প্রবাসী লেখকদের কলাম
একালের বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জননন্দিত লেখক সদ্য প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের বেশিরভাগ লেখায় তাঁর প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন এবং সন্তান
নোভা-শীলা-বিপাশা-নুহাশদের প্রতি অদ্ভুত ভালবাসা দেখা গেছে । আবার দ্বিতীয় বিয়ের পর তাঁর সাহিত্যে অভিনেত্রী শাওন ও তার দুই ছেলে নিষাদ-নিনিত`র উপস্থিতি ছিল প্রবল।
আর এসময় প্রথম পক্ষের স্ত্রী-সন্তানরা ক্রমশ তাঁর জীবন ও সাহিত্য থেকে আড়াল হয়ে যায় । তবে ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালীন তার লেখা ‘তিন ডব্লিউ’’তে উঠে আসে কন্যা নোভা, শিলা ও বিপাশা আহমেদের কথা।
আর এ লেখাতে যেমন ছিল কন্যাদের প্রতি তার অন্যরকম ভাললাগার কথা, তেমনি ছিল তাদের উপেক্ষা করারও কিছু কথা। যা তুলে ধরা হলো:
আমার এখন চার নাতি-নাতনি। আমি যেখানে বাস করি, তা তাদের জন্য নিষিদ্ধ বলে এদের আমি দেখি না। ওরাও গ্র্যান্ডপা ডাকার সুযোগ পায় না।
`এভরি ক্লাউড হ্যাজ এ সিলভার লাইনিং`। আমার কর্কট রোগের সিলভার লাইনিং হলো, এই রোগের কারণে প্রথমবারের মতো
আমার তিন কন্যা আমাকে দেখতে তাদের সন্তানদের নিয়ে `দখিন হাওয়া`য় পা দিল। ঘরে ঢুকল তা বলা যাবে না। বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করতে লাগল। সূর্যের চেয়ে বালি গরম হয়- এ আপ্তবাক্য সত্য প্রমাণ করার জন্য মেয়েদের স্বামীরা মুখ যতটা শক্ত করে রাখার, ততটা শক্ত করে রাখল। অবশ্য আমিও সেই অর্থে তাদের দিকে যে ফিরে তাকালাম, তা নয়। ঘরভর্তি মানুষ। মেয়েদের দেখে হঠাৎ যদি আবেগের কাছে আত্মসমর্পণ করে কেঁদে ফেলি, সেটা ভালো হবে না। আমি আমার তিন ডব্লিউর অর্থাৎ তিন কন্যার গল্প বলি।
১. প্রথম ডব্লিউ
নোভা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন শিক্ষকতা করেছে। আমেরিকা থেকে পিএইচডি করে বর্তমানে দেশে ফিরেছে। পিএইচডি ডিগ্রির সঙ্গে সে হিজাবও নিয়ে এসেছে। মাশাআল্লাহ, কেয়া বাত হায়। আমি যখন নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছি, তখনকার কথা। ইউনিভার্সিটি আমাকে বাগান করার জন্য দুই কাঠা জমি দিয়েছে। আমি মহা উৎসাহে শাইখ সিরাজ হয়ে গেলাম। খুন্তি, খুরপি, কোদাল কিনে এক হুলুস্থূল কাণ্ড। মহা উৎসাহে জমি কোপাই, পানি দিই। বীজ বুনি। আমার সার্বক্ষণিক সঙ্গী কন্যা নোভা।
বিকাল পাঁচটায় ইউনিভার্সিটি থেকে ফিরে দেখি, বাড়ির সামনে খুরপি ও কোদাল নিয়ে নোভা বসে আছে। প্রথমে জমিতে যেতে হবে, তারপর বাসায় ঢোকা। যেদিন ফসলে জমি ভরে গেল, সেদিনের দৃশ্য_ মেয়ে গাছ থেকে ছিঁড়ে টকটকে লাল টমেটো প্লাস্টিকের বালতিতে ভরছে এবং বলছে, বাবা, আই মেইড ইট! (মেয়ে তখনো বাংলা বলা শেখেনি)। মেয়ের আনন্দ দেখে চোখ মুছলাম।
২. দ্বিতীয় ডব্লিউ
নাম শীলা। শুরুতে ছিল শীলা আহমেদ। স্বামী এসে স্ত্রীর নামের শেষে ঘাপটি মেরে বসে থাকা বাবাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে ফেলে দেয়। এখন শীলার নামের অবস্থা কী, জানি না। এই মেয়েটিও বড় বোনের মতো মেধাবী। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে অনার্স ও এমএতে ইকোনমিকসে প্রথম শ্রেণী পেয়েছে। এখন তার গল্প। তখন শীলার বয়স ১২ কিংবা ১৩। সবাইকে নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়েছি। হোটেলে ওঠার সামর্থ্য নেই। বন্ধু ফজলুল আলমের বাসায় উঠেছি (ফজলুল আলম হচ্ছে আগুনের পরশমণির শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমের ছোট ভাই)। আমি ক্যাম্পিং পছন্দ করি, ফজলু জানে। সে বনে ক্যাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করল। আমরা জঙ্গলে এক রাত কাটাতে গেলাম। প্রচণ্ড শীত পড়েছে। তাঁবুর ভেতর জড়সড় হয়ে শুয়ে আছি। একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম। গভীর রাতে ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দে ঘুম ভাঙল। দেখি, শীলা বসে আছে। ফুঁপিয়ে কাঁদছে। আমি বললাম, মা, কী হয়েছে?
আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।
আমি বুঝলাম, এই মেয়ে কঠিন ক্লস্ট্রোফোবিয়া। আসলেই সে নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে না। আমি বললাম, গরম কাপড় পরো। তাঁবুর বাইরে বসে থাকব।
সে বলল, একা একা থাকতে পারব না। ভয় লাগে। কিছুক্ষণ একা থাকতে গিয়েছিলাম।
আমি বললাম, আমি সারারাত তোমার পাশে থাকব।
তাই করলাম। মেয়ে এক পর্যায়ে আমার কাঁধে মাথা রেখে নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাল। সকাল হলো। মেয়ের ঘুম ভাঙল। সে বলল, বাবা, তুমি একজন ভালো মানুষ।
আমি বললাম, মা! পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ মানুষ আছে, একজনও খারাপ বাবা নেই।
এখন মনে হয় শীলা বুঝে গেছে। পৃথিবীতে খারাপ বাবাও আছে। যেমন তার বাবা।
৩. তৃতীয় ডব্লিউ
তৃতীয় কন্যার নাম বিপাশা। অন্য সব ভাইবোনের মতোই মেধাবী (বাবার জিন কি পেয়েছে? হা হা হা। আমাকে পছন্দ না হলেও আমার জিন কিন্তু মেয়েকে আজীবন বহন করতে হবে)।
এই মেয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ইকোনমিকসে অনার্স এবং এমএতে প্রথম শ্রেণী পেয়ে আমেরিকায় কী যেন পড়ছে। আমি জানি না। আমার ধারণা, এই মেয়েটি অসম্ভব রূপবতী বলেই খানিকটা বোকা। তার বালিকা বয়সে আমি যখন বাইরে কোথাও যেতাম, সে আমার সঙ্গে একটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের শিশি দিয়ে দিত। এই শিশিতে নাকি তার গায়ের গন্ধ সে ঘষে ঘষে ঢুকিয়েছে। তার গায়ের গন্ধ ছাড়া আমি ঘুমুতে পারি না বলেই এ ব্যবস্থা।
যেদিন আমি আমেরিকা রওনা হব, সেদিনই সে আমেরিকা থেকে তিন মাসের জন্য দেশে এসেছে। আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। একবার ভাবলাম বলি_ মা, অনেক দিনের জন্য বাইরে যাচ্ছি। ফিরব কি না তাও জানি না। এক শিশি গায়ের গন্ধ দিয়ে দাও। বলা হলো না। আমার তিন কন্যাই দূরদ্বীপবাসিনী। ওরা এখন আমাকে চেনে না, হয়তো আমিও তাদের চিনি না। কী আর করা?
হুমায়ূন ভাই গুলতেকিনের নাম দেন 'জরি'
রীতা রায় মিঠু : যুক্তরাষ্ট্র থেকে : দুমাস দেশে কাটিয়ে চার দিন হলো মিসিসিপিতে ফিরেছি। স্বজন ছেড়ে আসার বেদনা আর ৩৮ ঘণ্টার বিরক্তিকর প্লেন জার্নিতে এতটাই ক্লান্ত ছিলাম যে, পত্রিকার পাতায় চোখ বোলানোর শক্তিটুকুও ছিল না। দেশে থাকতেই হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু সংবাদ পেয়েছি, কিন্তু এর পরবর্তী সংবাদগুলো সময়মতো জানতে পারিনি। আজ অনলাইনে গত সাতদিনের বাসি সংবাদে চোখ বোলাতেই দেখি, সংবাদের পুরোটা জুড়ে হুমায়ূন। অবাক হইনি, গত বছর সেপ্টেম্বরে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পর থেকে গত ১৯ জুলাই 'না ফেরার দেশে' চলে যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি দিন তিনি সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছেন।
তবে গত চারদিনের খবর পড়তে গিয়ে বেশ কয়েকবার চোখ আটকে গেছে, নতুন নাম 'কুসুম'-এর প্রতি। শাওনের নামই কুসুম, এ তো আগে জানা ছিল না! অবশ্য না জানারই কথা, শাওনকে 'কুসুম' নামে ডাকতেন শুধু একজন, তিনি হুমায়ূন আহমেদ। 'কুসুম' নামটি তারই দেওয়া। কুসুমের দিকে তাকিয়েই আমার আরেকটি নাম মনে পড়ে গেল, 'জরি'। পত্রিকার পাতায় তন্ন তন্ন করে খুঁজছিলাম 'জরি'কে। কুসুমের পাশাপাশি জরিরও তো থাকার কথা ছিল, কিন্তু জরিকে পেলাম না। পরে খেয়াল হলো, কুসুম আর জরির পাশাপাশি থাকার কথাও না। জরি ঝরে যেতেই কুসুম ফুটেছিল।
যদিও হুমায়ূনভক্তরা কখনো গ্রহণ করেনি। তাদের ভালোবাসা সম্মানের জায়গাজুড়েই ছিল 'জরি'।
আমি লেখক ও কথক হুমায়ূন আহমেদের পরম ভক্ত। বই পড়ে তাকে যতটুকু জেনেছি, তার চেয়েও বেশি জেনেছি কাছ থেকে দেখে। আজ থেকে ২৭ বছর আগে আমার বিয়ে হয়। আমার স্বামী জীবেন রায় কয়েক বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হুমায়ূন আহমেদের সহকর্মী ছিলেন। তা ছাড়া দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিস্ট্রির ছাত্র ছিলেন বলে বয়সের কিছুটা ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদেই হুমায়ূন আহমেদ ও তার পরিবারের সঙ্গে আমার পরিচয়। সেই পরিবারে খুব কাছে থেকে দেখেছি গুলতেকিন ভাবী, নোভা, শিলা, বিপাশা, খালাম্মা (মিসেস আয়েশা ফয়েজ), শিখু আপা (ছোট বোন)কে।
'৮৫ সালে জীবেনের সঙ্গে যখন আমার বিয়ে হয়, হুমায়ূন আহমেদ তখনো ব্যস্ত হয়ে ওঠেননি। বন্ধুবান্ধবকে সময় দিতে পেরেছেন। তবে ব্যস্ত না হলেও জনপ্রিয় হতে শুরু করেন। ওই বছরই বিটিভিতে প্রচারিত তার লেখা প্রথম ধারাবাহিক নাটক 'এইসব দিনরাত্রি' তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বিয়ের আগে থেকেই আমি হুমায়ূন আহমেদের লেখার ভক্ত। আমার পরম সৌভাগ্য যে, আমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রখানি হুমায়ূন ভাই করে দিয়েছিলেন। পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ততা থাকায় আমাদের বিয়েতে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি, তবে লাল টুকটুকে এক শার্ট পরে বউভাতে এসেছিলেন, একা। ভাবীকে সঙ্গে আনেননি কিন্তু তাদের বাসায় যাওয়ার নিমন্ত্রণ করেছিলেন। বিয়ের দু'মাস পর এক বিকালে জীবেনের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের আজিমপুরের বাসায় বেড়াতে যাই।
বেল টিপেছি, দরজা খুলতেই সামনে দাঁড়ানো যে সুন্দরী নারীকে দেখলাম, তিনিই যে গুলতেকিন ভাবী তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনি। গুলতেকিন ভাবীর গল্প আমি জীবেনের মুখে অনেকবার শুনেছি। আমেরিকা থাকাকালীন ছোট্ট নোভাকে কোলে নিয়ে তরুণী গুলতেকিনের ছবি আমার স্বামীর পুরনো অ্যালবামে এখনো জ্বলজ্বল করছে। একই ক্যামেরায় বন্দী হুমায়ূন আহমেদ, গুলতেকিন আহমেদ ও শিশু নোভার ছবি এখনো একটি সুখী পরিবারের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। ভাবী যে সুন্দরী ও স্মার্ট ছিলেন, সেই ছবিগুলো দেখেই তা আঁচ করেছিলাম। সেই ভাবীই পরম সমাদরে আমাদের ভেতরের ঘরে নিয়ে গেলেন। সেই ঘরে হুমায়ূন ভাই তখন বেতের সোফায় পা তুলে বসে সিগারেট টানছিলেন। ভাবীকে দেখার আগে ভেবেছিলাম এমন নামিদামি লেখকের স্ত্রী নিশ্চয়ই খুব অহংকারী হবেন। আমার মতো সাধারণ এক মেয়েকে হয়তো পাত্তাই দেবেন না। কিন্তু ভাবীকে সামনাসামনি দেখে একটু চমকালাম। খুব সাধারণ ছাপা সুতির শাড়িতে ভাবীকে একটুও অহংকারী লাগছিল না, বরং দারুণ স্নিগ্ধ ও সুন্দর লাগছিল। আমার মনে আজও সেই ছবি ভেসে ওঠে। বিশাল ধনী পরিবারের মেয়ে হলেও তাকে বরং লেখক স্বামীর বউ হিসেবেই বেশি মানিয়েছিল। প্রথমদিন থেকেই হুমায়ূন ভাইয়ের পারিবারিক পরিমণ্ডল আমার মনে দাগ কেটে যায়। সাধারণ মধ্যবিত্তের সংসারের চারদিকে সুখ যেন উপচে পড়ছিল। কন্যা অন্তঃপ্রাণ হুমায়ূন ভাইয়ের দুই বছর বয়সী কন্যা বিপাশা বাবার চারপাশে ঘুরঘুর করছিল, মেয়ের সঙ্গে খেলা করতে করতেই তিনি আমাদের সঙ্গে গল্প চালিয়ে যাচ্ছিলেন। দারুণ সংসারী বউয়ের মতোই ভাবী নিজ হাতে চা-নাস্তা বানিয়ে আমাদের আপ্যায়ন করেছিলেন।
এরপর গুলতেকিন ভাবীকে নিয়ে হুমায়ূন ভাই এসেছিলেন ক্লিনিকে, আমাদের প্রথম সন্তান মৌটুসীকে দেখতে। একগুচ্ছ লাল গোলাপ ও হুমায়ূন আহমেদের লেখা তিনটি বই হাতে ভাবীকে চমৎকার দেখাচ্ছিল। সেদিনও তার পরনে ছিল ঘিয়ে রংয়ের জমিনে হালকা ছাপা সুতি শাড়ি, ভাবীকে শুরু থেকেই আমার ভালো লেগে যায়। মৃদুভাষী মানুষটি নিজে কম কথা বললেও বাকপটু স্বামীর কাছাকাছি থাকতেই মনে হয় বেশি ভালোবাসতেন। তাকে দেখলেই মনে হতো স্বামী গরবে গরবিনী এক নারীকে দেখছি। এই সুখী দম্পতির সুখের সংসার দেখার লোভে এরপরও কতবার গেছি তাদের বাসায়। ঘরে কী লক্ষ্মী তিনটি মেয়ে, সারাক্ষণ নিজেদের মধ্যেই হুটোপুটি, হাসাহাসি করত। খেলার মাঝখানেই নোভা বা শিলা বাবার কাছে এসে একটু থেকেই আবার খেলায় ফিরে যেত। হুমায়ূন ভাই গল্প করতে পারতেন দারুণ। সেদিনও ক্লিনিকে স্বামী-স্ত্রীতে মিলে কত মজার মজার গল্প শুনিয়েছিলেন এক নতুন মা'কে।
হুমায়ূন ভাইয়ের শহীদুল্লা হলের বাসায় এক সকালে গিয়ে হাজির হয়েছি। দরজার কড়া নাড়তেই ভাবী দরজা খুলে দিয়ে আমাদের ভেতরে ঢুকিয়ে বললেন, 'জীবেনদা, আপনার বন্ধু আইন জারি করেছে, কেউ এসে তার খোঁজ করলে যেন বলে দেই তিনি বাড়িতে নেই। ঈদসংখ্যার উপন্যাস লিখছে তো, তবে আপনার জন্য এই আইন খাটবে না'। খবর পেয়ে হুমায়ূন ভাই এলেন এবং অনেকক্ষণ গল্প করলেন। হুমায়ূন ভাই যখন গল্প করতেন, মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতাম। ভাবীও পাশে বসে থাকতেন। গল্প করার ফাঁকেই ভাবী নিজহাতে চা-নাস্তা নিয়ে আসতেন। গল্প চলাকালীন হুমায়ূন ভাইকে একদিন জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ভাবীকে প্রথম দেখার অনুভূতি সম্পর্কে। বললেন, 'দূর থেকে দেখে মনে হয়েছিল ফুটফুটে এক পরী হেঁটে আসছে'। এটা শুনে ভাবী মিটিমিটি হাসছিল। বিয়ের এত বছর পরও স্বামীর মুখ থেকে এমন মধুবাক্য ক'জন স্ত্রী শুনতে পায়! এরপর হুমায়ূন ভাই বললেন, 'আর কী কী জানতে চাও, বলে ফেলো'। জানতে চাইলাম 'আপনার উপন্যাসের নায়িকাদের নাম সব সময় জরি, নীলু না-হয় রূপা হয়ে থাকে। বিশেষ করে জরি। এই জরিটা কে?' উত্তরে পাশে বসা সুন্দরীকে দেখিয়ে বললেন, 'ইনিই হচ্ছেন জরি। গুলতেকিনকে আমি জরি নামে ডাকি, আমার দেওয়া নাম এটা।' সেদিন আর কিছু জানতে চাইনি। সুখী দম্পতির গল্প শোনা হয়ে গেছে।
আরেক দুপুরে জীবেন হুমায়ূন ভাইয়ের বাসা থেকে ফিরেছে হাতে 'নক্ষত্রের রাত' বইটি নিয়ে। হাতে নিয়ে বইটি খুলে দেখি, 'মিঠু ভাবীকে, টিঙ্কু আহমেদ'। টিঙ্কু আহমেদ কে? জানলাম গুলতেকিন ভাবীর আরেক নাম। সেদিনের সেদিনটি ছিল শিলার জন্মদিন। ভাবী নিজ হাতেই অনেক কিছু রান্না করেছিলেন। খাওয়াপর্ব শেষ হতেই ভাবী আমার জন্য 'নক্ষত্রের রাত' বইটি নিয়ে আসেন। ভেতরে উপহারবাণীতে নিজের নাম স্বাক্ষর করেছিলেন। বইয়ের ভেতর ভাবীর স্বাক্ষর দেখে আবারও একজন সফল লেখকের গর্বিতা স্ত্রীকেই যেন খুঁজে পেলাম।
শেষবার ভাবীর সঙ্গে দেখা হয় ১৯৯১-'৯২ এর দিকে। বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের ধারাবাহিক নাটক 'অয়োময়' তখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। এক বিকালে জীবেন 'অয়োময়' নাটকের শুটিং দেখাতে নিয়ে যাবে বলতেই সানন্দে রাজি হয়ে গেলাম।। ঠিক হলো প্রথমে হুমায়ূন ভাইয়ের বাড়িতে যাব, তারপর তার গাড়িতে করেই টিভি স্টেশনে যাব। তারা তখনো শহীদুল্লাহ হলের বাসাতেই থাকতেন। বিকালে তাদের বাড়িতে যাওয়ার পর অনেকক্ষণ আড্ডা হলো। বেডরুমের ফ্লোরে সবাই গোল হয়ে বসে গল্প চলছিল। পাশের রুমে তিন মেয়ের হুটোপুটি আর খিলখিল হাসির আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই চায়ের ট্রে হাতে গুলতেকিন ভাবী এসে আমাদের পাশে বসলেন। সাদার উপর কালো প্রিন্টের জামা, সাদা সালোয়ার, সাদা ওড়নায় তাকে বিষণ্ন দেখাচ্ছিল। তাকে দেখামাত্র 'বিষণ্ন সুন্দরী' শব্দটি আমার মাথায় গেঁথে গেল। এক বছর আগেই তাদের প্রথম পুত্র রাশেদ হুমায়ূন জন্মেই মারা যায়। সেই শোক তখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ভাবী যতক্ষণ আমাদের সঙ্গে বসেছিলেন, হুমায়ূন ভাই পুরোটা সময় ভাবীর হাঁটুতে পরম মমতায় আলতো করে চাপড় দিচ্ছিলেন। ছোট্ট এক দৃশ্য, কিন্তু আমার মনে দাগ কেটে গেছে। সুখের দৃশ্য, সুখী মানুষ দেখতে কার না ভালো লাগে!
সন্ধ্যার পর হুমায়ূন ভাই তার লাল টুকটুকে গাড়িতে চড়িয়ে আমাদের টিভি স্টেশনে নিয়ে গেলেন। শরীর খারাপ ছিল বলে ভাবী আসেননি (এর কয়েকমাস পরই নুহাশের জন্ম হয়)। অনেকক্ষণ শুটিং দেখলাম, দারুণ অভিজ্ঞতা। বাড়ি ফেরার তাড়া ছিল, শুটিং শেষ না হতেই আমরা বেরিয়ে এসেছি। হুমায়ূন ভাইয়ের গাড়িতে করেই বাসায় যাব, গাড়ির কাছাকাছি আসতেই পেছন থেকে প্রয়াত অভিনেতা মোজাম্মেল হোসেনের গলা শুনে থামলাম। জীবেনের নাম ধরে ডাকছেন, কাছে এসে জীবেনের সঙ্গে খুব নিচু স্বরে কিছু বললেন। জীবেনকে দেখলাম মাথা দোলাচ্ছিল। বাড়ি ফিরে জানলাম, 'হুমায়ূন ভাই আজ বাড়ি ফিরবেন না। গুলতেকিন ভাবী যদি হুমায়ূন ভাইয়ের কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করে, আমি যেন বলি, হুমায়ূন ভাই আমার সঙ্গেই আছে'! আমি প্রচণ্ড এক ঝাঁকুনি খেলাম। কাজের ব্যস্ততায় বাইরে থাকতে হতেই পারে, কিন্তু ভাবীকে মিথ্যা বলতে হবে কেন! জীবেন বলল, 'জানি না, মনে হয় হুমায়ূন ভাইয়ের বাইরে রাত কাটানো ভাবী পছন্দ করেন না'।
হুমায়ূন ভাই তার জরিকে না জানিয়ে এমনি আরও কত রাত বাইরে কাটিয়েছেন তা আমার জানার কথা নয়। তবে ঈশ্বর সেদিন আমাদের সহায় ছিলেন, জীবেনকে মিথ্যা বলতে হয়নি। ওই সুন্দর সন্ধ্যার পর গুলতেকিন ভাবীর সঙ্গে জীবেন বা আমার আর কোনোদিন দেখা হয়নি। আমাদের চোখে তো হুমায়ূন ভাই আর তার 'জরি' ছিলেন স্বপ্নলোকের সুখী দম্পতি। সেই 'সুখী' দাম্পত্যের মধ্যে কখন ফাটল ধরেছিল তা একমাত্র তারাই বলতে পারতেন। সাধারণ মানুষ ২০০৫ সালের এক দুপুরে সংবাদ পেল, হুমায়ূন আহমেদ ও গুলতেকিন আহমেদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। মিসিসিপির তীরে বসে আমার শুধু মনে হলো, হুমায়ূন আহমেদের জীবন থেকে 'জরি' হারিয়ে গেল। গুলতেকিন খান নামের 'পরীর' মতো ফুটফুটে সুন্দর যে কিশোরী স্বল্প পরিচিত এক লেখকের জীবনে 'জরি' নামে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল, বিয়ের ৩২ বছর পর সেই 'পরী' তার 'জরি'র পোশাক ত্যাগ করে আবার গুলতেকিন খান নামেই নিজের ভুবনে ফিরে গেল।
হুমায়ূন কি নুহাশ পল্লীতে সমাধিস্থ হতে চেয়েছিলেন ?
গাজী কাশেম, নিউ ইয়র্ক থেকে : ২৮ ফেব্র“য়ারি, ২০১২। চলছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং। শীতের মাঝে বসন্তের আমেজ। এবার নিউ ইয়র্ক সিটিতে তুষারপাত হয়নি বললেই চলে। অন্য বছরের মতো সড়কের দু-ধারে কোনো বরফের স্তূপ নেই। বরফগলা পানি নেই। দিন ছোট, রাত শেষ না হতেই আবার রাত আসে। অন্ধকারে জীবন বেশি কাটে। আমার বাসা থেকে হুমায়ূন আহমেদের বাসা গাড়িতে মাত্র ৩ মিনিটের ড্রাইভ। পৌঁছে গেলাম সেই কোর্ট বিল্ডিংয়ের পেছনে অতি পরিচিত বাড়িতে। প্রধান ফটকের ধবল রঙের দরজা রাস্তার দিকে নুইয়ে আছে। দরজাটা টেনে ভেতরে আনলাম। দোতলায় উঠে গেলাম। দরজায় করাঘাত করতেই গৃহপরিচারিকা তিরমিজির কণ্ঠÑ ক্যাডা, ভিতরে আসেন, দরজা খোলা।
সোফায় বসে আছেন হুমায়ূনের শাশুড়ি তহুরা আলী। তাকে ইশারায় বললাম, স্যার কোথায়? তিনি হাতের ইশারায় দেখালেন, স্যার ভেতরের রুমে লেখালেখি করছেন। নিশাদ ছবি আঁকছে। পুরো লিভিং রুম নিষাদের আঁকা ছবিতে ছড়ানো-ছিটানো। আমার কণ্ঠ শুনতে পেয়ে শাওন রুম থেকে বের হয়ে এসে বললেন, ভাই একটা উপকার করবেন?
: জি বলেন?
: একটু গরুর কিমা লাগবে, কয়েকটা টমেটো লাগবে। হুমায়ূন সাহেব স্পাগাতি (নুডুলস, কিমা, টমেটো, রসুন দিয়ে রান্না) খেতে চেয়েছেন।
তাকিয়ে দেখলাম হুমায়ূন আহমেদ নামাজের বিছানায় বসেই লিখছেন। খুব দুর্বল শরীর। হুমায়ূন আহমেদের খাওয়া-দাওয়া একেবারে কমে গেছে। এখন তার রাত কাটে কয়েক লোকমা স্পাগাতি খেয়ে। কোনো খাবারই তিনি খেতে পারছেন না, শুধু অভিযোগÑ প্রত্যেক খাবারে শুধু গন্ধ। ঘর থেকে প্রায় ৭০০ ফুটের পর বাংলাদেশি গ্রোসারি ‘কাওরান বাজার’। কিমা আর টমেটো কিনে আমার আবার গৃহে প্রবেশ।
হুমায়ূন আহমেদ শোয়ার ঘরটা ছেড়ে ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে এসে বসলেন।
সালাম দিলাম।
: ওয়ালাইকুম সালাম।
মুখে তেমন একটা হাসি নেই। নীরব। নিনিত এসে হু-হু করছে তার কোলে উঠতে। আমাকে বললেন, নিনিতকে একটু ধরো। তিনি বেশ নীরব। ফ্যাল ফ্যাল করে জানলার কাচের দিকে তাকিয়ে আছেন।
: স্যার দাবা খেলবেন?
মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন, না।
দিনে দাবা খেলেছেন, রাতে আর খেলবেন না। তারপরও দাবা ঘরটা এনে সামনে রাখলাম। নীরব। এমন নীরব তাকে পূর্বের দিনগুলোয় কখনো আমি দেখিনি। নীরবতার কারণ ছিল ভিন্ন, আগামীকাল ২৯ ফেব্র“য়ারি। মাজহার সাহেব দেশে চলে যাবেন, তার কয়েকদিন পর শাওনের মা-ও চলে যাবেন। ১ মার্চ থেকে স্লোন ক্যাটারিংয়ে আর চিকিৎসা নিচ্ছেন না। ২ মার্চ থেকে সিটি হাসপাতাল বেলভ্যুতে ট্রিটমেন্ট শুরু হবে। (বেলভ্যু হাসপাতাল আর স্লোন ক্যাটারিং হাসপাতালের পার্থক্য, যেমন ঢাকা মেডিকেল কলেজ আর এ্যাপোলো হাসপাতাল)। অন্য দিকে কোনো কিছুই খেতে পারছেন না। আমাদেরকে জানালেন, ‘একি হল, যে গরুর মাংস আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল, এখন তার গন্ধ নিতে পারছি না, রেড মিট খাওয়া খুবই দরকার, আমার ব্লাডে রেড সেল খুবই কম। আল্লাহপাক সবই আমার কিসমত থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।’ এ ধরনের একটা কষ্ট তার মনটাকে দুমড়ে-মুচড়ে দিচ্ছিল। চোখ দুটিতে প্রচণ্ড কষ্ট। তিনি উঠে গিয়ে ছোট ঘরটায় ঢুকলেন, যে কক্ষটায় মাজহার সাহেব থাকেন। আমিও সাথে ঢুকলাম।
আমরা মুনিয়া মাহমুদ এবং মো. নুরুদ্দিনের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। রাত তখন ১১টা। মুনিয়া মাহমুদ এবং মো. নুরুদ্দিন এলেন।
৫ জনের আসর। গল্প চলছে। হুমায়ূন আহমেদ আজ তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা আহসান হাবিবের গল্প জুড়ে দিলেন, বললেন, শুনবে আমার ছোট ভাই আহসান হাবিবের এক কাণ্ড। গ্রামীণ ব্যাংকে ওর একটা চাকরি হয়েছিল। কোনো এক প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল। কয়েকদিন না যেতেই সে চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে বাড়ি চলে এলো। কীরে, কী হল, চাকরি ছাড়লি কেন? আহসান হাবিব বলল, সকালে নাস্তার অসুবিধা হয়Ñ এই কারণে চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছি। এ নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ বেশ হাসলেন, বললেন, ও সকালের নাস্তার জন্য চাকরি ছেড়ে দিয়ে এসেছে। তারপর নুহাশ পল্লীর গল্প শুরু হল।
এক পর্যায়ে মুনিয়া মাহমুদ বললÑ স্যার, আমাকে একটু নুহাশ পল্লীতে জায়গা দেবেন? হুমায়ূন আহমেদ বললেন, নূহাশ পল্লী তো কবরস্থান না। মুনিয়া মাহমুদ বলছিল যাতে সে সেখানে বেড়াতে যেতে পারে, আড্ডা দিতে পারে সেই কারণে।
মাজহার বললেন, কাশেম ভাই শুনেন, আরেক ঘটনা। স্যারের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমার মাধ্যমে বললেন, নুহাশ পল্লীতে তাকে একটু জায়গা দিতে। স্যার বললেন, এটা কি কবরস্থান? তিনি মুনিয়া মাহমুদকে এটাও বললেন, আমি চাই না, নুহাশ পল্লীকে বা আমার কবরটাকে মাজার বানাতে। তিনি পাবলিক লাইফের চেয়ে প্রাইভেট লাইফে বেশি বিশ্বাস করতেন। আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রেও তাই থাকতে চেয়েছিলেন বলে আমার মনে হল।
এই গল্পের পর হুমায়ূন আহমেদ বললেন, আমার ছোট ভাই আহসান হাবিবের আরেকটা মজার কাণ্ড শোনো। তোমরা তো জানো ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে আমার বাবা শহীদ হন। আমরা তখন পিরোজপুরে থাকতাম। আহারে, আমার বাবা জীবনে কোনোদিন আমাদের উপর হাত ওঠাননি। একটা বকাও দিতেন না। আমি চেয়েছিলাম বাবার কবরটা পিরোজপুর থেকে নুহাশ পল্লীতে নিয়ে আসতে। মা মারা গেলে বাবার পাশে মাকেও সমাধিস্থ করতে। এই ব্যাপারে আমার ভাই-বোনদের সাথে আলাপ-আলোচনা করলাম। তারা কেউ আমার এই প্রস্তাবে রাজি হল না। আমার ছোট ভাই আহসান হাবিব কী বলল জানো? বলল, আমরা যদি বাবার কবরটা পিরোজপুর থেকে ঢাকায় নিয়ে আসি তাহলে সেই পিরোজপুরের খালি কবরটা কী করব? সেখানে কি আমরা লিখে রাখব ‘টু-লেট’Ñ কবর ভাড়া দেয়া হবে। এ বলে অনেকক্ষণ হাসলেন।
মার্চের শেষে অথবা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে কোনো এক সন্ধ্যায় হুমায়ূন আহমেদ কেমোথেরাপির যন্ত্রণায় আমাকে বললেন, মাজহারকে ফোন দাও। বাংলাদেশ সময় তখন সকাল। আমি মাজহারকে ফোন দিলাম। পাশে শাওন এবং শাওনের মা। ডায়লগটা ছিল এইÑ
‘মাজহার, ৮টা কেমো শেষ হয়ে গেছে, এখন ডাক্তাররা আরো ৪টা কেমো দিতে যাচ্ছে, এটা তো আমার শরীর নাকি, তুমি আমাকে দেশে নিয়ে যাও। আমি নুহাশ পল্লীতে থাকতে চাই, নুহাশ পল্লীতে আমি মরতে চাই।’
হুমায়ূন আহমেদ ক্লিয়ার কোনো ইঙ্গিত আমাদের সামনে দেননি যে তার মৃত্যুর পর কোথায় তাকে সমাধিস্থ করা হবে। এত তাড়াতাড়ি তাকে অন্ধকার গ্রহে চলে যেতে হবে, এটা তিনি ভাবতে পারেননি। যেখানে স্লোন ক্যাটারিংয়ের বিখ্যাত অনকোলজিস্ট বলেছেন, তুমি ২ থেকে ৪ বছর বাঁচবে। তিনি প্রথমটাই ধরে নিয়েছিলেন। দু বছর। সেই কারণেই অপেক্ষা চলছিল এবং এই সময়ের ভেতরে আরো কিছু কাজ করে যেতে চেয়েছিলেন।
৩০ জুন, রোববার। বেলা ২টা হবে। ম্যানহাটন ডাউন টাউন। ১৪ নং স্ট্রিট এবং ইউনিয়ন স্কয়ারের মোড়। আমার গাড়িতে করে আমি, পূরবী বসু, শাওন এবং মাজহার ওখানে পৌঁছি। ‘বেস্ট বাই’ দোকান থেকে একটা ভয়েস-রেকর্ডার কেনা হয়। হুমায়ূন আহমেদের শেষ কথাগুলো রেকর্ড করার জন্য। মনে হয় তা আর হয়ে ওঠেনি। তখন মাজহার আর শাওন স্বপ্নের ঘোরে বাস করছিলেন। আমি যা দেখেছি-বুঝেছি তার অবস্থা দেখে মনে হয়েছিল তিনি ২৮-২৯ জুন থেকে লাইফ সাপোর্টে চলে যান। যদি সেই সময়ে তিনি লাইফ সাপোর্টে না যেতেন, তাহলে তার শেষ ইচ্ছাগুলো অনায়াসে রেকর্ড করা যেত। আজ তার দাফন নিয়ে এত জটিলতা দেখা দিত না।
| < পূববর্তী | পরবর্তী > |
|---|
২৭তম ফোবানা সম্মেলন কোনভাবেই রাজনৈতিক নয়, প্রবাসীদের সর্বজনীন মিলন মেলা 17 মে 2013
প্রবাসের রাজনীতিতে বাঙালি 01 এপ্রিল 2013
নিউইয়র্কে জামায়াতের দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র 31 মার্চ 2013
শেষ পর্যন্ত নেত্রী নিজেই না তো-! : সাঈদ তারেক 29 মার্চ 2013
সৌদি সরকারের জিরো টলারেন্স, দিশেহারা লাখ লাখ প্রবাসী 29 মার্চ 2013
গার্বেজের ফ্যাসাদে হুমায়ূন পরিবার 29 মার্চ 2013
সাবধান, বিদেশি নোটে হাজারো ব্যাকটেরিয়া ! 28 মার্চ 2013
চাঁদের কলঙ্কের মতো হাতির ঝিলের বিষফোঁড়া - সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল 28 মার্চ 2013
বিষাদ ও বেদনার গ্লানিতে স্বাধীনতার মাস - এবিএম সালেহ উদ্দীন 25 মার্চ 2013
দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ কি ‘ইসলাম পন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ !’ - সাঈদ তারেক 19 মার্চ 2013