হাসিনার অর্থমন্ত্রীর ক্ষুদ্ধ জবাব হিলারী-ইউনুসের মন্তব্যের
প্রবাসী লেখকদের কলাম
আবু জাফর মাহমুদ : যুক্তরাষ্ট্র থেকে : হাসিনার অর্থমন্ত্রী মুহিত ৮মে অর্থ মন্ত্রনালয়ের এক বৈঠক শেষে নিজেদের পেটে জমে যাওয়া গ্যাস উদ্গীরণ করেছেন। আমেরিকার নয়াবাংলাদেশ নীতি এবং অচিরেই বাংলাদেশের পরিপূর্ণ স্বাধীন অবস্থানে প্রত্যাবর্তনের উত্তপ্ত সংবাদে সরকার খেই হারিয়ে ফেলেছে।৫/৬ মে সফর করে যাওয়া হিলারির আচরণ “অযৌক্তিক” এবং তার সাথে ইউনুসের হওয়া কথাকে “রাবিশ” মন্তব্য করেছেন তিনি।
পর্যবেক্ষকরা জোর দাবী করছেন,বাস্তবতা হচ্ছে উল্টো। বাংলাদেশের এই টেলিভিশনেই কদিন পর দেখা যাবে,জনগণ এই ছদ্মবেশী “অযৌক্তিক” ও “রাবিশগুলো”কে কুড়িয়ে রাস্তা-ঘর বাড়ী পরিচ্ছন্ন করছেন। কি ইঙ্গিত কখন কার মুখ দিয়ে মানুষের নজরে আনেন,তা জানেন একমাত্র গায়েবের মালিক। আমরা সাধারণ মানুষ।
সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তার ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়ায় সহজে আন্দাজ করা গেছে,হাসিনা ও তার সরকারকে কত বেশী ঘেঁটেছেন দুনিয়ার বড় লাট মার্কিণ এই নেতা হিলারি। তিনি হিলারি,বিশ্ব ব্যাংক কাউকেই নাকি কেয়ার করছেন না। জনগণকে যারা এত ভয় পায়, তারা দেখি প্রধান বিশ্বশক্তিকে চ্যালেঞ্জে উদ্যত। এরা পাগল নয়তো? পাগল তামশা মনে করেই আগুনে হাত দেয়। সে যাই হোক,অর্থমন্ত্রীর আক্রমণমূলক উক্ত অবস্থান মার্কিণ সরকারের বিরুদ্ধে হাসিনা সরকারের মুখোমুখীণতাই স্পষ্ট করলো। এতে ভয়ের কারণ হলো,হিলারিদের পায়ের নীচে এই ছারপোকাগুলো পিষিয়ে নিশ্চিহ্ন হবার সময় এসে গেছে।সেই অসহায়ত্বের সময় তাদের প্রধান মিত্রও নিজের দেহ রক্ষার বিনিময়ে এই দাস দাসীগুলোকে উতসর্গ করবেন। অপরদিকে দিল্লীর দাসত্বমুক্ত বাংলাদেশের জন্য জনতার আকাঙ্ক্ষা দ্রুতই মুক্তির রাজনীতিতে আত্নপ্রকাশ করছে। নিজ নিজ অবস্থান হতে দৃঢ় প্রস্তুতি গ্রহন করছেন ত্যাগী বীর বাংলাদেশীরা। সত্তরের দশকে রুশ-ভারত সর্বানাশা হস্থক্ষেপের পর মার্কিণ বলয়ে বাংলাদেশে একটা অন্তবর্তী সময় চলে। ৪০ বছরের মাথায় এই দোদুল্যমান অবস্থা হতে বাংলাদেশ বন্দিত্বের শেকল ছিন্ন করতে চলেছে। এতে করে ধনীরাষ্ট্র হবার সাথে সাথে তার প্রতিবেশী দরিদ্র অঞ্চলগুলো কার উপর নির্ভরশীল হবে? নিশ্চয়ই বাংলাদেশের উপর।
এভাবেই ভারতের পূর্বাঞ্চলে নতুন এক নেতারূপে আত্নপ্রকাশ করবে বাংলাদেশ। এতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মিত্র হতে পারে। আমরা অতীতেও নেতা ছিলাম এবং আবার নেতা হবো দক্ষিণ এশিয়ায়। আমরা বাংলাদেশের জন্য, সমৃদ্ধ বাংলাদেশই আমাদের অস্তিত্ব।
এবার বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটিকে নেতৃত্ব যোগান দিতে এগিয়ে আসতে হবে। লোভী, দালালও মেরুদন্ডহীন রাজনীতিকরা যেনো সামনে বাধা হতে না আসেন। রাজনৈতিক দায়িত্বকে নিজ পরিবারের জন্য সম্পদ লুন্ঠনের ধারা রাজনীতির নেতৃত্বের নতুন জগতে আর সহ্য করার মতো অবস্থা রাখা হবেনা।
কেবল মাত্র বাংলাদেশপন্থী নেতৃত্ব দেখতে চাই রাষ্ট্র পরিচালনায়। আসন্ন পরিবর্তনে পরাশক্তি আমেরিকা এবং চীন নিজের প্রয়োজনেই নিষ্ঠাবান বাংলাদেশপন্থীদের সাথে সমর্থন যোগাতে বাধ্য,দুর্গন্ধময় বর্তমান রাজনীতির ধারক বাহকরা অবসর নিতে রাজী হলেই রক্তপাত কম হবার সম্ভাবনা বলে পর্যবেক্ষকরা দাবী করছেন। উন্নত বিশ্বের সাথে হাতে হাত রেখে চলবে বাংলাদেশ।
অর্থমন্ত্রী,আপনাদের সরকার বাংলাদেশকে গুম রাজ্য বানিয়েছেন আর অপরদিকে হিলারী এবং ইউনুস বাংলাদেশের হৃদয়ের কথাকে ভাষা দিয়েছেন। আপনাদের তাতে কষ্ট হয়েছে,হবারই কথা। বাংলাদেশ তাতে হয়েছে খুশী।কেন না দুর্ভাগ্য,আপনাদের খুশীর কারণ হয় বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিনাশে। যে নাগরিকরা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নাগরিক থাকতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, তারা আর আপনারা কি মুখোমুখী নন? হিলারী এবং ইউনুসদের কথার প্রতিক্রিয়ার জরিপ দেখুন,সাহস থাকলে! তাতেই আপনাদের হিলারী এবং ইউনুসের কথার যথার্থতা পাবেন।
আপনারা যাদেরকে সম্প্রতি ব্যাংক করার অনুমতি দিয়েছেন,আপনাদের লুন্ঠনের অংশীদার করেছেন, তারা গত
৬মে নিউইয়র্কে সাংবাদিক সম্মেলন করে হুমকি দিয়েছেন, তারা নাকি বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে গুম করবেন। গুম করার এই ক্ষমতা তাদের আছে বলে তাদের দাবী পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই বুঝলে ভালো হতো,শক্তির জগতে অপরাধীরা ততদিন পর্যন্ত নিরাপদ থাকে,যতদিন তাদের বিচরণ থাকে গোপন। আপনারা আর গোপন নেই। যাই হোক,আপনারা কি নিজের কানে শুনতে পান,যা আপনারা হামেশা বলেন? সিদ্ধান্ত নিন,পালাবেন নাকি অভিজ্ঞতা নেবেন?
আবু জাফর মাহমুদঃ মুক্তিযোদ্ধা এবং সম্পাদক,এশিয়ান টাইমস। ৯মে ২০১২।