আজকের প্রযুক্তি
হ-বাংলা নিউজ : হলিউড থেকে : মুখে-মাথায় কাপড় বেঁধে, বন্দুক হাতে ব্যাংক ডাকাতির পরিবর্তে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট দিয়ে অভিনব কায়দায় ডাকাতি চালিয়েছে সাইবার আক্রমণকারীদের আন্তর্জাতিক একটি চক্র। ২০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় সাড়ে চার কোটি ডলার লুটে নিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিউ ইয়র্কের এক আদালতে ওই সাতজনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইনজীবীরা জানান, অভিযুক্ত সাইবার অপরাধী চক্রটি মধ্যপ্রাচ্যের দুটি ব্যাংকের ডেবিট কার্ড-সংক্রান্ত গোপন তথ্য চুরি করেছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া ডেবিট কার্ড তৈরি করে বিভিন্ন এটিএম বুথ থেকে ৪০ হাজারেরও বেশিবার ডলার তুলেছে তারা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এভাবে ডলার তোলা হয়েছে। এসব ডাকাতির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে নিউ ইয়র্কের পুলিশ ২২ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মার্কিন এ চক্রের আরেক সদস্য আলবের্তো ইয়ুসি লাহুদ পেনিয়া (২৩) গত ২৭ এপ্রিল ডোমিনিকান রিপাবলিকে হত্যার শিকার হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। জাপান, কানাডা, ব্রিটেন, রোমানিয়া ছাড়াও আরো ১২টি দেশের আইন প্রয়োগকারী বাহিনী এ ঘটনার তদন্তে সহায়তা করছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক রাকব্যাংক ও ওমানভিত্তিক ব্যাংক অব মাস্কট ওই চক্রের সাইবার ডাকাতির শিকার হয়েছে। হ্যাকাররা এ দুটি ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমে ঢুকে প্রিপেইড ডেবিট কার্ড-সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় করেছে।
এ ধরনের কার্ড দিয়ে ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা ডলারই কেবল ওঠানো যায়, ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া সম্ভব হয় না। হ্যাকাররা ডেবিট কার্ডে ডলার তোলার সর্বোচ্চ অঙ্ক-সংক্রান্ত সীমারেখা বাতিল করে দেয়। তারপর এসব তথ্য বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা সহযোগীদের কাছে পাচার করে। এ ধরনের সহযোগীদের 'ক্যাশার' নামে ডাকে চক্রটি। ক্যাশাররা গোপন তথ্য ব্যবহার করে গিফট কার্ড, হোটেল কক্ষের তালা খুলতে যেসব কার্ড ব্যবহৃত হয় সেগুলোসহ অন্যান্য চৌম্বক কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন এটিএম বুথ থেকে ডলার উঠিয়ে নেয়। রাকব্যাংকের প্রায় সাড়ে চার হাজার বুথ থেকে প্রায় ৫০ লাখ ডলার ওঠানো হয়। আর গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংক অব মাস্কটের বিভিন্ন বুথ থেকে মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় চার কোটি ডলার উঠিয়ে নেয় তারা।
ওই সাতজনের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ডাকাতি করা অর্থ ধরে রাখতে চক্রটি তড়িঘড়ি করে পোরশে ও মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের দামি গাড়ি ও রোলেক্স ঘড়ি কিনেছে। মাইয়ামিতে একটি ব্যাংক হিসাবও খুলেছে। গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ইউএস সিক্রেট সার্ভিস ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছেন। আইনজীবীরা তাদের প্রত্যেকের ৭৫ বছর করে কারাদণ্ডের আবেদন জানিয়েছেন। সূত্র : বিবিসি, টেলিগ্রাফ।