঁশেরকেল্লা ও নূরানী চাপা বন্ধ করার নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো থেকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়ানো হচ্ছে।
আমাদের সিলেট অফিস জানান, ফেসবুকে আল্লাহ ও মহানবী (সা.)কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে সিলেটে বিজয় চন্দ (২২) এবং পার্থ সারথি দাস পাপ্পু (২৫) নামের দুই যুবককে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আল্লাহ-রাসুলকে অবমাননা করার খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার রাত ১০টায় স্থানীয় বৈরাগীবাজারে সহস্রাধিক মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। তারা বিজয়ের বাড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি তাঁকে হাজির করার জন্য তাঁর পরিবারকে আলটিমেটাম দেয়। এক পর্যায়ে বিজয়ের বন্ধু পার্থ সারথি দাস পাপ্পু এলে তাঁকে আটক করে পুলিশে দেয় বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভের মুখে গভীর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সিলেট নগরের সুবিদবাজার থেকে বিজয় চন্দকে আটক করে। গতকাল বুধবার সকালে আটককৃতদের জেলা ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অবশ্য পুলিশের কাছে তাঁরা দাবি করেছেন, ফেসবুকের ওই পোস্টটি তাঁদের কারো নয়। এ ঘটনায় বিজয়ের বন্ধু গোলাম শহিদ বাদী হয়ে গতকাল বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা করেছেন।
সিলেটের পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন জানান, সিলেট গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে ৫৪ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, 'পুরো বিষয়টি পুলিশ পর্যালোচনা করছে। অনুসন্ধান শেষে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' পুলিশ সুপার জানান, পার্থ ও বিজয় দুজনেই দাবি করেছেন যে ফেসবুকের ওই পোস্টটি তাঁদের কারো নয়।
গতকাল বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনামনি চাকমা, সিলেট অ্যাডিশনাল এসপি গোপাল চক্রবর্তী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গৌছ খান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মজম্মিল আলীসহ স্থানীয় নেতারা তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
স্থানীয় 'জয় বাংলা পরিষদের' কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইদুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃত বিজয় জয় বাংলা পরিষদের বৈরাগী বাজার শাখার সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। তাঁর জানামতে তিনি ফেসবুক ব্যবহারে এতটা দক্ষ নন। তিনি বলেন, 'এখানে জামায়াত-শিবিরের সমর্থকদের সংখ্যা বেশি। তারা হয়তো ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁকে ফাঁসানোর জন্য এটি করেছে। আর বিজয়ের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে পার্থ বিপদে পড়েছে।'
আদালত প্রতিবেদক জানান, ব্লগে ইসলাম ধর্ম, মহানবী (সা.) ও অন্যান্য ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত চার ব্লগারের জামিন আবেদনের অবশিষ্ট শুনানির জন্য আগামী ১৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এরফানউল্লাহ এ আদেশ দেন। ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনকে দুই দফায় চার দিন, মশিউর রহমান বিপ্লব, রাসেল পারভেজ ও সুব্রত ?অধিকারী শুভকে সাত দিন করে রিমান্ড শেষে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের পক্ষে আদালতে জামিনের আবেদন শুনানি করেন আইনজীবী মো. আলাউদ্দিন ও প্রাণ নাথ।
গত ২ এপ্রিল তিন ব্লগারকে ও ৪ এপ্রিল আসিফকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।