নিপীড়নের শিকার তরুণী, ভারতজুড়ে তোলপাড়
আনর্তজাতিক খবর
শুক্রবার, 13 জুলাই 2012 23:40
জনা বিশেক তরুণ হামলে পড়েছে একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীর উপর। সবাই যে যার মতো করে তাকে নিপীড়ন করে যাচ্ছে। কেউ তেড়ে যাচ্ছে উৎল্লাসে। কেউবা হামলা করছে। কেউ মারছে। কেউ খুলে নিচ্ছে পরনের কাপড়। এ বর্বরোচিত ঘটনা যেন হার মানিয়েছে অন্ধকার যুগকেও। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো- কারও মধ্যেই কোন অনুশোচনা দেখা যায়নি। সবাই আনন্দ-উৎসব করে হেসেখেলে যেন উদযাপন করছে এ দৃশ্য। পোজ দিচ্ছে। ভিডিও ধারণ করেছে। মেয়েটিকেও ক্যামেরার দিকে তাকাতে বাধ্য করা হয়েছে।
নির্যাতনকারী সবার ছবি স্পষ্ট দেখা গেছে ভিডিওতে। আর এর সবকিছুই হয়েছে জনসমক্ষে। কেউ এগিয়ে আসেনি অসহায় মেয়েটিকে উদ্ধার করতে। সম্পূর্ণ ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করেছেন একটি টিভি চ্যানেল নিউজলাইভের সাংবাদিকরা। কিন্তু তারাও এগিয়ে আসেননি বিপদের মুখ থেকে একজন নারীকে উদ্ধার করার জন্য। গত সোমবার রাতে আসামের রাজধানী গৌয়াহাটির উন্মুক্ত স্থানে ঘটেছে এ ঘটনা।
নিউজলাইভ এটি ইউটিউবে ছাড়ার পর ভারতজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। এ ঘটনা নিয়ে এখন আলোড়ন চলছে সারা ভারতে। এমন ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বিজেপি, কংগ্রেসসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। ঘটনার বিবরণে আসাম পুলিশের মহাপরিচালক জয়ন্ত নারায়ণ চৌধুরী জানিয়েছেন গেছে, নিপীড়নের শিকার মেয়েটি অন্য একজন মেয়ে ও চারজন ছেলে সোমবার রাতে গৌয়াহাটির বারে ঢুকে। সেখানে তারা কোন কারণে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ায় সেখানকার নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের বার থেকে বাইরে বের করে দেয়। বারের বাইরে বের করে দেযার পর স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতির সুযোগ নেয় এবং তারা এক তরুনীকে ৬ জনের ভেতর থেকে টেনেহেঁচড়ে তাকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করে।
প্রথমে কেউ কেউ তাদের সরিয়ে দিতে চাইলেও পরে ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনার আধঘণ্টা পর পুলিশ এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়। পুলিশ ভিডিও ক্লিপ দেখে মোট ১২ জনকে চিহ্নিত করেছে। এদের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন আসামের পুলিশ প্রধান জয়ন্ত চৌধুরী। দুঃখজনক এ ঘটনার ভিডিও করেছেন প্রথমে নিউজলাইভের নাইট রিপোর্টার। পরে তিনি তাদের ক্যামেরা টিমকে সেখানে পাঠালে তারা গিয়ে ঘটনা ভিডিও করেন। ফলে এতে সাংবাদিকদের নৈতিকতা নিয়ে ভারতব্যাপী প্রশ্ন উঠেছে। কেন তারা মেয়েটির সহায়তায় এগিয়ে না এসে ভিডিও ধারণে মত্ত ছিল।
রিপোর্টার বলছেন, প্রথমে তিনি চেষ্টা করেছেন। কিন্তু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি পেশাগত কাজে মনোযোগ দেন। আর চ্যানেলটির সম্পাদক দায় চাপিয়েছেন পুলিশের ওপর। তিনি বলেছেন, এই ঘটনা কোন অংশেই গণধর্ষণের চেয়ে কম নয়। কিন্তু পুলিশ জনগণ কেউই এগিয়ে আসেনি। জনসমক্ষে অপরাধ হচ্ছে। ভিডিও হচ্ছে দেখেও কেউ বিরত হয়নি। যার অর্থ আইনকে তোয়াক্কা করছে না অপরাধীরা। আসামের অপরাধের ঘটনা সারা ভারতের তুলনায় দ্বিগুণ। গোটা দেশে যেখানে অপরাধের মাত্রা ১৮.৯, কেবল আসামেই তা ৩৬.৯।
এই নিষ্ঠুর ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে সবাই। বিজেপির সুশমা স্বরাজ বলেছেন, এমন ঘটনাকে আমরা শাস্তির বাইরে রাখতে পারি না। কংগ্রেসের রেনুকা চৌধুরী বলেছেন, এই ঘটনা আমাদের নাগরিকেদের প্রতি এক ধরনের বিদ্রুপ। পুলিশের উচিত এসব বিষয় ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করা। ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন এ ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক কাজ’ বলে অভিহিত করেছে।