প্রবাসী লেখকদের কলাম
আবু জাফর মাহমুদ : নিউইয়র্ক থেকে : ওরা ভূলে গেছে রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাছে ওরা কত নস্যি। নিজেকেই যারা চিনলোনা,রাষ্ট্র চেনা তাদের কাজ নয়। রাষ্ট্রের ঘাঁড়ে বসে রাষ্ট্রের মাথায় আগুণ লাগাবার দুঃসাহস দেখিয়ে নিজেদের বিনাশের সময় কাছে আনা যায়।নিজেদেরকে সেই আগুণের ক্ষমতায় চিরতরে মুছে ফেলাও যায়।
তিনি নিজেই বুঝেন না রাষ্ট্র কি,তার চাকর বাকর রা? প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যৌন হয়রানির তান্ডব নিয়ে কথা। মাহবুবুল হক শাকিলের পর এখন খায়রুল ইসলাম। দুজনই চৌকস যুবক। প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের যুবসেবক। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস-১) মো. খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে কার্যালয়ের এক মহিলা ডাক্তার কর্মকর্তার শ্লীলতাহানির অপচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৬জুন মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহিলা চিকিত্সকের রুমে ঢুকে তাকে জোর করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান খায়রুল ইসলাম। ওই মহিলা চিত্কার দিলে আশপাশের রুমের লোকজন এসে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে এপিএস খায়রুল ইসলাম দ্রুত সেখান থেকে কেটে পড়েন। ঘটনার পর ওই চিকিত্সক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অভিযোগ দেন। খাইরুলের এটাই প্রথম ঘটনা নয়।
এছাড়া খায়রুল ইসলামের দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারি নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের জন্য রোষানলে পড়েন অনলাইন বার্তা সংস্থার শীর্ষ নিউজ ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজের মালিক ও সম্পাদক ইকরামুল হক। তার দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারির খবর পরিবেশন করার জের ধরে সচিবালয়ের কর্মচারীদের ইন্ধন দিয়ে ইকরামুল হককে সচিবালয়ের ভেতরে নাজেহাল করা হয়। এমনকি মিথ্যা নারী নির্যাতন ও চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে তাকে জেলে নেয়া হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় তার বার্তা সংস্থা ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ।
শীর্ষ কাগজের ২০১১ সালের ৬ জুন সংখ্যায় খায়রুল ইসলামের নারী কেলেঙ্কারি ও ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারের কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম পূর্ত মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পরিদফতরের পরিচালক। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর এপিএস হিসেবে নিয়োগ পান। খায়রুল ইসলাম মান্নানের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুকে রহস্যজনক মনে করেন তার পরিচিতরা। কারণ প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি তার প্রেমিকা এবং বাসায় গৃহশিক্ষক হিসেবে কর্মরত রেশমা বেগমকে বিয়ে করেন। খাইরুলের মোবাইল নম্বর ০১৭১৫১১৯৭৭৫-এ ১০-১৫। এই নাম্বারে ২৬জুন মঙ্গলবার আমার দেশ পত্রিকা হতে বারবার যোগাযোগ করেও জবাব পাওয়া যায়নি।একই দিন ৩;৫৮মিনিটে এসএমএস করেও জবাব মিলেনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রের ব্রেইন সেন্টার ভাবতে চেয়েছেন অনেকে। কিন্তু হাসিনাদের প্রয়োজনে তা হয় জাতীয় অপরাধের সদর দফতর। বিষয়টি ধীরে ধীরে খোলাসা হয়ে ঊঠ্ছে। প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনিক প্রধান কার্যালয়ের এই নরকীয় অবস্থা দেখার পর অপর সকল কার্যালয়ে কাদের চাকরি নিরাপদ আছে, কারা প্রধান মন্ত্রীর এই চেইন অব কমান্ডে আছেন বুঝবার জন্য কাউকে আর গবেষণা করে জানতে হয়না। সবই খোলামেলা। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) মাহাবুবুল হক শাকিলের সম্পর্কে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল।
প্রধানমন্ত্রীর ডিপিএস থাকাকালে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে শাকিল নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা শাহনাজ গাজীর রুমে জোর করে ঢুকেন। অতঃপর এই কর্মকর্তার আপত্তি এবং তর্কের বড় শব্দে হট্টগোল বেধে যায়। সিক্যুরিটি চ্যালেঞ্জ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষও আপত্তি তোলে। পরে প্রধানমন্ত্রী তড়িঘড়ি করে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে ওই বছরের ৭ অক্টোবর তিনি ডিপিএস থেকে পদত্যাগ করেন। বেশ কিছুদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর শেখ হাসিনা তাকে দলীয় গবেষণা সেল সিআরআই’র দায়িত্ব দেন। এর পর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি শাকিলকে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) পদে আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি এ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।শাকিল অথবা খাইরুলরা মাত্র দুজন নয়। এরা সংখ্যায় অনেক। এরা দেশবাসীর জন্য কখনো নিরাপদ নয়। এই হায়েনা স্বভাবের যুবকরা এই প্রধানমন্ত্রীর চয়ে্স। প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনকে রক্ষকের পরিবর্তে ভক্ষক বানানো হয়ে গেছে বলে পর্যবেক্ষকরা দাবী করছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) নজরুল ইসলাম খানসহ তিন কর্মকর্তাকে বদলির সিদ্ধান্ত হয়েছে। পিএস নজরুল ইসলাম খানকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হচ্ছে। আর তার স্থলাভিষিক্ত করা হচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মালেককে। নজরুল ইসলাম খান আট মাস আগে সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেলেও অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার প্রধানমন্ত্রীর পিএস হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মহাজোট সরকারের শুরু থেকেই তিনি এ পদে কর্মরত। এছাড়া গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এপিএস খায়রুল ইসলামকে সরিয়ে ওই এ পদে খুলনার জেলা প্রশাসক মেজবাহউদ্দিন আহমদকে আনা হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ প্রলয় কুমার জোয়ার্দারকে পুলিশ বিভাগে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এ কর্মকর্তা সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে অ্যাডিশনাল এসপি হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এডিসি জিয়াউল কবির স্কোয়াড্রন লিডার থেকে পদোন্নতি পাওয়ায় সশস্ত্র বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
উপসংহারঃ প্রধানমন্ত্রী তার অনুগতদের দিয়ে প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনকে ‘রাষ্ট্রীয় অপরাধ বহর’ সাজিয়েছেন বৃহত্তম অপরাধ রাষ্ট্রের আজ্ঞাবহ তহশীলি রাষ্ট্র করার মতলবে। তাই এই সরকারকে গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রতিনিধি দাবী করার সুযোগ আর নেই। এদিকে ইতিমধ্যেই রাষ্ট্র এবং সরকার পরস্পরের অস্তিত্বের শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার খামছে ধরেছে রাষ্ট্রের গলাদেশ। রাষ্ট্র চাইছে স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস নিতে। একে অপরের মুখোমুখী। এই দুই শক্তির মধ্যে দুর্বল হচ্ছে সরকার। সবল হচ্ছে রাষ্ট্র। দুর্বলকেই পরাজিত হতে হবে। পরাজয় সব সময়েই আসে দূর্বলের ভাগ্যে। তবে এবার পরাজিতরা তাদের কৃত রক্তপাতের পরিণাম ভোগ করবেন নিজেদের গড়া রাস্তায়। এর অন্যতা হতে দেওয়া হবেনা।
বিরোধীদল শক্তিশালী না থাকায় অথবা নিজেরাও একই ধারার অনুসারি হওয়ায় সরকার পতনের দিক হতে তারা মুখ ফিরিয়ে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ভাগ করে খেতে চায়।রাজনীতিকরা বুঝতে নারাজ যে,বাংলাদেশের সহ্যের সীমা আর নেই।দুনিয়ার সভ্যতার ধারাও আর এদেরকে চাইছেনা।তবে বাংলাদেশের বর্তমাণ স্বাধীনতাযোদ্ধারা শত্রুদেরকে আর ৩মাস সময় ও দেবেনা বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়ে থাকতে। তারা কারও পথ চেয়ে অপেক্ষা করবেনা।স্মর্তব্য, কোন নেতার জন্য ৭১এ বেঙ্গল রেজিমেন্ট অপেক্ষা করেনি। যোদ্ধারা শত্রুর আরোপিত যুদ্ধ দেখে উদাসীন থাকেনি। পালায়নি যুদ্ধক্ষেত্র হতে। প্রতিরোধ শুরু করেছে তাৎক্ষণিক। যোদ্ধারা সর্বকালেই নিজেকে বিজয়ী বলে জানে, শত্রুর উপর বিজয় ছাড়া আর কিছুই তারা মানেনা। তখন আর এখন শক্তি ও সমর্থনে তফাৎ আকাশ আর পাতাল। সব কিছুই পক্ষে এখন। ২০১২ সনে পরিপূর্ণ স্বাধীনতার লড়াই হবে। বাংলাদেশীদের এ লড়াইয়ের বিজয় আগেভাগেই নির্ধারিত।
(লেখক আবু জাফর মাহমুদঃ স্বাধীনতাযোদ্ধা এবং রাজনীতি বিশ্লেষক।নিউইয়র্ক ২৭ জুন,২০১২)।
| < পূববর্তী | পরবর্তী > |
|---|
২৭তম ফোবানা সম্মেলন কোনভাবেই রাজনৈতিক নয়, প্রবাসীদের সর্বজনীন মিলন মেলা 17 মে 2013
প্রবাসের রাজনীতিতে বাঙালি 01 এপ্রিল 2013
নিউইয়র্কে জামায়াতের দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র 31 মার্চ 2013
শেষ পর্যন্ত নেত্রী নিজেই না তো-! : সাঈদ তারেক 29 মার্চ 2013
সৌদি সরকারের জিরো টলারেন্স, দিশেহারা লাখ লাখ প্রবাসী 29 মার্চ 2013
গার্বেজের ফ্যাসাদে হুমায়ূন পরিবার 29 মার্চ 2013
সাবধান, বিদেশি নোটে হাজারো ব্যাকটেরিয়া ! 28 মার্চ 2013
চাঁদের কলঙ্কের মতো হাতির ঝিলের বিষফোঁড়া - সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল 28 মার্চ 2013
বিষাদ ও বেদনার গ্লানিতে স্বাধীনতার মাস - এবিএম সালেহ উদ্দীন 25 মার্চ 2013
দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ কি ‘ইসলাম পন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ !’ - সাঈদ তারেক 19 মার্চ 2013