বিশেষ খবর

হ-বাংলা নিউজ : ঢাকা থেকে : মিরপুরের তরুণী ফারহানা হক। বহুদিনের সাধ ছিল তার যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ডের মালিক হওয়ার। একদিন মার্কিন প্রবাসী গ্রিনকার্ডধারী এক বাংলাদেশিকে বিয়ে করে সেই সাধ পূরণ হয় তার। কিন্তু তিনি এবার নতুন করে শুরু করেন অন্য চিন্তা। বিয়ে করে স্বামীর পরিচয়ে লোকজনকে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। এ চিন্তা থেকেই তিনি ইতোমধ্যে তিনজনকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে গেছেন।
এ জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনি নিয়েছেন ২০-২৫ লাখ করে টাকা। সম্প্রতি এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা। অভিনব কৌশলে স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় আদম পাচারের এমন চাঞ্চল্যকর খবরে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নড়ে চড়ে বসেছে। গোয়েন্দা পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে, একটি চক্র মিথ্যা বিয়ের কাগজপত্র তৈরি করে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একাধিক নারী ও পুরুষের কাছ থেকে ২০-২৫ লাখ করে টাকা নিয়ে তাদের আমেরিকায় পাচার করছে। ওই চক্রের এমন কার্যকলাপের কারণে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতারণার শিকার এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়েই আদম পাচারের ওই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ফারহানা হক ওই চক্রের সদস্য। তিনি স্বামী সাজিয়ে ইতোমধ্যে তিন ব্যবসায়ীকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছেন। একই কৌশলে আরও একজনকে আমেরিকায় নেওয়ার চেষ্টা করলে ঘটনাটি আইনশৃক্সখলা বাহিনীর সদস্যদের নজরে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী মো. রিয়াজ ১৯৯৯ সালের ১৭ এপ্রিল ফারহানা হককে বিয়ে করেন। ২০০০ সালের ৩ আগস্ট তাদের একটি সন্তানের জন্ম হয়। এরপর ১৯৯৫ সালে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি থানার শুয়াকৈর গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল ইসলামের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
এক পর্যায়ে আগের বিয়ে ও সন্তানের বিষয় গোপন করে ফারহানা গ্রিনকার্ডের লোভে ডিভি লটারি জয়ী জহুরুল ইসলামের সঙ্গে সাজানো বিয়ে দেখিয়ে তার স্ত্রী হয়ে যুক্তরাষ্ট্র যান। সেখানে গ্রিনকার্ড হাতে পেয়েই তিনি দেশে ফিরে খায়রুল নামের আরেক ব্যবসায়ীকে সাজানো স্বামী দেখিয়ে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে যান। একইভাবে অল্প দিন পর তিনি সিরাজুল ইসলাম নামে আরও একজন ব্যবসায়ীকে এভাবে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে যান। ব্যবসায়ী মো. রিয়াজ অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী ফারহানা যুক্তরাষ্ট্র চলে গেছেনথ এমন খবর পেয়ে তিনিও যুক্তরাষ্ট্র যান।
সেখানে তিনি ফারহানার সঙ্গে দেখা করে তাকে বুঝিয়ে দেশে আনার চেষ্টা করেন। ওই সময় ফারহানা আইনি জটিলতার কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ফের তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করেন। রিয়াজ তার সন্তানের কথা ভেবে দেশে ফিরে আসার জন্য শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। না পেরে তিনি নিজেই বাংলাদেশে ফিরে আসেন। জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে ফারহানা দেশে এসেছেন। তিনি আবার জালজালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিয়ের কাগজপত্র তৈরি করে আরও একজন ব্যবসায়ীকে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ব্যাপারে ফারহান হকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে চাননি।
| < পূববর্তী | পরবর্তী > |
|---|
বাপ্সনিউজকে নও মুসলিম লরেন বুথ - ইসলাম আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে 28 মার্চ 2013
ইউএনএ’র অনুসন্ধানী রিপোর্ট - আ.লীগ-বিএনপি’র সভা-সমাবেশ নিয়ে ভুল তথ্য ॥ কমিউনিটিতে বিভ্রান্তি ॥ প্রশ্নবিদ্ধ সাংবাদিকতা 16 মার্চ 2013
নবীজী (সা.) সম্পর্কে জর্জ বার্নার্ড শ 09 মার্চ 2013
জেনে নিন আপনি পৃথিবীর কততম মানুষ! 09 মার্চ 2013
নিউইয়র্কে একটি বাংলাদেশ ভবনের প্রত্যাশা - পুরোটাই কি ধাপ্পাবাজি 06 মার্চ 2013
মিডিয়া জগতে নতুন এক ইতিহাস : শিরোনামটি হলো- “আমরা বিচার চাই” 05 মার্চ 2013
আমেরিকান এক উচ্চশিক্ষিত বেহালাবাদকের কাহিনী 04 মার্চ 2013
বাংলা বানান নিয়ে বেকায়দায় আছি 25 ফেব্রুয়ারী 2013
গোলাম আযমের নাগরিকত্ব যেভাবে 19 ফেব্রুয়ারী 2013
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা 18 ফেব্রুয়ারী 2013