প্রবাসী লেখকদের কলাম
সাঈদ তারেক : নিউইয়র্ক থেকে : আমাদের দেশের এক শ্রেণীর রাজনীতিক ব্যবসায়ী সুশীল-সমাজ মিডিয়ার দাসসূলভ মনোবৃত্তির উন্মত্ততা দেখে মাঝে মাঝে লজ্জায় অধ:বদোন হতে হয়! বুঝলাম বাপদাদা চৌদ্দ পুরুষ মোঘলের গোলামী বৃটিশের গোলামী সর্বশেষ পাকিস্তানীদের গোলামী করে এসেছেন। কিন্তু দেশটা তো ’৭১-এ স্বাধীন হয়েছে। এত দিনেও মন মাননিসকতা আচার আচড়ন থেকে গোলামীর খাছলতটা যাবে না! এক অদ্ভূত মানসিকতা। সর্বত্রই মতাধর ওপরওয়ালার সামনে গোলামীভাব। অফিসে উর্দ্ধতন বস যেন জান মালের মালিক, অধস্তনরা অহর্নিশ ‘জো হুকুম জাঁহাপনা!’ রাজনীতিতে নেতা নেত্রীরা মোঘলে আজম সম্রাট সম্রাজ্ঞী, বাকিরা সবাই হুকুমের দাস। বিদেশী কোন অতিথি এলেই গোটা সিভিল সোসাাইটি যেন জিহ্বা বের করে বসে থাকে! বিশেষ করে অতিথি যদি হন কোন ‘প্রভুরাষ্ট্রের’ তাহলে তো কথাই নাই। সুশীল সমাজ মিডিয়ার ঘুম হারাম, দিন রাত গবেষণা মহাতœন কি দিতে এলেন কি বলতে এলেন জাতির কোন উদ্ধারটা করে যাবেন! রাজনীতিকদের মধ্যে প্রতিযোগীতা কে কত দিয়ে কৃপাদৃষ্টি লাভ করতে পারে।
রক্তকোষ থেকে এই দাসানুদাসের বীজ নিষ্ক্রান্ত হতে কয় জেনারেশন যে লাগবে!
হিলারী এসেছিলেন তার রুটীন কাজে। নভেম্বরে যদি ওবামা আবার প্রেসিডেন্ট হনও হিলারীর তাতে একই চাকরিতে না থাকার সম্ভাবনাই বেশী। শোনা যাচ্ছে পরের টার্মে তিনি নির্বাচনে দাঁড়াবেন। তাহলে তাকে এখন থেকেই গোছাতে হবে। সে হিসাবে মন্ত্রীত্ব ছেড়ে হিলারী নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নিজেকে ব্যপৃত রাখবেন এটাই হিসাবে বলে। বিদায়ের আগে এ ধরনের সফরকে কূটনীতির ভাষায় বলে ‘ফেয়ারওয়েল ভিজিট’। হিলারীর অফিশিয়াল ভিজিট ছিল চায়না এবং ভারত। মাঝখানে কয়েক ঘন্টা সময় বের করে ঢাকা কোলকাতা ঢুঁ মেরে গেলেন। কথা দিয়েছিলেন একবার বাংলাদেশে আসবেন। ড: ইউনুস ইস্যুতে সরকার ঘাড় ত্যাড়ামী না করলে আগেই আসতেন। এখন বিদায় বেলায় এক ঝলক দর্শন দিয়ে গেলেন। এইতো ব্যপারটা।
অথচ হিলারীর এই সফর নিয়ে কি উৎসাহ আগ্রহ আবেগ! না জানি কি দিতে আসছেন হিলারী কিনটন! রাজনীতিতে ঝোড়ো হাওয়া, তত্বাবধায়ক ইস্যুতে সরকার বনাম দেশবাসী মুখোমুখি অবস্থান, ইলিয়াস গুম নিয়ে কোনঠাসা সরকার, সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হুংকার দিয়ে বিরোধী দলের ওপর ক্রাকডাউন- এমনি একটা পরিস্থিতিতে বলা নাই কওয়া নাই মিসেস কিনটনের হঠাৎ উড়ে আসা- নানা হিসাব কিতাব চললো কয়দিন। কেউ কেউ ধারনা করলেন সরকারের ওপর ত্যক্ত বিরক্ত হিলারী বুঝি এসে একটা কড়া হুশিয়ারি জানাবেন, হিলারীর কাছ থেকে বকা খাবার ভয়ে সরকার সুড়সুড় করে ইলিয়াস আলীকে বের করে দেবে, কোর্ট কাছারিও বিএনপির নেতাদেরকে জামিন দিয়ে মুক্ত করে দেবেন, সরকার হিলারীকে অবাধ গনতন্ত্রচর্চার পরিবেশ দেখাবে।
কিন্তু হলোটা কি! বিশ ঘন্টা হিলারী কাটালেন ঢাকায়, এর ওর সাথে দেখা করলেন বৈঠক করলেন আবার দীপুমনির সাথে কি একটা কাগজও সই করলেন- সবই রুটীন ওয়ার্ক, নতুন কি’টা ঘটলো! কিই বা পেলাম আমরা ‘গোলামস্য গোলামকূল!’ কিছুই না। ইলিয়াস আলীও ফিরে এলোনা, সরকারও কোন কড়া হুশিয়ারি পেলো না। আমরা এই অধম দাসানুদাসেরাও কোন আশার আলো দেখতে পেলাম না। উল্টো সরকারের ভাব দেখে মনে হলো তারা হিলারীর ওয়াজ নসিহতকে থোড়াই কেয়ার করলেন। চাকরি আছে কয়েক মাস, কে আর পাত্তা দেয়- ব্যপারটা তেমনই অনুভূত হলো।
হিলারী প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে তার সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করলেন, পিঠ চাপড়ে বললেন যা করছো ভালই করছো চালিয়ে যাও। আবার বেগম জিয়ার সাথে দেখা করে মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানালেন, পরের নির্বাচন যাতে ‘অবাধ ও গ্রহনযোগ্য’ হয় সে পথ বের করার জন্য আলাপ আলোচনার পরামর্শ দিলেন। এই কথাগুলো স্থানীয় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মহোদয় হর হামেশাই বলে বেড়াচ্ছেন। হিলারী সেই একই ঢাক বাজিয়ে গেলেন।
এইযে দাসানুদাস মনোবৃত্তি, এইযে হীনমন্যতা পরমুখাপেতিা, বিদেশী মতাধরদের কাছে আত্মসমর্পন, তারাই সব কিছু ঠিক করে দেবেন বলে যে উন্মুখতা- জাতি হিসাবে আমাদেরকে কোথায় নিয়ে ঠেকিয়েছে ভেবে দেখেছেন কেউ! হিলারী প্রণব বাবু আসবেন, সেই কারনে বিরোধী দল ইলিয়াস ইস্যুতে আন্দোলন কর্মসূচী পর্যন্ত স্থগিত করে রাখলো! বিদেশী মেহমানদের প্রতি সম্মানবোধ। কিসের সম্মানবোধ? নিপীড়ন নিষ্পেষনে জান যায়, তাকিয়ে থাকবো বিদেশী মেহমানরা কি বলে যায় কি করে যায় দেখার জন্য! দুনিয়ার প্রতিটি সভ্য জাতি নিজেদের ভাগ্য নিজেরা গড়ে, নিজেদের সমস্যার পথ নিজেরাই বের করে নেয়। সারা আরব জুড়ে আন্দোলন চলছে, ইরাক আফগানিস্তান পাকিস্তানে যুদ্ধ চলছে। কোথায় কোন দেশে সরকার বা বিরোধী নেতারা বিদেশী উদ্ধারকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকে! কোন ফাঁকে কোন হিলারী কোন ওবামা এলো গেলো কেউ খবরই রাখেনা। কেমন হতভাগা জাতি আমরা, কোন কিছু হলেই তাকিয়ে থাকি দিল্লী কি করে ওয়াশিংটন কি বলে! রাজনৈতিক দলগুলো পর্যন্ত মতায় আসা টিকে থাকার জন্য নিজের দেশের মানুষের ওপর ভরষা না করে বিদেশী শক্তির মনতুষ্টির চেষ্টায় নিয়োজিত হয়! দেশের ভবিষ্যত নির্বাচন কোন ফর্মূলায় হবে সে ব্যপারেও হিলারী কিনটনের নসিহত শুনতে হয়!
মাঝে মাঝে কৌতুকই বোধ হয় যখন দেখি এক শ্রেণীর সুশীল বুদ্ধিজীবি রাজনীতিক দেশের মৌলিক অধিকার মানবাধিকার পরিস্থিতির ব্যপারে মার্কিন ভুমিকা বা নিদেনপে তাদের কোন বাণী বচনের দিকে হা করে চেয়ে থাকেন। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর স্টেট ডিপার্টমেন্টের রিপোর্ট যেন ম্যাগনাকার্টা। ভাবটা, ওরাই এ দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ঠিক করে দেবে! ওরা বললেই আমাদের সব সমস্যা মিটে যাবে। অনেকেই আশা করে ছিলেন ইলিয়াস ইস্যুতে হিলারী সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দেবেন, ইলিয়াসকে খুঁজে বের করতে কোন আল্টিমেটাম দেবেন। ইলিয়াসকে ফিরিয়ে না দিলে সরকারের ওপর থেকে মার্কিন সমর্থন তুলে নেয়া বা সাহায্য সহযোগীতা বন্ধ করে দেবার হুমকীও দিয়ে বসতে পারেন। হয়তো এমন কোন স্ট্যান্ড নিলে ইলিয়াসের ভাগ্য (যদি এখন পর্যন্ত বেঁচে থাকে) ভালও হতে পারতো। কিন্তু না, ইলিয়াস ইস্যুতেও হিলারী যা বলেছেন তা বাত কা বাতের মতই। ইলিয়াসের শিশুকন্যাটি পিতাকে ফিরে পেতে হিলারীর হাতে একটি আবেদনপত্র তুলে দিয়েছেন। কিন্তু শিশুটি জানেনা এই হিলারীদের কারনে বা তাদের নির্দেশে সারা দুনিয়ায় ল ল শিশুর পিতা খুন বা গুম হয়ে গেছে। এখনও হয়ে চলেছে। সম্ভবত: সে কারনেই হিলারী ইলিয়াসকন্যার আবেদনে সৌজন্যতামূলক সায় দিয়ে দায় সেড়েছেন।
অন্তত: এই একটা ব্যপারেই জ্ঞানপাপীদের জ্ঞানচু খুলে যাওয়া উচিত যে, হিলারী ওবামাদের কাছে বাংলাদেশের মানবাধিকার মৌলিক অধিকার কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কারন আমেরিকা কেবলমাত্র নিজেদের মানবাধিকার ছাড়া দুনিয়ার আর কারও মৌলিক অধিকার মানবাধিকার নিয়ে কখনই মাথা ঘামায় না। অপরের মানবাধিকারের কোন মূল্য নেই তাদের কাছে। তৃতীয় বিশ্বের কোথাও মানবাধিকার মৌলিক অধিকার থাকলো কি গেলো তাতে তাদের কিছুই যায় আসেনা। এদের যা আছে তা হচ্ছে কিছু আপ্তবাক্য মুখের বুলি, সান্তনা আর নীতিকথা। তাই যদি না হতো সারা দুনিয়ায় নিজেরাই অন্যের মৌলিক অধিকার মানবাধিকারকে পদদলিত করে চলতো না। আফগানিস্তানে ইরাকে পাকিস্তানে নির্বিকারচিত্তে বেসামরিক জনগন হত্যা করতো না। তাই যদি না হতো আমাদের দেশের র্যাব বাহিনীকে নিজেদের দেশে নিয়ে গিয়ে বিশেষ ট্রেনিং দিতো না। আমেরিকা থেকে ট্রেনিং নিয়ে এসে এরা যখন গুম খুন গুপ্তহত্যা ক্রসফায়ারের নামে বিনা বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায় তার প্রতিবাদ করতো, র্যাব বাহিনীকে বিলুপ্ত করে দিতে বলতো, মৌলিক অধিকার মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত না হলে ক্রস ফায়ার বন্ধ না হলে সকল ধরনের সাহায্য সহযোগীতা বন্ধ এমনকি কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকী দিতো।
কাজেই বাংলাদেশের ব্যপারে ওবামা কি বললেন হিলারী কি জ্ঞান দিয়ে গেলেন স্টেট ডিপার্টমেন্ট কি রিপোর্ট প্রকাশ করলো সিনেটর কংগ্রেসম্যানরা কি বাণীবচন দিলেন তা নিয়ে রিসার্চ গবেষনা করে যারা আঙুলে দিন গুনতে থাকেন তাদের প্রতি করুণা প্রকাশ ছাড়া আর কি করা যেতে পারে! দণি পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের কাছে বাংলাদেশ কোন ফ্যাক্টরই না। দুই একটা বড় কাজের কন্ট্রাক্ট পাওয়া, হালে বঙ্গোপসাগরে তেল গ্যাস উত্তোলনের লাইসন্স আদায় করা ছাড়া বাংলাদেশের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ার কিছু নাই (সেগুলো ইতিমধ্যে নেয়া হয়ে গেছে)। বাকি যা আছে তা হচ্ছে লায়াবেলিটিজ। অথচ আমরা ‘ভৌগলিক অবস্থান’ ‘জিও পলিটিকাল সিচুয়েশন’ নানা তত্ব থিউড়ি হাজির করে নিজেদেরকে আমেরিকার জন্য ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উপস্থাপন করছি। যেন এ দেশটা নিয়ে নেয়া বা যা কিছু আছে আমাদের লুটেপুটে খাওয়া ছাড়া তাদের আর কাজ নাই!
বাস্তবতা যেটা, অতি অল্প সময়ের মধ্যে চায়না বিশ্বের অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসাবে এমার্জ করায় আমেরিকা নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে খানিকটা চিন্তিত। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আইএমএফের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী চায়না হচ্ছে বর্তমান বিশ্বে হাইয়েস্ট ফরেন কারেন্সি রিজার্ভের দেশ। প্রতিদিন এ রিজার্ভ বেড়ে চলেছে হু হু করে। গত অর্থবছর পর্যন্ত আমেরিকার ১৪.৩ ট্রিলিয়ন ডলার জাতীয় ঋণের ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারই ছিল চায়নার কাছে। চলতি বছরের ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত তা কমে দাঁড়িয়েছে ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের মত। চায়না হচ্ছে আমেরিকার সব চাইতে বড় বৈদেশিক ঋণদাতা দেশ। এরপরের দেশ জাপান (১.০৪ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং তারপর বৃটেন (ডিসেম্বর ২০১১ পর্যন্ত ৪১৪ বিলিয়ন ডলার)।
আমেরিকার ভয় এই অর্থনৈতিক পরাশক্তিটি না এক সময় সামরিক পরাশক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। দনি-পূর্ব এশিয়ায় চায়নার আধিপত্য রোধে আমেরিকা ভারতকে মিত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। চায়নার সাথে ভারতের পুরনো বিবাদ। ভারতও চীন-বৈরীতায় আমেরিকাকে স্যাঙাৎ হিসেবে পেয়ে আহাদিত। আমেরিকা চাইছে চায়নার পরিবর্তে ভারত এই অঞ্চলে সুপার পাওয়ার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হোক। ভারতকে দিয়ে চায়নাকে চাপে রাখতেই এই কৌশল। বাংলাদেশ পড়ে গেছে এই খেলায়। ভারতের দুই অংশের মাঝখানে এই ছোট্ট একটি ভুখন্ড যদি ভারত অবাধে ব্যবহার করতে না পারে চায়নার বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে দাঁড়ানো দু:সাধ্য। এই কারনেই বাংলাদেশ এখন ভারত এবং আমেরিকার কাছে খানিকটা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে এমন একটা সরকার তাদের দরকার যারা তাদের কথা শুনবে, বিনা বাক্যব্যয়ে হুকুম মেনে নেবে। এদের কাছে খালেদা হাসিনা বড় কথা নয়, বাংলাদেশের মানুষ কাকে সরকারে চাইলো না চাইলো তাতেও তাদের কিছু যায় আসেনা, কোন সরকারের জনপ্রিয়তা আছে নেই সেসবও বিবেচ্য নয়, যে তাদের কথা শুনবে বিনাবাক্যব্যয়ে কাজ করে দেবে সে হাসিনা হোক খালেদা হোক তাকেই এরা সরকারে দেখতে চাইবে। এটাই সোজা সাপটা হিসাব। এই অঞ্চলের ভু-রাজনীতি বলতে আমি এই হিসাবই বুঝি।
আমেরিকা-ভারত অশক্তির দুই মতাধর ব্যক্তি একই সাথে ঢাকায় রাত কাটিয়ে গেলেন। কার কানে কি মন্ত্রণা দিয়ে গেলেন কার দিকে কে কৃপাদৃষ্টি হেনে গেলেন তা এখনই বোঝা যাবেনা। তবে একটা ব্যপার পরিষ্কার, হিলারী প্রণব বাবু যেমন ইলিয়াস আলীকে ফেরত দিয়ে যেতে পারলেন না, দেশে আইনের শাষন গনতন্ত্র মানবাধিকার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারলেন না, নিদেনপে সরকারের মুখ থেকে এমন কথাও বের করাতে পারলেন না যে আমরা আর ক্রস ফায়ারের নামে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করবো না, ইলিয়াস আলীর মত আর কাউকে গুমের শিকাওে পরিনত করবো না-, তেমনি এ জাতির বাঁচা মরা নিয়েও তাদের কোন মাথাব্যথা নাই। বাংলাদেশের ভবিষ্যত রাজনীতি ভবিষ্যত সরকারের ব্যপারে তারা নিজেদের গেমই খেলবেন। অথচ দূর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের নেতা নেত্রীরা বিদেশী এই প্রভুত্ব মেনে নিয়ে এখন থেকেই ক্রেডেন্সিয়াল দরখাস্ত অঙ্গীকারনামা নিয়ে দৌড়ঝাঁপে মেতে উঠেছেন।
দেশটাকে যদি বিদেশী শক্তির চারনভূমি থেকে রা করতে হয়, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ধরে রাখতে হয়, আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করতে হয়- দাস মানসিকতা পরিত্যাগ করে জনগনের শক্তির ওপর ভরষা করতে হবে। হিলারী কিনটন প্রণব বাবুরা যেটা করবেন বা করতে পারবেন তা হচ্ছে ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্র শেষ মূহুর্তে কার জন্য মসনদ এনে দেবে তা বলার সময় এখনও আসেনি। তবে সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে জনগনের মতায়নের জন্য দেশবাসীর সচেতনতা আর ঐক্যের বিকল্প নাই।
কোন বিদেশী প্রভূ নয়, দূর্ভেদ্য গণ-ঐক্যই হচ্ছে আমাদের মত হতভাগা জাতির মর্যাদা সম্ভ্রম স্বাধীনতা সার্বভৌমতের¡ একমাত্র রাকবচ।
৭ মে ’১২
| < পূববর্তী | পরবর্তী > |
|---|
২৭তম ফোবানা সম্মেলন কোনভাবেই রাজনৈতিক নয়, প্রবাসীদের সর্বজনীন মিলন মেলা 17 মে 2013
প্রবাসের রাজনীতিতে বাঙালি 01 এপ্রিল 2013
নিউইয়র্কে জামায়াতের দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র 31 মার্চ 2013
শেষ পর্যন্ত নেত্রী নিজেই না তো-! : সাঈদ তারেক 29 মার্চ 2013
সৌদি সরকারের জিরো টলারেন্স, দিশেহারা লাখ লাখ প্রবাসী 29 মার্চ 2013
গার্বেজের ফ্যাসাদে হুমায়ূন পরিবার 29 মার্চ 2013
সাবধান, বিদেশি নোটে হাজারো ব্যাকটেরিয়া ! 28 মার্চ 2013
চাঁদের কলঙ্কের মতো হাতির ঝিলের বিষফোঁড়া - সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল 28 মার্চ 2013
বিষাদ ও বেদনার গ্লানিতে স্বাধীনতার মাস - এবিএম সালেহ উদ্দীন 25 মার্চ 2013
দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ কি ‘ইসলাম পন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ !’ - সাঈদ তারেক 19 মার্চ 2013