বিশেষ খবর
নিউ ইয়র্কে হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসাসেবা, সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান এবং তার চিকিৎসা চলাকালে মিডিয়া থেকে কঠোরভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহজনক প্রশ্ন তুলেছে নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন বাংলা সংবাদপত্র। বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে সাধারণ হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন, সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার পর স্যাম্পেইন ও গরুর মাংশ খাওয়ানো, চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে না যাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করা হয়েছে একাধিক রিপোর্টে।
হুমায়ূন আহমেদের অসুস্থতার সময় শাওনের পরিবারের কিছু কর্মকাণ্ডের সমালোচনার তীর্যক ঢেউ বইছে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসা এবং হাসপাতাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কিনাÑ এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেছে পত্রিকাটি। এখন সময় লিখেছেÑ ‘২৯ জুন হুমায়ূন আহমেদকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বেলভ্যু হাসপাতালে ভর্তি করার পরের দিন (৩০ জুন) শাওনের মা তহুরা আলী দুনাতিকে নিয়ে লং আইল্যান্ডের একটি পার্কে বগুড়া জেলাবাসী আয়োজিত ভুলকাভাতে (বনভোজন) অংশ নেন।
এদিন শাওন হাসপাতালে প্রায় ১০ ঘণ্টা অনুপস্থিত ছিলেন। একসময় হুমায়ূন আহমেদ জেগে উঠে শাওনকে খুঁজতে থাকেন। তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। একসময় তার সামনে বসা জামাল আবেদীন খোকা (সম্পর্কে ভায়রা) কে একটা চিরকুট লিখে হুমায়ূন আহমেদ জানান যে, তিনি কথা বলতে পারছেন না।’
হুমায়ূন আহমেদের লাশ গোসল করানোর সময়ও ফিউনারেল হোমে লোকজন তেমন ছিল না। লাশ গোসল করান জামাল আবেদীন খোকা। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্থানীয় একজন সাংবাদিক তাকে সহযোগিতা করেন। হুমায়ূন আহমেদের লাশ দেশে পাঠাতে বিলম্ব হয় শাওনের বিজনেস ক্লাস এয়ারটিকেট দাবি পূরণের কারণে।
বিশ্বখ্যাত ক্যান্সার হাসপাতাল নিউ ইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোয়ন কেটারিং সেন্টার হাসপাতালে ক্যান্সারের প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। ১২টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছিল তার শরীরে। এরপর চিকিৎসকরা তার বৃহদান্ত্রে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এ বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল ছেড়ে অপারেশনের জন্য কেন সাধারণ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল ছেড়ে অপারেশনের জন্য হুমায়ূন আহমেদকে কেন সাধারণ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এ প্রশ্নের জবাবে প্রথমদিকে তার চিকিৎসা তদারকিতে নিয়োজিত নিউ ইয়র্কের পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা জানান, অর্থ সাশ্রয়ের জন্য পরিবারের সদস্যরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
বিশ্বজিৎ সাহা আরও বলেন, মেমোরিয়াল স্লোয়ন কেটারিং সেন্টারে ক্যান্সারের চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। এ ব্যাপারে বিশ্বজিৎ সাহা আর কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে বিশ্বজিৎ সাহার এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রবাসী বলেন, যতই ব্যয়বহুল হোক, চিকিৎসার প্রয়োজনে তার পরিবার দেশবাসীর কাছে সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারতো।
হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসায় ত্র“টি ছিল, যা প্রথম অস্ত্রোপচারের ১০ দিনের মাথায় ধরা পড়ে। গত ১২ জুন বেলভ্যু হাসপাতালে প্রথম অস্ত্রোপচারের পর ১৯ জুন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। জরুরিভাবে তাকে জ্যামাইকা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন এখন সময়কে বলেন, জ্যামাইকা হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হুমায়ূন আহমেদের অপারেশনে ত্র“টি আছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। ড. মোমেন এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘জ্যামাইকা হাসপাতালে গেলে কেউ আর ফিরে আসেন না। আপনি তো ফিরে এসেছেন।’
হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় বার জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি এবং অপারেশন হওয়া প্রসঙ্গে একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, প্রথম অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। কিন্তু ৭ দিন পর বাসার চেয়ার থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে যান হুমায়ূন আহমেদ। এরপর প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। জরুরিভাবে তাকে নেওয়া হয়েছিল জ্যামাইকা হাসপাতালে। কিন্তু অপারেশনে ত্র“টি আছেÑ একথা বলে জ্যামাইকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী চিকিৎসা না দিয়ে আগের হাসপাতালে স্থানান্তর করে।অথচ চিকিৎসকের কাছে মেহের আফরোজ শাওন কখনও বলেননি তার স্বামী চেয়ার থেকে পড়ে গিয়েছিলেন এবং অপারেশনের ক্ষত স্থানে আঘাত পেয়েছিলেন। কিন্তু এটা সবারই জানা চিকিৎসকের কাছে কোনো কথা গোপন করতে নেই।
বেলভ্যু হাসপাতালে অপারেশনের পর নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশন এবং কন্সুলেট থেকে নিয়মিত যোগাযোগ করা হতো হাসপাতালে। স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেনসহ স্থায়ী মিশনের কেউ না কেউ প্রায় প্রতিদিনই হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসার খোঁজ নিতেন।
বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল ছেড়ে অপারেশনের জন্য হুমায়ূন আহমেদকে কেন সাধারণ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এ প্রশ্নের জবাবে ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, এ বিষয়টি একান্তই পরিবারের সিদ্ধান্তে হয়েছে। তিনি বলেন, মেমোরিয়াল স্লোয়ন কেটারিং সেন্টার ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য সর্বোত্তম ও বিশ্বখ্যাত। তার পরিচিত অনেক রোগী দীর্ঘদিন ধরে এখানে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ আছেন বলে জানান তিনি।
বেলভ্যু হাসপাতালে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচারের পর থেকে হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসা নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করতে চাননি তার স্ত্রী ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন এবং চিকিৎসা তদারকিতে নিয়োজিত অন্যপ্রকাশের কর্ণধার মাযহারুল ইসলাম।
হুমায়ূন আহমেদ যেদিন মারা যান এর কয়েক ঘণ্টা আগে বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা দাবি করেন যে, হুমায়ূন আহমেদ ভালো আছেন এবং তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া জননন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদ নুহাশ পল্লীতে কবরস্থান বানাতে নিষেধ করেছেনÑ এমন কথা ভিডিও ফুটেজে থাকলেও তার দ্বিতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের বক্তব্য ছিল, মৃত্যুর দুদিন আগে হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন, তাকে (হুমায়ূন আহমেদকে) যেন নুহাশ পল্লীতে কবর দেওয়া হয়।
এ নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের পরিবার (মা, ভাইবোন ও প্রথম স্ত্রীর সন্তান) এবং শাওনের পরিবারের মধ্যে শীতল লড়াইয়ের একপর্যায়ে শাওনের সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সঙ্গে শাওনের মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে। হুমায়ূন-শাওনের অসম বিয়ে হুমায়ূনের পরিবারের কাছে সমর্থনযোগ্য ছিল না। শাওন কেন হুমায়ূনের পরিবারের আকাক্সক্ষাকে উপেক্ষা করে নুহাশ পল্লীতে তার মরদেহ সমাধিস্থ করলেনÑ এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেছে পত্রিকাটি।
চেয়ার থেকে পড়ে গিয়েই হুমায়ূনের বড় বিপত্তি ঘটে : গতকাল দৈনিক আমার দেশ লিখেছে, দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের ধকল হুমায়ূন আহমেদ সামলে উঠতে পারেননি। আর এ দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের নেপথ্যে রয়েছে একটি দুঃখজনক দুর্ঘটনা। সুস্থ হয়ে উঠতে থাকা হুমায়ূন ২০ জুন বসার চেয়ার থেকে মেঝেতে পড়ে যান। হুমায়ূনের সার্বক্ষণিক সঙ্গীরা সমস্যার গুরুত্ব তৎক্ষণাৎ বুঝে উঠতে না পারায় ঘটে মারাত্মক বিপত্তি। তাকে জরুরিভিত্তিতে নেওয়া হয়নি হাসপাতালে।
পরে হুমায়ূনের ব্যথা অসহনীয়পর্যায়ে চলে গেলে জ্যামাইকা হাসপাতালে নেওয়া হলেও ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। অনিবার্য হয়ে পড়ে অতি ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার। এ অস্ত্রোপচারই তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এ অস্ত্রোপচারের পরই তিনি ধীরে ধীরে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন, অবচেতনের অতলে তলিয়ে গেছেন, যেখান থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি।
দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার মানে শরীরের নতুন কোনো স্থানে কাটা-ছেড়া নয়। প্রথম অস্ত্রোপচারের জায়গাটিই আবার কেটে-খুলে দেখা হয়েছে ভেতরের সমস্যা। খুঁজে বের করা হয়েছে তার অবস্থার আকস্মিক অবনতির কারণ। দেখা হয়েছে ভেতরে অস্ত্রোপচারের স্থানে তার অসহনীয় ব্যথার কারণ কী। হুমায়ূন আহমেদের ভাই ড. জাফর ইকবাল, যিনি শেষ সময়ে হুমায়ূনের কাছে ছিলেন, ঢাকায় ফিরে বলেছেন, ক্যান্সার হুমায়ূনের মৃত্যুর কারণ নয়। ভেতরে অস্ত্রোপচারের স্থানে ইনফেকশন বা সংক্রমণে তার মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, ভেতরে কাটাছেঁড়ার পর অস্ত্রোপচারের স্থানটি জোড়া লাগানোর জন্য যে সেলাই দেওয়া হয়েছিল, সে সেলাই খুলে যাওয়াতেই নাকি বিপত্তিটা ঘটেছে। কিন্তু বিপত্তিটা ঘটল কেন? সেলাই খুলে গেল কেন? অস্ত্রোপচারের দশ দিন পর এ ধরনের কিছু ঘটাকে কি স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায়? অস্ত্রোপচারের পর তো তিনি ভালোই ছিলেন। ১২ জুন তার অস্ত্রোপচার হয়েছে। পুরো এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসকরা তাকে ১৯ জুন রিলিজ করে দেন। সেদিনই তিনি বাসায় ফিরে আসেন। নিউ ইয়র্কের বাংলা পত্রিকাগুলো খবর দেয় তার অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। তিনি ভালো আছেন।
এই ভালো থেকে দশ দিন পর ২১ জুন হঠাৎ কেন খারাপ হয়ে গেল তার অবস্থা? কেন তার আবার দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলো? মনে করা হচ্ছে, একটি দুর্ঘটনা তার অবস্থার অবনতির কারণ। দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ২০ জুন বিকালে। হুমায়ূন তার বসার চেয়ার থেকে ঘরের মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলেন।
রাতে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে এবং পরদিন সকালে ব্যথা অসহনীয়পর্যায়ে চলে গেলে মাজহারুল ইসলাম অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে কাছের জ্যামাইকা হাসপাতালে নিয়ে যান এবং নিউ ইয়র্কে হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসার সার্বিক তত্ত্বাবধানকারী মুক্তধারার বিশ্বজিৎ সাহাকে বিষয়টি জানান। বিশ্বজিৎ দ্রুত জ্যামাইকা হাসপাতালে ছুটে গিয়ে হুমায়ূনকে তার অস্ত্রোপচারকারী হাসপাতাল লোয়ার ম্যানহাটানের বেলভ্যুতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
এখানে পরদিনই ২২ জুন জরুরিভিত্তিতে সম্পন্ন হয় তার দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার। শুনেছি, তার অবস্থার অবনতি এবং অসহ্য ব্যথার কারণ খুঁজতে গিয়ে চিকিৎসকরা দেখেছেন খুলে যাওয়া সেলাই এবং সেখান থেকে রক্তক্ষরণ। একথা অবধারিত যে, অস্ত্রোপচার স্থানের সেলাই খুলে যাওয়া, সেখান থেকে রক্তক্ষরণ এবং সংক্রমণ এসবই ঘটেছে তার পড়ে যাওয়ার কারণে।
দেশে চিকিৎসা করালে হয়তো হুমায়ূন আরও বেশিদিন বাঁচতেন : দৈনিক ভোরের কাগজ লিখেছে, দেশে চিকিৎসা করালে হয়তো হুমায়ূন আরও বেশিদিন বাঁচতেন। বাংলাদেশ ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি ডা. মো. ওবায়দুল্লাহ বাকিকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি লিখেছে, হুমায়ূন আহমেদের ক্যান্সার ছিল স্টেজ ফোর-এ। এ অবস্থায় কখনও অপারেশন করা যায় না।
ভাইরাস সংক্রমণে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভাইরাস অজানা হতে পারে। কিন্তু কেন ভাইরাস আক্রমণ করবে। তিনি তো হাসপাতালের আইসিইউএর মতো নিরাপদ পর্যবেক্ষণে ছিলেন। যে কোনো মানুষেরই ৪০ বছরের পর পুরো শরীরের চেকআপ প্রয়োজন। সে জায়গায় হুমায়ূন আহমেদের বয়স ৬০ বছর পার হয়ে গেছে। বয়স এবং ১২টি কেমোর পর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই কমে গিয়েছিল। এ অবস্থায় শারীরিকভাবে দ্বিতীয় অপারেশনের জন্য তার শরীর ঠিক ছিল কিনা তা জানা খুবই জরুরি ছিল। সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া গেলে চরম খারাপ অবস্থায়ও রোগীকে ২ থেকে ৩ মাস বাঁচানো যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মারার অধ্যাপক ও সিনিয়র ফরেনসিক কনসালট্যান্ট ডা. মোহাম্মদ নাসিমুল ইসলাম বলেন, আইসিইউতে তো ভাইরাস আক্রমণ করার কথা নয়। ১২টি কেমো দেওয়ার পর তার শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই কমে গিয়েছিল। এ অবস্থায় প্রথম অপারেশনের পর কেন তাকে বাসায় ফিরিয়ে দেওয়া হল। এমন নানান প্রশ্ন আসছে চিকিৎসকদের মধ্যে।
আল-হেলাল স্পেশালাইজড হাসপাতালের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. লুৎফে নাহার বলেন, হুমায়ূন আহমেদকে কেন ২২ ঘণ্টা (দুই পথে ৪ ঘণ্টা) জার্নি করে ঢাকা আসার অনুমতি চিকিৎসকরা দিয়েছিলেন তা বোঝা মুশকিল। এটিই হয়তো চিকিৎসকদের ভুল ছিল।
ফেরদৌস আরার প্রশ্ন : জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌস আরাকে উদ্ধৃত করে দৈনিক মানবজমিন গতকাল লিখেছে, যে মানুষ রিকভারি করছেন দেখে এলাম, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক। তিনি অসুস্থ হওয়ার পর থেকে কবরে শায়িত হওয়া পর্যন্ত অনেক ঘটনাই ঘটেছে। ঘটনার পরিক্রমায় তার মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও দানা বেঁধে উঠেছে।
ফেরদৌস আরা বলেন, চিকিৎসক আমাকে বলেছেন, হুমায়ূন আহমেদের দেহে ১০০ ভাগ সফল অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তারপরও তার দেহে ইনফেকশন হল কেমন করে? কেন তাকে অপারেশনের ১০ দিনের মাথায় তড়িঘড়ি করে বাসায় নিয়ে যাওয়া হল? কেনই বা হঠাৎ করে বাসা পরিবর্তন করলেন শাওন?
তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। আমি ২৩ জুন বিদেশে যাই। শিল্পী হিসেবে বঙ্গমেলার আমন্ত্রণে সেখানকার বিভিন্ন রাজ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। অনুষ্ঠানের মধ্যে জাতিসংঘের স্থায়ী পরিষদের একটি অনুষ্ঠানও ছিল। সেখানকার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ঠিক করলামÑ বেলভ্যু হাসপাতালে হুমায়ূন আহমেদকে দেখতে যাবো।
১৭ জুলাই বেলভ্যু হাসপাতালে সেখানকার সময় সন্ধ্যা ৭টায় তাকে দেখতে গেলাম। হাসপাতালে প্রায় এক ঘণ্টার মতো ছিলাম। এ সময় তার খোঁজখবর নিচ্ছিলাম। অনেক কথাই শুনলাম। আমি যখন সেখানে যাই তখন তার ছোট ভাই ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, শাওনের মা, শাওন ও অন্যপ্রকাশের মাজহার ছিলেন। আমি হাসপাতালে তার রুমে গিয়ে তাকে দেখে আসি। নিথর একটি দেহ পড়ে আছে ম্যানহাটনের বেলভ্যু হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে। শরীরজুড়ে লাগানো লাইফ সাপোর্টের সব যন্ত্রপাতি।
শাওন আমাকে বললো, সকাল পর্যন্ত অবস্থা আরও খারাপ ছিল। যেখানে আগে একশ ভাগ লাইফ সাপোর্ট লাগছিল, এখন তা চল্লিশে নেমে এসেছে। আমি আশান্বিত হলাম- যাক তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। শাওনের কথাই বুঝলাম তিনি ভালো হয়ে উঠবেন। আমার প্রশ্নÑ যিনি ভালো হয়ে উঠছিলেন কেমন করে হঠাৎ তার মৃত্যু হলো। তিনি বলেন, হাসপাতালে গিয়ে জেনেছিলাম তার হয়েছিল সফল অপারেশন।
১০০ ভাগ সফল অপারেশন। এতটা সফল চিকিৎসকরাও বিস্মিত হয়েছিলেন। তিনি ১০ দিনের মধ্যেই অনেক ভালো হয়ে ওঠেন। তার চিকিৎসকও আমাকে বলেন, এত ভালো অপারেশন হয়েছে এবং এত সফল একটি অপারেশন হয়েছে যে, আমরা হ্যাপি। তার কথায় আশ্বস্ত হলাম, শাওনের কাছে জানতে চাইলাম, কি এমন হলো যে অপারেশন সাকসেসফুল হওয়ার পরও তার অবস্থা খারাপ হলো?
শাওন বললো, অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছিল এটা ঠিক। কিন্তু পরে তার ইনফেকশন হয়ে গিয়েছিল। কেমন করে ইনফেকশন হয়েছিল জানতে চাইলে, শাওন এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ফেরদৌস আরা বলেন, আমি শুনেছি তার অপারেশন সফল হওয়ার কারণে তিনি সুস্থ বোধ করায় তাকে ১০ দিনের মাথায় বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বাসায় নাকি তার কাছে অনেক মানুষ যেতো। বাসায় কি ঘটনা ঘটলো যে তার ইনফেকশন হলো? তাছাড়াও এত তাড়াহুড়া করে কেনই বা বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল?
ফেরদৌস আরা বলেন, আমি হাসপাতালে যাওয়ার পর একজন আমার পাশেই ছিলেন। তিনি শাওনকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা তো আর আগের বাসায় থাকছেন না নতুন বাসায় গেছেন। শাওন বললো, হ্যাঁ। আমি ভেবেছিলাম, যেহেতু পুরনো বাসা থেকে অপারেশন করানো হয়েছে এজন্য বাসা পরিবর্তন করা হয়েছে। যাতে ভাইরাস তাকে আক্রমণ না করতে পারে। ব্যাপারটা সহজভাবেই নিয়েছিলাম।
কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তারা হঠাৎ করেই বাসা পাল্টালেনÑ এর পেছনে কি কোনো রহস্য ছিল? কারণ যিনি তাদের আগের বাসা ঠিক করে দিয়েছিলেন তিনি বলছিলেন, আমি তো আগের বাসাটি ঠিক করে দিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই তারা বাসা পরিবর্তন করেন। কেন করলো এটা জানি না। কারণ, বাসা বদলানোর সময় আমাকে জানানো হয়নি। ফেরদৌস আরা বলেন, এ বাসা বদলের পেছনের রহস্য কি তা জানা দরকার।
ফেরদৌস আরা বলেন, হুমায়ূন আহমেদ যখন হাসপাতালে ছিলেন তখন তার কাছে অনেক মানুষ আসতো। অথচ তার ওখানে মানুষ যেতে দেওয়া ঠিক হয়নি। আমিও তার রুমে ঢুকে তাকে দেখেছি। কিন্তু এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে অনেক সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। আর এ সতর্কতার জন্য তাদের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। কারণ ওখানকার হাসপাতালের চিকিৎসক আমাকে বলেছিলেনÑ তার কাছে এত বেশি ভিজিটর আসছে এটা তারা পছন্দ করছেন না। এ নিয়ে তারা বিরক্ত ছিলেন।
একপর্যায়ে তারা লোকের ভিড় কমানোর জন্য পুলিশ ডাকতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, হুমায়ূন আহমেদের অপারেশন হওয়ার পর যে ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার ছিল, অপারেশনের ১০ দিন পর বাসায় নিয়ে তার যে যতেœর দরকার ছিল তা হয়নি। এমনও শুনেছি তার ব্যান্ডেজ নাকি বাসাতেও ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা হতো আর লাগানো হতো। এটা শুনে আমি অবাক হয়েছি। এটা কেমন কথা? এত বড় অপারেশনের রোগীকে নিয়ে এসব কি করা হয়েছে! অপারেশনের পর রোগীকে বাসায় নিয়ে যেসব নিয়ম কানুন মানা দরকার তার কিছুই করা হয়নি। এ কারণেই তার ইনফেকশন হতে পারে।
ফেরদৌস আরা বলেন, আমার সময় খুব কম ছিল এ জন্য আমি আর আমেরিকায় থাকিনি। হুমায়ূন আহমেদকে দেখে সে রাতেই আমি নিউ ইয়র্ক থেকে ঢাকা রওনা হই। ১৯ জুলাই সকালে ঢাকায় পৌঁছাই। বিমানপথে একটানা ভ্রমণ করেছি। বাসায় ফিরে বিশ্রাম নিই।
রাতে টেলিভিশন দেখছিÑ এ সময় খবর পেলাম হুমায়ূন আহমেদ আর নেই। তখন নিজের কানকে বিশ্বাস হচ্ছিল না। মনে হলো কি এমন হলো যে, যাকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টাও হয়নি দেখে এলাম তিনি মারা গেলেন। যেখানে শুনে এলাম তিনি ভালো হয়ে উঠছেনÑ এরপরও এটা কেমন করে হলো?
তিনি বলেন, মারা যাওয়ার পর তাকে দেশে নিয়ে আসা ও কবর দেওয়া নিয়ে যেসব ঘটনা ঘটলো এগুলো কি ঠিক হলো? তার কবর কোথায় হবেÑ এ সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত নেওয়া যেতো। তার মায়ের সিদ্ধান্ত নিলেই হতো। কিংবা তার পরিবার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা-ই ঠিক ছিল। কিন্তু পরিবারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার জন্য যে চাপ প্রয়োগ করা হলো তা কি ঠিক হলো?
যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসেও একজন বলেছেন বলে শুনেছি যে, হুমায়ূন আহমেদের কবর কোথায় হবে দেশে গিয়ে ঠিক করবেন, সেখানে দেশে ফিরেই বললেন অন্য কথা। এখানেও প্রশ্ন। তার শেষ ইচ্ছার কথা বলে এবং তার কবর কোথায় হবে এ নিয়ে কথা বলার পেছনেও কি কোনো রহস্য আছে? ফেরদৌস আরা বলেন, তাকে সমাহিত করার জন্য যত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত ততই ভালো ছিল। কিন্তু সিদ্ধান্তহীনতার কারণে একদিন তাকে বারডেমে রাখতে হলÑ এটাও ঠিক হলো না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার ভাই জাফর ইকবাল একদিন আগে চলে এলেন। তিনি তো লাশ নিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু কি এমন হয়েছিল যে, তাকে লাশ আনতে দেওয়া হলো না?
প্রসঙ্গত, বৃহদান্ত্রে ক্যান্সার ধরা পড়ার পর গতবছর ১৪ সেপ্টেম্বর হুমায়ূন আহমেদ চিকিৎসার জন্য নিউ ইয়র্ক যান। সেখানে মেমোরিয়াল øোয়ান-ক্যাটারিং ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে দুদফায় তাকে ১২টি কেমো দেওয়া হয়। গত ১২ জুন নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের বেলভ্যু হাসপাতালে অনকোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. জেইন ও ক্যান্সার সার্জন জজ মিলারের নেতৃত্বে তার শরীরে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর গত ১৯ জুন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে নিউ ইয়র্কের কুইন্সের ভাড়া বাসায় ফেরেন। তবে বাসায় ফেরার পর আকস্মিকভাবেই তার অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। পুনরায় তাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ২১ জুন তার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর থেকেই তিনি নিবিড় পরিচর্যায় ছিলেন।
চিকিৎসার খবর গোপন রাখতেন মাজহার !
হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশক মাজহারুল ইসলামকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই নিউ ইয়র্কে। মাজহারের কারণেই হুমায়ূনের মরদেহ একদিন দেরিতে ঢাকায় এসেছে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। হুমায়ূনের মৃত্যুর পর মাজহার জাতিসংঘ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এমএ মোমেনকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিজনেস ক্লাস টিকেট ছাড়া হুমায়ূনের পরিবারের সদস্যরা ভ্রমণ করবেন না। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই আগের দিনের জেট এয়ারলাইন্সের বুকিং বাতিল করতে হয়েছিল।
বাংলানিউজ জানিয়েছে, মরদেহের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক থেকে ঢাকায় যাবেন ৬ জন। হঠাৎ করে ৬টি টিকিট সংগ্রহ করাই যেখানে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তেমন পরিস্থিতিতে সব টিকিট বিজনেস ক্লাসের লাগবে বলে জানিয়ে দেন মাজহার।
বিষয়টি জানাজানি হবার পর কম্যুনিটিতে এ নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। কারণ, টিকিট দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এ সময়ের জনপ্রিয়তম লেখক হুমায়ূন আহমেদের মরদেহসহ পরিবারকে বিজনেস ক্লাসে ঢাকায় পাঠাতে কারোই আপত্তি নেই। তবে এটি তো স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়, এতো স্বল্প সময়ে বিজনেস ক্লাসে ৬টি টিকিট সংগ্রহ করা কী সহজÑ এমন মন্তব্য সচেতন প্রবাসীদের। গত বছরের মধ্য সেপ্টেম্বরে চিকিৎসার জন্যে পরিবারে হুমায়ূন আসেন নিউ ইয়র্কে। তখন থেকেই সঙ্গে রয়েছেন মাজহারুল ইসলাম। নিউ ইয়র্কে লেখক পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসাতেও ছিলেন মাজহার। সে বাসার ভাড়া কে দিয়েছে তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি। তবে লেখকের চিকিৎসা সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশে মিডিয়ার ওপর তিনি মাঝে মধ্যেই নানা হুকুম জারি করতেন। লেখকের চিকিৎসার প্রকৃত তথ্য তিনি এবং লেখকপতœী অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন ছাড়া কেউ জানেন না বলেও দাবি করেছেন একাধিকবার। তাই অন্য কারো উদ্ধৃতি দিয়ে যেন কোনো মিডিয়ায় সংবাদ পরিবেশন করা না হয় সে ফতোয়া দেন মাজহার। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ২৪ ঘণ্টা আগে উত্তর আমেরিকার বাংলা ভাষার সর্বাধিক প্রচারিত ঠিকানা পত্রিকায় ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হুমায়ূন’ শীর্ষক সংবাদেরও তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। নিউ ইয়র্কে হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসার প্রকৃত অবস্থা গোপন রাখতে চেয়েছিলেন কী কারণেÑ এ প্রশ্ন এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ঢাকার অনলাইন পত্রিকা এবং কয়েকটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদেরও কঠোর সমালোচনা করেছিলেন মাজহারুল ইসলাম। চিকিৎসারত অবস্থায় স্মরণকালের সবচেয়ে জননন্দিত লেখক হুমায়ূনকে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ সরকার। এ সুবাদে লেখকের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিতেন রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি মাঝেমধ্যে হাসপাতালেও যেতেন। তাকে উদ্ধৃত করে কোনো সংবাদ দিলেও ক্ষেপে যেতেন এই মাজহার। নিউ ইয়র্কে মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা খোঁজখবর রাখতেন চিকিৎসার। তার বরাত দিয়েও কোনো সংবাদ পত্রিকায় দেওয়া চলবে না বলে মাজহার জানিয়েছিলেন । এভাবে লেখক হুমায়ূনের চিকিৎসা সম্পর্কিত অনেক কিছুই এই মাজহার এক অজানা কারণে গোপন রাখতে চেয়েছিলেন।
রাষ্ট্রদূত ড. মোমেন এবং বিশ্বজিৎ সাহা বলেছেন, ক্যান্সার চিকিৎসার জন্যে বিশ্বে সবচেয়ে উত্তম স্থান হচ্ছে স্ল্যোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার হাসপাতাল। সেখানে হুমায়ূনের চিকিৎসা শুরু হলেও পরবর্তীতে ম্যানহাটনের বেলভ্যু হাসপাতালে কেন স্থানান্তর করা হয়েছিল সেটি জানতে চান প্রবাসীরা। এ নিয়ে লেখক দম্পতির কাছে থেকে সঠিক তথ্য জানতে সক্ষম না হলেও অপর একটি সূত্র মাজহারের কাছ থেকে জানতে পেরেছে, আর্থিক কারণে স্ল্যোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার হাসপাতালে তার চিকিৎসা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়টি এখন প্রবাসে নানা প্রশ্নের জš§ দিয়েছে। ‘ইকোনোমি ক্লাসে ভ্রমণে অনাগ্রহী মাজহারুল ইসলাম, তাহলে এর আগে আর্থিক কারণে হুমায়ূনের চিকিৎসাস্থল পরিবর্তন করা হয়েছিল কেন?’Ñ এ জিজ্ঞাসা অনেকের। একজন লেখকের চরম সংকটে সার্বক্ষণিকভাবে পাশে থাকার জন্যে প্রকাশক মাজহারুল ইসলামের প্রশংসাও করছেন সবাই।
| < পূববর্তী | পরবর্তী > |
|---|
বাপ্সনিউজকে নও মুসলিম লরেন বুথ - ইসলাম আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে 28 মার্চ 2013
ইউএনএ’র অনুসন্ধানী রিপোর্ট - আ.লীগ-বিএনপি’র সভা-সমাবেশ নিয়ে ভুল তথ্য ॥ কমিউনিটিতে বিভ্রান্তি ॥ প্রশ্নবিদ্ধ সাংবাদিকতা 16 মার্চ 2013
নবীজী (সা.) সম্পর্কে জর্জ বার্নার্ড শ 09 মার্চ 2013
জেনে নিন আপনি পৃথিবীর কততম মানুষ! 09 মার্চ 2013
নিউইয়র্কে একটি বাংলাদেশ ভবনের প্রত্যাশা - পুরোটাই কি ধাপ্পাবাজি 06 মার্চ 2013
মিডিয়া জগতে নতুন এক ইতিহাস : শিরোনামটি হলো- “আমরা বিচার চাই” 05 মার্চ 2013
আমেরিকান এক উচ্চশিক্ষিত বেহালাবাদকের কাহিনী 04 মার্চ 2013
বাংলা বানান নিয়ে বেকায়দায় আছি 25 ফেব্রুয়ারী 2013
গোলাম আযমের নাগরিকত্ব যেভাবে 19 ফেব্রুয়ারী 2013
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা 18 ফেব্রুয়ারী 2013