প্রবাসী লেখকদের কলাম
সাঈদ তারেক : নিউইয়র্ক থেকে : সুরঞ্জিত বাবুর কালো বিড়াল নিয়ে ঝড় থামতে না থামতেই ইলিয়াস গুমের ঘটনা রাজনীতিতে একেবারে ঘুর্ণিঝড় হয়ে এসেছে। এমন ঝড়- বিরোধী দল পরপর তিনদিন হরতাল ডেকে দিয়েছে।
আজ ছয় দিন হতে চললো নিখোঁজ ইলিয়াস আলী আর তার ড্রাইভারের কোন হদিস নাই। কোথায় হাওয়া হয়ে গেল জলজ্যান্ত দু’টি মানুষ! রাজপথ থেকে রাতের আঁধারে গায়েব। কারা নিয়ে গেল কোথায় নিয়ে গেল, লোকদু’টো বেঁচে আছে না মরে গেছে কেউই বলতে পারছে না। এমন করিৎকর্মা আমাদের পুলিশ দল এমন চৌকষ আমাদের গোয়েন্দা দল এমন র্যাপিড আমাদের র্যাব দল, সবাই ভেড়া বনে গেছে! এত খোঁজাখুজি চারদিকে, এত তল্লাশ এত অভিযান- সবই নিষ্ফল! ইলিয়াস আলীর কোন খোঁজ নাই। যে র্যাব পুলিশ এক শ’ হাত মাটির নীচ থেকে খতরনাক জেএমবি হুজি ধরে আনছে, দূর্দ্ধর্ষ সসন্ত্রাসীদেরকে ধরে ধরে ক্রসফায়ারে ফেলে দিচ্ছে, সন্দেহভাজন কাউকে পারলে মায়ের পেট থেকে টেনে বের করে আনছে তারা শুধু এখানে ওখানে বেহুদা ঢুঁ মেরে বেড়াচ্ছে। ইলিয়াস আলীকে খুঁজে পাচ্ছেনা! এবং পাবলিককে বলছে তা বিশ্বাষ করতে।
গুমের ঘটনা এই প্রথম নয়। দেশটা যেন এক ভয়াল মৃত্যুপুরী! প্রায়ই রাস্তাঘাট থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষ। বাসাবাড়ী থেকে কে বা কারা উঠিয়ে যাচ্ছে। কারও লাশ পাওয়া যাচ্ছে বাকিরা সবাই গায়েব। দিন গড়িয়ে মাস যায়, বছর গড়িয়ে বছর যায়, জানাও যায় না হতভাগ্যরা বেঁচে আছে না মরে গেছে। দিন কয়েকের মধ্যে ধামাচাপা পড়ে যায় কেস। কিন্তু অবাক করা ব্যপার, কোনদিন জানাও যায় না কারা ঘটিয়েছিল ওইসব গুমের ঘটনা। স্বজনেরা এখানে ওখানে খুঁজে মরে, এর ওর কাছে গিয়ে ধর্ণা দেয়, কিন্তু না পুলিশ না র্যাব কেউই বলতে পারেনা কিভাবে লোকগুলো গায়েব হয়ে গেল, কারা তাদেরকে গুম করলো। গত তিন বছরে এ ধরনের গুমের ঘটনা প্রায় এক শ’র মতো। একটিরও রহস্য উন্মোচন করা যায় নাই।
কোথায় আছি আমরা! এ কোন দেশ আমাদের! কোথায় সরকার! শুধু বক্তৃতার মঞ্চে খবরের কাগজ টেলিভিশনের পর্দা আর রাস্তায় বিরোধীদল পেটানোয়! ইলিয়াস আলী গায়েব হয়ে গেল ড্রাইভারসহ, সরকার গেয়ে চলেছে সেই পুরনো গীত। তাকে খুঁজে বের করার যে দাবী যে আন্দোলন তা নাকি যুদ্ধাপরাধি বিচার বাঞ্চালের ষড়যন্ত্র! এ দাবী সারা জাতির। হরতাল পালন করছে গোটা দেশবাসী। তাহলে কি সারা জাতিই যুদ্ধাপরাধি বিচার বাঞ্চালের ষড়যন্ত্র করছে! হাসবো না কাঁদবো! এ কোন মগের মুল্লুকে এসে পড়লাম! সাংবাদিক দম্পতি খুন হয়েছে বেডরুমে, প্রধানমন্ত্রী বললেন কারও বেডরুম পাহাড়া দেয়া সম্ভব না। ভাল কথা। কিন্তু ইলিয়াস আলী তো বেডরুম থেকে নিখোঁজ হন নাই, গুম হয়েছে রাজপথ থেকে। রাজপথেও মানুষকে নিরাপত্তা দেয়া যাবে না! বেডরুমে নিরাপত্তা দেয়া যাবে না রাজপথে দেয়া যাবে না তাহলে মানুষের নিরাপত্তাটা কোথায়? পাবলিকের দেয়া ট্যাক্সের পয়সায় এত এত বাহিনী পোষা হচ্ছে শুধু সরকারের লোকজনের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য?
ইলিয়াস আলীর অতীত নিয়ে বিতর্ক আছে। বিএনপি রাজনীতিতে উপদলীয় কোন্দলের সুবাদে তার প প্রতিপ আছে। স্থানীয় রাজনীতিতে তার জনপ্রিয়তা সাংগঠনিক দতা সরকারি দলের জন্য শীর:পীড়ার কারনও হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু কার কোন বাড়া ভাতে ইলিয়াস আলী ছাই দিয়েছিল যে তাকে একেবারে গায়েব করে দিতে হবে! সরকারের এজেন্সীগুলো বলছে তারা গুম করেনি। বিরোধী নেত্রী র্যাবের নাম উচ্চারণ করে বলেছেন তারাই উঠিয়ে নিয়ে গেছে। যে বা যারাই উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে থাকুক সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সেই নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা। এর মধ্যে ধুম্ করে প্রধানমন্ত্রী বলে বসলেন বেগম জিয়াই আন্দোলনের ইস্যু তৈরীর জন্য ইলিয়াস আলীকে উঠিয়ে নিয়ে লুকিয়ে রেখেছেন!
মানুষ স্তম্ভিত হয়ে গেল! বলে কি রে বাবা! এ কি কথা দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখে! কোথায় সরকারপ্রধান হয়ে অপহৃত সে যে-ই হোক খুঁজে বের করবেন উল্টো দায় চাপিয়ে দিলেন বিরোধী নেত্রীর ঘাড়ে! তার অর্থ আমার আর কিছু করার নাই! যদি বেগম জিয়াই ইলিয়াসকে লুকিয়ে রেখে থাকেন তাহলে তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরই উচিত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেই লুক্কায়িত স্থান থেকে তাকে বের করে এনে জাতির সামনে উপস্থাপন করা, নিজের দাবীর সত্যতা প্রমান করা। কই, পাঁচ দিন চলে গেল সরকার সে কাজটাও তো করতে পারলো না। তাহলে মানুষ কোনটা ধরে নেবে? গুমটা সরকারই করেছে? ফিরিয়ে দিতে পারছে না ধরা পড়ে যাবে বলে, চিরতরে গায়েব করে দিতে পারছে না বড় রকমের দোষের তলে পড়ে যাবে বলে!
তদন্তের যে ভাবগতিক তাতে মনে হয়না আসলেই ইলিয়াস আলীকে খোঁজা হচ্ছে। এটা হতে পারে তদন্তকারিরা জানে ইলিয়াস কোথায় আছে, অপোয় আছে পরবর্তী নির্দেশের। এর মধ্যে খবর রটেছে দশ শর্তে ইলিয়াস আলীকে ছেড়ে দিতে রাজী হয়েছে সরকার। পাঁচটি নাকি বিএনপি এবং ইলিয়াস আলীর জন্য মানা সম্ভব, আর পাঁচটি মানলে বিএনপি বা ইলিয়াস কারও রাজনীতি থাকেনা। বেগম খালেদা জিয়া নাকি ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে বলে দিয়েছেন যে কোন শর্তে হলেও আগে ইলিয়াস আলী ফিরে আসুক, বাকিটা পরে দেখা যাবে।
এ সবই গুজব। আজকের ঢাকার একটি দৈনিকে ব্যানার হেডিং করে এই দশ শর্তের কথা লেখা হয়েছে। বলা হয়েছে ইলিয়াস আলীকে ফেরত দেয়ার ব্যপারে বিএনপির সাথে সরকারের দরকাষাকষি চলছে। সমঝোতা হয়ে গেলে যে কোন সময়ে ইলিয়াস ফিরে আসবেন। এসব গুজবকে যদি সংবাদ হিসেবে ধরে নেই তাহলে প্রথম যে প্রশ্নটা উঠবে ইলিয়াস আলীকে তবে নিয়ে গেছে কারা? বেগম জিয়ার দাবী অনুযায়ী র্যাব? না প্রধানমন্ত্রীর দেয়া তথ্যমতে গুমের নাটক বেগম জিয়ার। বেগম জিয়াই যদি কাজটা করে থাকেন তাহলে মুক্তির জন্য শর্তের কথা আসবে কেন?
র্যাব বলছে তারা এ কাজ করেনি, বিএনপি বলছে প্রধানমন্ত্রী মিথ্যা বলেছেন অর্থাৎ বেগম জিয়া ইলিয়াসকে লুকিয়ে রাখেননি। যদি উভয়ের দাবী সত্য হয় তাহলে গুমটা করলো কারা? একটা লোক তো আপনা থেকেই হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে পারেনা! এখন যদি সরকার ইলিয়াসকে ফেরত দেয়ার ব্যপারে দশ শর্ত দিয়ে থাকে তাহলে তারা তাকে পেলো কোথায় বা এর মধ্যে কোন ধরনের শর্তের কথা আসবে কেন? ফেরত দেয়ার কথা বললে ধরে নিতে হবে ইলিয়াস আলী সরকারের কাছেই আছে। সরকারের কাছেই যদি আছে তাহলে এ ক’দিন অস্বীকার করা হলো কেন? র্যাব যদি না নিয়ে থাকে তাহলে কারা তাকে উঠিয়ে নিয়ে গেল!
কি যে লুকোচুরি খেলা হচ্ছে পর্দার অন্তরালে, কোন গেম চলছে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার না। এতে সন্দেহ নাই ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনার কারন রাজনৈতিক। সিলেট বিএনপির রাজনীতিতে বেশ আগে থেকেই ইলিয়াস একটা ফ্যাক্টর। অন্তর্দলীয় কোন্দলের কারনে দলের ভেতরেই তার প্রতিপ আছে। প্রতিপরে সাথে ইলিয়াসের জানবাজী বিরোধের কথাও সর্বজনবিদিত। তবে আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইলিয়াস অত বড় মাপের নেতা নন যে সরকার তাকে পথের কাঁটা মনে করে এখনই সড়িয়ে ফেলবে। সব কিছু মিলিয়ে দুইটি সম্ভাবনার কথা ধারনা করা যায়। এক: হাই কমান্ডের অগোচরে র্যাবের কোন ইউনিট বা গ্র“প কোন মহলের ভাড়াটিয়া হিসেবে কাজ করেছে। দুই: বিদেশী কোন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ইলিয়াসকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে।
পেশাদার কোন অপরাধিচক্র টাকা পয়সা বা গাড়ী মোবাইলের জন্য যে ইলিয়াসকে ড্রাইভারসহ ধরে নিয়ে যায় নাই এটা পরিষ্কার। সরকারের প থেকে যারা তদন্ত করছেন তারাও বলেছেন অপহরণকারীরা ছিল বিশেষভাবে ট্রেইন্ড এবং অর্গানাইজড্। এটা সাধারন অপরাধীদের কাজ নয়। ট্রেইন্ড এবং সংগঠিত এই অপহরণকারী দলটি কারা হতে পারে? নিশ্চিতভাবেই কোন প্রশিতি বাহিনীর সদস্য।
এখন যে প্রশ্নটা উঠতে পারে এরা দেশী না বিদেশী। বর্তমান সরকার মতায় আসার পর থেকে আমাদের দেশে বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ভীষণভাবে ক্রিয়াশীল। পাশের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা র-য়ের লোকজন ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে উলফার নেতা সংগঠকদেরকে ধরে নিয়ে গেছে বলে উলফার আটক লোকজনই সে দেশের মিডিয়াকে বলেছে। সন্দেহভাজন অনেক পাকিস্তানীকেও এরা উঠিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ইলিয়াস আলী সিলেটে রাজনীতি করেন, সাধারনভাবে ওই অঞ্চলকে আসামের বিদ্রোহীদের অভয়ারন্ন মনে করা হতো। কোন সূত্রে যদি উলফা-কুলফার সাথে ইলিয়াসের ন্যুনতম সম্পর্কের খবর থেকে থাকে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে কারও অনুমতির প্রয়োজন পড়বে না।
যদি এমনটি হয়ে থাকে ইলিয়াস আলীর ফিরে আসার চান্স নেই বললেই চলে। কিন্তু গতকাল থেকে ঢাকার বাজারে পাঁচ শর্ত দশ শর্তের গুজব চাউর হয়ে উঠলে এই সম্ভাবনাকে হালকা হিসেবে দেখা যেতে পারে। সে েেত্র দ্বিতীয় সম্ভাবনাটাই প্রবল হয়ে ওঠে। অর্থাৎ র্যাবেরই কোন দল বা গ্র“প হাই কমান্ডের অগোচরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কোন মহলের হয়ে ভাড়ায় খেটেছে। অসম্ভব কিছুই না। ক্রস ফায়ারের নামে বিনা বিচারে হত্যাকান্ড, ধরে নিয়ে গুম করে ফেলাসহ র্যাবের অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে ডাকাতি চাঁদাবাজী লুটপাট ছিনতাইয়ের অভিযোগ পুরনো। দুই দিন আগেও চট্টগ্রামে ইয়াবা ট্যাবলেটের ফাঁদ পেতে শিকার ধরতে গিয়ে নিজেরাই ধরা খেয়ে গেছে। এই বাহিনীর অনেক সদস্য টাকার বিনিময়ে ভাড়ায় খাটে বলেও অভিযোগ। ইলিয়াস আলীর েেত্রও এমনটি ঘটতে পারে। হতে পারে ঘটনাটা অল্প সময়ের মধ্যে জানাজানি হয়ে যাওয়ায় বা ওপর লেবেলে পৌঁছে যাওয়ায় হালাক করে দেয়া সম্ভব হয় নাই। আমরাও আশা করি, ইলিয়াস এখন পর্যন্ত বেঁচে আছে।
কিন্তু সন্দেহ জেগেছে তাকে শেষ পর্যন্ত ফেরত পাওয়া যাবে কিনা। আমি বিশ্বাষ করি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী আন্তরিকভাবেই বলেছিলেন তারা ইলিয়াসকে খুঁজে পেতে সবিশেষ চেষ্টা করবেন। কিন্তু ইলিয়াসকে সহি সালামতে ফেরত পাওয়ার পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ওই মন্তব্য। এখন ইলিয়াসকে ফেরত দিতে হলে এটা প্রমান করতে হবে যে বেগম জিয়ার নির্দেশ বা পরামর্শে ইলিয়াস নিজেই নিজের অপহরণের নাটক করেছিল, এ ক’দিন লুকিয়ে ছিল। ইলিয়াস যদি এমনিই ফিরে এসে আসল ঘটনা বর্ণনা করে তাহলে প্রধানমন্ত্রী ঝুট্ হয়ে যান। র্যাব পুলিশ এখন কোনটা করবে, শ্যাম রাখবে না কূল রাখবে! নেত্রীর ইজ্জত রাখবে না মনুষত্বের পরিচয় দিয়ে দেশ জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোয় আনবে!
ইলিয়াস আলীর ভাগ্যে কি আছে জানি না। যদি আসলেই এখন পর্যন্ত বেঁচে থাকে পাঁচ শর্ত দশ শর্ত মেনে স্বজনের কাছে ফিরে আসবে- না শেষ পর্যন্ত ‘রাণীর শীত নিবারণের প্রয়োজনে’ হালাক হয়ে যাবে বুঝতে পারছি না। যারা তাকে নিয়ে গেছে ও কাজটা করে ফেলা তাদের কাছে ওয়ান টু’র ব্যপার। এরপর আর কি! ইলিয়াসকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, কোশেস জারী আছে এবং অনন্তকাল ধরে তা জারী থাকলে হাইকোর্ট করে কি লাভ হবে! চৌধুরী আলম হারিয়ে গেছে, কত লোকই তো গায়েব হয়ে গেল, রাষ্ট্রের কি তাতে কিছু গেছে এসেছে! না আমাদের সরকার বাহাদুর কখনও কারও জন্য দু’ফোটা চোখের পানি ফেলেছে, এক বেলা ভাত কম খেয়েছে!
শুধু হরতাল ডেকে ইলিয়াসকে ফেরত আনা যাবে কিনা আমি সন্দিহান। পরপর দুই দিন, এটাই বেশী হয়ে গেছে। এরপর আবার দেয়া হয়েছে। মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে তা খেলো হয়ে যাবে। মানুষের কাজকর্ম আছে। না খেয়ে পেটে পাথর বেঁধে দিনের পর দিন ঘরে বসে থাকবে না। দ্বিতীয় দিনেই হরতাল ফিকে হয়ে এসেছে। এক সময় হরতালের কারনে বিরোধী দলের ওপরও মানুষ প্তি হয়ে উঠতে পারে। সেটা ক্যাশ করবে সরকার। এতে করে ইলিয়াস ইস্যু ভিন্ন দিকে মোড় নিয়ে নেবে। চিরতরে হারিয়ে যাবে ইলিয়াস।
তারও চেয়ে বড় কথা এরা স্বৈরাচার নয়- গনতন্ত্রাচার। এই আচার হরতাল ধর্মঘটকে ভয় পায়না। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে একমাত্র এরশাদ সাহেবই গনদাবী মেনে সরকার ছেড়ে চলে এসেছিলেন। গনদাবী মেনেছিলেন কারন এরশাদ ছিলেন স্বৈরাচার। গত বাইশ বছরের গনতন্ত্রাচারে কোন সরকার শত আন্দোলনের মুখেও মেয়াদের এক সেকেন্ড আগে বিদায় হয় নাই। লাইসেন্স আছে তাই এইসব গনতন্ত্রাচাররা দরকার হলে হাজার লোক মেরেও গদী ঠিক রাখে। লাগাতার হরতাল ডেকে সরকার ফেলে দেয়া যাবে এটাও মনে করার কোন কারন নাই। সরকারের মেয়াদ আছে আরো পৌনে দুই বছর। হাজার আন্দোলন করলেও মেয়াদের এক সেকেন্ড আগে এরা যাবেনা। ইলিয়াস আলীর ভাগ্য পুরোটাই নির্ভর করছে সরকার এবং বিরোধী উভয় মহলের সদিচ্ছার ওপর। যদি ইলিয়াস এখন পর্যন্ত জীবিত এবং সরকারের হেফাজতে থেকে থাকে তার মুক্তি নির্ভর করছে একমাত্র ন্যায়নীতি মনুষত্ব মানবিকতা বিবেকবোধের ওপর। আমার ভয়, উভয় পরে জেদ না অনন্তকালের জন্য ইলিয়াসের নিখোঁজ থেকে যাওয়ার কারন হয়ে দাঁড়ায়!
গতকাল একটি দৈনিকে জনাব শাহদীন মালিক একটি অসাধারন লেখা লিখেছেন। তার লেখা থেকে কিছুটা অংশ তুলে ধরে আজকের আলোচনা শেষ করছি। ‘বিএনপির নেতাদের স্মরণ করা উচিত যে, র্যাব শুরু করেছিলেন তারাই। আর আওয়ামী লীগের নেতাদের মনে রাখতে হবে যে ২০১৩ সালের পর তাঁদের মতায় না থাকার সম্ভাবনাই বেশী। তখন আপনাদের অনেকেই ইলিয়াস আলীর মতো হবেন সাবেক। আর এখনই ব্যবস্থা না নিলে র্যাব কিন্তু থাকবে। ততদিন থাকলে আরও অন্তত: শ’দুয়েক ক্রসফায়ার, গুম, গুপ্তহত্যার অভিজ্ঞতার ভান্ডার থাকবে র্যাবের ঝুলিতে।’
| < পূববর্তী | পরবর্তী > |
|---|
২৭তম ফোবানা সম্মেলন কোনভাবেই রাজনৈতিক নয়, প্রবাসীদের সর্বজনীন মিলন মেলা 17 মে 2013
প্রবাসের রাজনীতিতে বাঙালি 01 এপ্রিল 2013
নিউইয়র্কে জামায়াতের দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র 31 মার্চ 2013
শেষ পর্যন্ত নেত্রী নিজেই না তো-! : সাঈদ তারেক 29 মার্চ 2013
সৌদি সরকারের জিরো টলারেন্স, দিশেহারা লাখ লাখ প্রবাসী 29 মার্চ 2013
গার্বেজের ফ্যাসাদে হুমায়ূন পরিবার 29 মার্চ 2013
সাবধান, বিদেশি নোটে হাজারো ব্যাকটেরিয়া ! 28 মার্চ 2013
চাঁদের কলঙ্কের মতো হাতির ঝিলের বিষফোঁড়া - সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল 28 মার্চ 2013
বিষাদ ও বেদনার গ্লানিতে স্বাধীনতার মাস - এবিএম সালেহ উদ্দীন 25 মার্চ 2013
দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ কি ‘ইসলাম পন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ !’ - সাঈদ তারেক 19 মার্চ 2013